০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার গৌরব: প্রথম বিজিবি অফিসার হিসেবে কমিশন পেলেন বেগমপুরের রাকিবুল ইসলাম

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

সীমান্ত জেলা চুয়াডাঙ্গার ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন গৌরবময় অধ্যায়। জেলার প্রথম সন্তান হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা (সহকারী পরিচালক) পদে কমিশন লাভ করেছেন মো. রাকিবুল ইসলাম। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের কৃতি সন্তান। তাঁর এই অনন্য অর্জনে সমগ্র চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে বইছে আনন্দ ও গৌরবের বন্যা।

সম্প্রতি বিজিবি ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (BGTC&C)-এ অত্যন্ত আনন্দঘন ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে একটি বর্ণাঢ্য ‘র‍্যাংক অ্যাডর্নিং’ (Rank Adorning) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মো. রাকিবুল ইসলামকে সহকারী পরিচালক (Assistant Director) পদের মর্যাদাপূর্ণ র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে বিজিবির ইতিহাসে প্রথম অফিসার হিসেবে কমিশনপ্রাপ্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

বিজিবির একজন দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে রাকিবুল ইসলামকে পার হতে হয়েছে এক দীর্ঘ ও কঠিন পথ। তিনি প্রায় এক বছরব্যাপী অত্যন্ত নিবিড় এবং কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এই দীর্ঘ প্রশিক্ষণ মেয়াদে তিনি কেবল বিজিবি ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজেই নয়, বরং দেশের সামরিক বাহিনীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (BMA)-তেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

কঠোর এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়েও তিনি তাঁর মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিজিবিতে অনুষ্ঠিত ‘Potential Assistant Director Course-8’-এ দেশজুড়ে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে তিনি অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। তাঁর এই অনন্য সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত মেধা, কঠোর অধ্যবসায়, নিয়মশৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্বেরই প্রমাণ দেয় না, বরং চুয়াডাঙ্গার তরুণ প্রজন্মের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

দীর্ঘ ও সফল প্রশিক্ষণ শেষে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন রাকিবুল ইসলাম। কমিশন লাভের পর তাঁর প্রথম কর্মস্থল হিসেবে সেক্টর হেডকোয়ার্টার্স (SHQ), ময়মনসিংহ-এ তাঁকে পদায়ন করা হয়েছে।

নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রাক্কালে এক প্রতিক্রিয়ায় মো. রাকিবুল ইসলাম জানান:
“দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার এই পবিত্র দায়িত্ব পেয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। দেশপ্রেম, সততা, কঠোর শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্বকে বুকে ধারণ করে আমি আমার অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই। দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

চুয়াডাঙ্গার বেগমপুর গ্রামের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে বিজিবির সর্বোচ্চ স্তরের কর্মকর্তা হওয়ার এই গৌরবময় অর্জনে আনন্দিত তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্রই তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার নাম উজ্জ্বল করায় চুয়াডাঙ্গার সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষ তাঁর এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন।

আগামী কর্মজীবনে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে এবং সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে মো. রাকিবুল ইসলাম তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং চুয়াডাঙ্গার সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়েছেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গার গৌরব: প্রথম বিজিবি অফিসার হিসেবে কমিশন পেলেন বেগমপুরের রাকিবুল ইসলাম

চুয়াডাঙ্গার গৌরব: প্রথম বিজিবি অফিসার হিসেবে কমিশন পেলেন বেগমপুরের রাকিবুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৭:১৭:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

সীমান্ত জেলা চুয়াডাঙ্গার ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন গৌরবময় অধ্যায়। জেলার প্রথম সন্তান হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা (সহকারী পরিচালক) পদে কমিশন লাভ করেছেন মো. রাকিবুল ইসলাম। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের কৃতি সন্তান। তাঁর এই অনন্য অর্জনে সমগ্র চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে বইছে আনন্দ ও গৌরবের বন্যা।

সম্প্রতি বিজিবি ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (BGTC&C)-এ অত্যন্ত আনন্দঘন ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে একটি বর্ণাঢ্য ‘র‍্যাংক অ্যাডর্নিং’ (Rank Adorning) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মো. রাকিবুল ইসলামকে সহকারী পরিচালক (Assistant Director) পদের মর্যাদাপূর্ণ র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে বিজিবির ইতিহাসে প্রথম অফিসার হিসেবে কমিশনপ্রাপ্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

বিজিবির একজন দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে রাকিবুল ইসলামকে পার হতে হয়েছে এক দীর্ঘ ও কঠিন পথ। তিনি প্রায় এক বছরব্যাপী অত্যন্ত নিবিড় এবং কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এই দীর্ঘ প্রশিক্ষণ মেয়াদে তিনি কেবল বিজিবি ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজেই নয়, বরং দেশের সামরিক বাহিনীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (BMA)-তেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

কঠোর এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়েও তিনি তাঁর মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিজিবিতে অনুষ্ঠিত ‘Potential Assistant Director Course-8’-এ দেশজুড়ে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে তিনি অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। তাঁর এই অনন্য সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত মেধা, কঠোর অধ্যবসায়, নিয়মশৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্বেরই প্রমাণ দেয় না, বরং চুয়াডাঙ্গার তরুণ প্রজন্মের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

দীর্ঘ ও সফল প্রশিক্ষণ শেষে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন রাকিবুল ইসলাম। কমিশন লাভের পর তাঁর প্রথম কর্মস্থল হিসেবে সেক্টর হেডকোয়ার্টার্স (SHQ), ময়মনসিংহ-এ তাঁকে পদায়ন করা হয়েছে।

নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রাক্কালে এক প্রতিক্রিয়ায় মো. রাকিবুল ইসলাম জানান:
“দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার এই পবিত্র দায়িত্ব পেয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। দেশপ্রেম, সততা, কঠোর শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্বকে বুকে ধারণ করে আমি আমার অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই। দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

চুয়াডাঙ্গার বেগমপুর গ্রামের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে বিজিবির সর্বোচ্চ স্তরের কর্মকর্তা হওয়ার এই গৌরবময় অর্জনে আনন্দিত তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্রই তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার নাম উজ্জ্বল করায় চুয়াডাঙ্গার সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষ তাঁর এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন।

আগামী কর্মজীবনে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে এবং সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে মো. রাকিবুল ইসলাম তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং চুয়াডাঙ্গার সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়েছেন।