লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র চলমান মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য, জিরা, চিনি, প্যান্ট পিছ ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির ৪টি বিশেষ টহলদল পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মাদকদ্রব্য, জিরা, চিনি, প্যান্ট পিছ ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, চোরাকারবারীরা ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ২টা ৩০মিনিটে অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার নাগরাজ, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৮টা ২০মিনিটে ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার উত্তর ঝাউরানী, রাত ২২টা ৪৫মিনিটে বালারহাট বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার বালাতারী, সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ৩টা ৪০মিনিটে মোগলহাট বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর থানার কর্ণপুর নামক স্থানে ৪টি বিশেষ টহল পরিচালনার সময় কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ফেয়ারডিল সিরাপ ৫০টি বোতল, ইস্কাফ সিরাপ ৪৭টি বোতল, জিরা ১শত ৩কেজি, চিনি ১শত ৩০কেজি, প্যান্টের কাপড় ৭০টি পিছ এবং বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় জিরা ১শত ৩কেজি, যার সিজার মূল্য ১লক্ষ ৩হাজার টাকা, চিনি ১শত ৩০কেজি, যার সিজার মূল্য ১৯হাজার ৫শত টাকা, বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী, যার সিজার মূল্য ৮২হাজার ৯শত ৩০টাকা, প্রান্ট পিছ ৭০টি পিছ, যার সিজার মূল্য ২লক্ষ ১০হাজার টাকা এবং ফেয়ারডিল সিরাপ ৫০টি বোতল, যার সিজার মূল্য ২০হাজার টাকা, ইস্কাফ সিরাপ ৪৭টি বোতল, যার সিজার মূল্য ১৮হাজার ৮শত টাকাসহ সর্বমোট সিজার ৪লক্ষ ৫৪হাজার ২শত ৩০টাকা। এছাড়াও উপরোক্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের পরিচয় শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সব সময় আপসহীন। চোরাচালান মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।