রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:০৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
গাংনীর কল্যাণপুরে সংঘর্ষে ১০ জন আহত চুয়াডাঙ্গায় হাত-মুখ বাঁধা বয়স্ক স্বামী-স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে মিনা দিবস উদযাপন ‘যাও পাখি বলো তারে’ সিনেমার টাইটেল গান প্রকাশ (ভিডিও) রিমোট দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে জীবন্ত তেলাপোকা! নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের দাবি বিজ্ঞানীদের ছাপা কাগজে খাবার পরিবেশন বন্ধের নির্দেশ বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সেনাদের গুলি বিনিময় সরকারের পতন ঘটিয়ে শাওন হত্যার জবাব দিব: মির্জা ফখরুল মদপান স্বাস্থ্যের জন্য ভাল, মন্তব্য ভারতের সুপ্রিম কোর্টের! আগামীকাল শনিবার মীনা দিবস, দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি

গো-খাদ্যের সংকটে বেড়েছে দুধের দাম

আত্রাই, নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর আত্রাইয়ে গরুর খাবার খড় এখন প্রতি আটি ৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গো-খাদ্যের চরম সংকট ও খড়ের দাম বাড়ার সাথে সাথে দুধের দামও বেড়েছে। ফলে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে দুধ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষরা। অনেক পরিবারেই শিশুদের পুষ্টির জন্য প্রক্রিয়াজাত দুধ না কিনে এলাকা থেকে গরুর দুধ কিনেন। বাড়তি দামের কারণে দিশেহারা তারা। এছাড়াও বর্তমানে ধানি জমিতে পুকুর খননের মহা-উৎসব শুরু হওয়ায় এমনটি হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে একশ আটি খড় ৮ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দুধের দাম বেড়েছে। কয়েকমাস আগেও যে দুধের দাম ছিল প্রতি কেজি ৫৫-৬০ টাকা। সেই দুধ এখন কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা দরে।
গো-খাদ্য ও দুধ বিক্রেতারা জানান, আগের দিনে ধান কাটার পরে মাঠে পরিত্যক্ত খড় তুলে নিয়ে বাড়িতে রাখতেন কৃষকরা। পরে সেই খড় গরু দিয়ে মাড়াই করে পালা দিয়ে রাখতেন। পরে সেই খড় গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত খড় বিক্রয় করতেন। সেই খড়ের সাথে অন্যান্য খাদ্য মিশিয়ে গরুকে খাওয়ানো হতো। বর্তমানে যান্ত্রিক মেশিন দিয়ে ধান কাটার পর ধানের ক্ষেতে যে অবশিষ্ট খড় পড়ে থাকে তা মাঠে পুড়িয়ে ফেলতেন কৃষকেরা। যার ফলে এখন আর চাইলেই মিলছেনা খড়। এছাড়া আগের দিনে আমন ধান অগ্রহায়ণ মাসে শুকনো মৌসুমে কাটার ধুম পড়ে যেতো। যাতে ধানের খড় ইচ্ছামতো চাষীরা কষকেরা গরু দিয়ে মাড়াই করে বড় বড় খড়ের পালা দিয়ে রাখত। প্রায় প্রতি বাড়িতেই তখন গরুর খাবার খড়ের কোনো অভাব দেখা যেত না। কৃষকেরা ইচ্ছেমতো ধান লম্বা করে কেটে নিয়ে বাড়িতে আসত। কিন্তু এখন আর আমন ধানের আবাদ হয়না বললেই চলে। বর্তমানে ইরি-বোরো ধান করায় এবং বর্ষা মৌসুমে ধান কাটার ফলে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় ইরি-বোরো ধানের গোড়াতে কাটার সম্ভব হয় না। শুধু ধানের শীষটুকু কেটে আনতে দেখা যায় কৃষকদের। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে ধান কাটার ভরা মৌসুম হওয়ায় কৃষকরা ধান কাটা মারা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করায় খড়ের প্রতি নজর দিতে পারেননা। সেইজন্য পরবর্তীতে খড়ের আকাল দেখা দেয়। বর্তমানে গো-খাদ্যের সংকট সারা উপজেলা ব্যাপি বিরাজ করছে।
উপজেলার মিরাপুর গ্রামের খড় ব্যবসায়ী শহিদুল বলেন, আমি গত আমন মৌসুমে ১ শত আটি খড় বিক্রি করেছি ৪শত থেকে ৫ শত টাকায়। সেই খড় বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮ শত টাকায়।
সাহেবগঞ্জ গ্রামের একজন দুধ বিক্রেতা জানান, আগে প্রতি কেজি দুধ বিক্রি হতো ৫৫-৬০ টাকায়। সেই দুধ এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা দামে। গো-খাদ্যের দাম যোগানোর পর এখন সামান্য লাভেই দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। তার মতে, এভাবেই পরিস্থিতি চলতে থাকলেই আগামিতে দুধের দাম আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।
সাহেবগঞ্জ বাজারের চা ব্যবসায়ী জীবন হোসেন বলেন, যদি গো-খাদ্যের সংকট অব্যাহত থাকে তাহলে দুধ উৎপাদনের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কর্মকর্তা মো. আব্দুল আজিজ বলেন, বন্যা জনিত কারণে ও আমন ধান না হওয়ায় গো-খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। যার জন্য দুধ উৎপাদনে এর প্রভাব পড়েছে। সে ক্ষেত্রে বেশি দামে গো-খাদ্য কিনতে হচ্ছে গরুর মালিকদের। এর পরও গো-খাদ্যের দামের তুলনায় দুধের দাম বৃদ্ধি করেনি গোয়ালারা।

রুহুল আমিন/এ.এইচ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com