মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা শহরকে একটি আধুনিক, তিলোত্তমা ও স্বাস্থ্যসম্মত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী এক বিশাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
পৌরসভার সার্বিক সহযোগিতায় এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পুরো চুয়াডাঙ্গা শহরকে ১২টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রধান প্রধান সড়ক, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং অলিগলিতে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণে নেমে পড়েন কয়েক হাজার মানুষ।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করেন- মাসুদ পারভেজ রাসেল, সংসদ সদস্য (চুয়াডাঙ্গা-১)।
মোহাম্মদ কামাল হোসেন, জেলা প্রশাসক। মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, পুলিশ সুপার।শরিফুজ্জামান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি।
ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সিভিল সার্জন।
এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা এই কর্মযজ্ঞে অংশ নেন।
কেবল ঝাড়ু দেওয়া বা বর্জ্য অপসারণই নয়, এই কর্মসূচির ব্যাপ্তি ছিল আরও বিশাল:
ড্রেন পরিষ্কার: শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে ড্রেনের ভেতরে জমে থাকা প্লাস্টিক ও পলিথিন অপসারণ।
অবৈধ দখল উচ্ছেদ: ফুটপাত দখল করে রাখা বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করা।
সচেতনতা বৃদ্ধি: যত্রতত্র ময়লা না ফেলে ডাস্টবিন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে লিফলেট বিতরণ ও পথসভা।
মডেল শহর গড়া: চুয়াডাঙ্গাকে দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে পরিচিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ।
"আমাদের শহর আমাদেরই পরিষ্কার রাখতে হবে। স্বাধীনতা দিবসের এই পবিত্র ক্ষণে চুয়াডাঙ্গাকে একটি দূষণমুক্ত মডেল শহর হিসেবে উপহার দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।" — জেলা প্রশাসক, চুয়াডাঙ্গা।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই কার্যক্রম যেন একদিনের জন্য সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা হবে।
পরিবেশ দূষণ রোধে এবং সুন্দর চুয়াডাঙ্গা গড়ার লড়াইয়ে সকল নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।