০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা, ইরান এখন কী করবে

লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এই সিদ্ধান্তের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ সামনে আসছে।

ইরান সর্বশেষ স্পষ্ট করে বলেছে, লেবানন ও গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা পুনরায় শুরু হবে না।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে তা অঞ্চলের বাইরে আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং প্রতিপক্ষকে ‘চরম ধ্বংসাত্মক জবাব’ দেয়া হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সতর্ক করে বলেছিলেন, ভবিষ্যৎ প্রতিশোধে একাধিক চমক থাকতে পারে এবং সামরিক বাহিনী নতুন ফ্রন্ট ও নতুন অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে।

লেবানন থেকে ইসরাইলে প্রজেক্টাইল হামলা

যুদ্ধ আবার শুরু হলে ইরান সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের বদলে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নিতে পারে। ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালি অচল করার চেষ্টা হতে পারে।

২০২৩ সালে বিশ্ব সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ১০ শতাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়ে গেছে। ২০২৪ সালে হুথিদের হামলার পর এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যায়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়ে।

জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ উমুদ শোকরি বলেন, হরমুজ ও বাব আল-মান্দে ব— দুটি রুট একসঙ্গে অস্থিতিশীল হলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম, পরিবহন খরচ ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাব আল-মান্দেব পুরোপুরি বন্ধ করা ইরানের জন্য তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে এবং এতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও বেশি।

তেল স্থাপনা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে হামলার শঙ্কা

নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানতে পারে।

এনিয়ে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আহমাদ বাকশায়েশ আরদেস্তানি বলেন, যদি ইরানের তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়, তাহলে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল কূপেও হামলা চালানো হতে পারে।

ইউরোপ ও দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তু

ইরান অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক ঘাঁটি ও আঞ্চলিক স্থাপনায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা দেখিয়েছে। সম্ভাব্য বড় সংঘাত হলে ইউরোপের কিছু মার্কিন ও ন্যাটো ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব হুমকির অনেকটাই রাজনৈতিক বার্তা এবং বাস্তবে এগুলো বাস্তবায়ন করা ইরানের জন্য অত্যন্ত উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা যত বাড়ছে, কূটনৈতিক সমাধানের পথ ততই জটিল হয়ে পড়ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

Tag :
এখন আলোচনায়

শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে আমির হামজার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ

আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা, ইরান এখন কী করবে

আপডেট সময় : ১১:৫৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এই সিদ্ধান্তের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ সামনে আসছে।

ইরান সর্বশেষ স্পষ্ট করে বলেছে, লেবানন ও গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা পুনরায় শুরু হবে না।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে তা অঞ্চলের বাইরে আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং প্রতিপক্ষকে ‘চরম ধ্বংসাত্মক জবাব’ দেয়া হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সতর্ক করে বলেছিলেন, ভবিষ্যৎ প্রতিশোধে একাধিক চমক থাকতে পারে এবং সামরিক বাহিনী নতুন ফ্রন্ট ও নতুন অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে।

লেবানন থেকে ইসরাইলে প্রজেক্টাইল হামলা

যুদ্ধ আবার শুরু হলে ইরান সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের বদলে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নিতে পারে। ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালি অচল করার চেষ্টা হতে পারে।

২০২৩ সালে বিশ্ব সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ১০ শতাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়ে গেছে। ২০২৪ সালে হুথিদের হামলার পর এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যায়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়ে।

জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ উমুদ শোকরি বলেন, হরমুজ ও বাব আল-মান্দে ব— দুটি রুট একসঙ্গে অস্থিতিশীল হলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম, পরিবহন খরচ ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাব আল-মান্দেব পুরোপুরি বন্ধ করা ইরানের জন্য তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে এবং এতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও বেশি।

তেল স্থাপনা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে হামলার শঙ্কা

নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানতে পারে।

এনিয়ে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আহমাদ বাকশায়েশ আরদেস্তানি বলেন, যদি ইরানের তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়, তাহলে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল কূপেও হামলা চালানো হতে পারে।

ইউরোপ ও দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তু

ইরান অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক ঘাঁটি ও আঞ্চলিক স্থাপনায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা দেখিয়েছে। সম্ভাব্য বড় সংঘাত হলে ইউরোপের কিছু মার্কিন ও ন্যাটো ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব হুমকির অনেকটাই রাজনৈতিক বার্তা এবং বাস্তবে এগুলো বাস্তবায়ন করা ইরানের জন্য অত্যন্ত উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা যত বাড়ছে, কূটনৈতিক সমাধানের পথ ততই জটিল হয়ে পড়ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।