সানজিদা খাতুন:
দামুড়হুদা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কে এইচ তাসফিকুর রহমানকে বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।গত ৮ ডিসেম্বর তার বদলির আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে নড়াইলের সদর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে আজ(১৪ ডিসেম্বর)বিকাল ৫ টায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জামান পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক মুরশেদ বীন ফয়সাল এর নেতৃত্বে ক্লাবের নেতৃবৃন্দ সহকারী কমিশনার (ভুমি) কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাকে সম্মাননা স্মারক উপহার প্রদান করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,দামুড়হুদা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান কাজল,প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ,সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান তোতা,নির্বাহী সদস্য তাসির আহমেদ, হাবিবুর রহমান হবি,মেহেদী হাসান মিলন, আরিফুল ইসলাম মিলন,সদস্য শেখ হাতেম, আব্দুল খালেক,জহুরুল ইসলাম প্রমুখ।
উপস্থিত সাংবাদিকরা এসিল্যান্ডের কর্মজীবনের প্রশংসা করে বলেন,সরকারের জনবান্ধব কর্মকর্তা কাকে বলে,একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা জনগণের কিভাবে সেবা প্রদান করেন তা স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি প্রমাণ করেছেন। তিনি অত্র কার্যালয়ে যোগদানের পর নিজের দপ্তরকে গড়ে তুলেছেন জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে।সর্বোপরি,আমরা এমন এক কর্মকর্তাকে হারাতে চলেছি,যিনি ছিলেন ভূমি সেবা ও উন্নয়নে উপজেলা বাসির জন্য আশীর্বাদ।এমন একজন কর্মকর্তা চলে যাওয়ার যে শূন্যতা তা সহজে পূরণ হবার নয়।আমরা তার সার্বিক মঙ্গল উন্নতি কামনা করি।
সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তিনি মাত্র ১ বছর ৫ মাসে প্রায় ২০ হাজার নামজারি,৭৫০ টি মিসকিস নিষ্পত্তি,খাস জমি উদ্ধার, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা সহ সরকারি নির্দেশনায় জনকল্যাণে আন্তরিকতার সহিত ভাবে কাজ করে এসেছেন।একই সাথে কে এইচ তাসফিকুর রহমান দর্শনা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সৎ, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।একই সাথে দর্শনা পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকাল নাগরিকসভার নিশ্চিত করতে তিনি ছিলেন বিশেষভাবে সক্রিয়।নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সহ সকল সেবা হয়রানি ছাড়াই নাগরিকদের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পর পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে আন্তরিকতার সাথে পৌরবাসী সহ পৌর কর্মকর্তা কর্মচারীদের উন্নয়ন ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন।
বিদায়ী এসিল্যান্ড সকল সংবাদ কর্মীদের সফলতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, এ উপজেলার মানুষ অনেক আন্তরিক,অতিথি পরায়ণ।সাংবাদিক,রাজনৈতিক সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি।আমি দামুড়হুদায় যোগদানের পরবর্তী সময় থেকে চেষ্টা করেছি সরকারের সকল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে,হয়রানি ছাড়া ভূমি সেবা প্রদানের জন্য। সরকারের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে হয়তো সবসময় প্রত্যাশমতো সেবা দিতে পারেনি,তবে কোন ধরনের কখনো গাফিলতি করেনি।এসিল্যান্ড ও পৌর প্রশাসক হিসেবে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এসিল্যান্ড ও পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকালীন সময় যদি কারো মনে কোন কষ্ট দিয়ে থাকি, ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।ভালো থাকুন উপজেলা মানুষ।