১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত দিবস: প্রথম মুক্ত জেলার গৌরবময় স্মৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদন:
আজ ৬ ডিসেম্বর, যশোর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে টানা তীব্র লড়াইয়ের পর যশোর শত্রুমুক্ত হয়। স্বাধীনতার সুবাতাস প্রথম যেসব জেলায় ছড়িয়ে পড়েছিল—যশোর ছিল তার অগ্রভাগে। এই দিনটিকে ঘিরে যশোরবাসীর মনে আজও দোলা দেয় গর্ব, আবেগ আর বেদনায় মেশা স্মৃতি।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধারা যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিতে থাকে। কয়েক দিনের চূড়ান্ত লড়াই, কৌশলগত হামলা ও অসীম সাহসের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। ভোরের আলো ফুটতেই একাত্তরের এই দিনে যশোরবাসী প্রথমবারের মতো দেখতে পায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

মুক্তিযুদ্ধে যশোর ছিল অন্যতম কৌশলগত এলাকা। এখানে বিমানবন্দর, সেনানিবাস ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল বলে পাকিস্তানি বাহিনী প্রবলভাবে প্রতিরোধ গড়তে চেয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও যৌথবাহিনীর শক্তিশালী আক্রমণের ফলে শেষ পর্যন্ত যশোর জয় করে স্বাধীনতার যোদ্ধারা।

আজকের দিনে সারা জেলা জুড়ে হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি—শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্পণ, আলোচনা সভা, বিজয় র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ সবাই আজ স্মরণ করছেন সেই গৌরবময় মুহূর্তকে। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণও লক্ষণীয়, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরও দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে সহায়তা করছে।

যশোরবাসীর মুখে আজও ধ্বনিত হয় সেই ঐতিহাসিক দিনের মন্ত্র—
“সবার আগে মুক্ত যশোর, সবার আগে স্বাধীন।”
একাত্তরের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটার সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতার মশাল নতুন করে জ্বলে ওঠে। শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিজয়ের মিছিল, উল্লাস আর মুক্তির অম্লান স্মৃতি।

আজকের যশোর মুক্ত দিবস শুধু ইতিহাসের একটি তারিখ নয়; এটি স্বাধীনতার চেতনাকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ। যশোরের মানুষ আজও গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে—দেশের প্রথম মুক্ত জেলার সম্মান তাদেরই।

Tag :
এখন আলোচনায়

শেরপুরে ১১ স্বপ্ন সারথী পেলেন ব্র্যাকের সেলাই মেশিন

৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত দিবস: প্রথম মুক্ত জেলার গৌরবময় স্মৃতি

আপডেট সময় : ০৯:১২:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদন:
আজ ৬ ডিসেম্বর, যশোর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে টানা তীব্র লড়াইয়ের পর যশোর শত্রুমুক্ত হয়। স্বাধীনতার সুবাতাস প্রথম যেসব জেলায় ছড়িয়ে পড়েছিল—যশোর ছিল তার অগ্রভাগে। এই দিনটিকে ঘিরে যশোরবাসীর মনে আজও দোলা দেয় গর্ব, আবেগ আর বেদনায় মেশা স্মৃতি।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধারা যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিতে থাকে। কয়েক দিনের চূড়ান্ত লড়াই, কৌশলগত হামলা ও অসীম সাহসের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। ভোরের আলো ফুটতেই একাত্তরের এই দিনে যশোরবাসী প্রথমবারের মতো দেখতে পায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

মুক্তিযুদ্ধে যশোর ছিল অন্যতম কৌশলগত এলাকা। এখানে বিমানবন্দর, সেনানিবাস ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল বলে পাকিস্তানি বাহিনী প্রবলভাবে প্রতিরোধ গড়তে চেয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও যৌথবাহিনীর শক্তিশালী আক্রমণের ফলে শেষ পর্যন্ত যশোর জয় করে স্বাধীনতার যোদ্ধারা।

আজকের দিনে সারা জেলা জুড়ে হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি—শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্পণ, আলোচনা সভা, বিজয় র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ সবাই আজ স্মরণ করছেন সেই গৌরবময় মুহূর্তকে। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণও লক্ষণীয়, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরও দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে সহায়তা করছে।

যশোরবাসীর মুখে আজও ধ্বনিত হয় সেই ঐতিহাসিক দিনের মন্ত্র—
“সবার আগে মুক্ত যশোর, সবার আগে স্বাধীন।”
একাত্তরের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটার সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতার মশাল নতুন করে জ্বলে ওঠে। শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিজয়ের মিছিল, উল্লাস আর মুক্তির অম্লান স্মৃতি।

আজকের যশোর মুক্ত দিবস শুধু ইতিহাসের একটি তারিখ নয়; এটি স্বাধীনতার চেতনাকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ। যশোরের মানুষ আজও গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে—দেশের প্রথম মুক্ত জেলার সম্মান তাদেরই।