
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সোমবার (০১ ডিসেম্বর ২০২৫) এক বিশাল কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বোরো হাইব্রিড, বোরো উফশী ধান বীজ এবং রাসায়নিক সার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এই কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচিটি আগামী ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের রবি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এবারের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো এবং একই সাথে ফসলের ফলন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা। কৃষকদের হাতে সময়মতো উন্নত জাতের বীজ ও প্রয়োজনীয় সার পৌঁছে দেওয়ায় তারা সঠিক সময়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আল আমীন। তিনি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, “দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের এই প্রণোদনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উন্নত বীজ ও সারের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের কৃষকরা যেন দ্বিগুণ ফসল ফলাতে পারেন, সেই বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
ইউএনও আরও বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এ ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দজাদী মাহাবুবা মঞ্জুর মৌনা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার জুয়েল শেখ, পল্লী উন্নয়ন অফিসার জামিল আক্তার, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন মোড়ল, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. পারভেল রানা সহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বীরেন্দ্র, শাহআলম, দেলোয়ার হোসেন, শিমুল পারভেজ। স্থানীয় কৃষকবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার মোট ৮৪০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এই প্রণোদনার আওতায় এসেছেন।
বোরো উফশী ধান বীজ: ৬৪০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের প্রত্যেককে এক বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি করে বোরো উফশী ধান বীজ দেওয়া হয়। এই কৃষকদের প্রত্যেককে অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে।
বোরো হাইব্রিড ধান বীজ: আরও ২০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিঘা প্রতি ২ কেজি করে বোরো হাইব্রিড ধান বীজ বিতরণ করা হয়।
বিতরণের পাশাপাশি কৃষকদের বীজ ও রাসায়নিক সারের সঠিক মিশ্রণ ও পরিমিত ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত পরামর্শ দেওয়া হয়। কৃষি কর্মকর্তারা বোরো ধান চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতি এবং বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার জন্য কার্যকর বালাই-ব্যবস্থাপনা নিয়ে কৃষকদের বিস্তারিত অবহিত করেন।কর্মসূচি শেষে কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবে এবং বোরো মৌসুমে সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।
মোঃ নাঈম উদ্দীন স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা। 
























