
দামুড়হুদায় দায়সারা ভাবে জাতীয় প্রাণিসম্পদ মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি—প্রাণিসম্পদ হবে উন্নতি’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী মেলার আয়োজন হলেও এতে ছিল নানা অনিয়ম ও অগোছালো অবস্থা। সরকারের মূল লক্ষ্য উদ্যোক্তা ও খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হলেও উপজেলার প্রকৃত ও বড় খামারিদের বেশিরভাগই মেলা সম্পর্কে অবগতই নন।
তবে সেখানে খামারি কিংবা উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম ছিলো। মেলার স্টলের বেশিরভাগই ফাঁকা ছিল, আর গুটিকয়েক স্টলে প্রদর্শিত হয়েছে রুগ্ন পশু-পাখি—যা নিয়ে উপস্থিত অতিথি ও স্থানীয়দের মুখে শোনা গেছে নানা সমালোচনা। একাধিক স্টল তো সম্পূর্ণ শূন্যই পড়ে ছিল। এ নিয়েও নানা সমালোচনা করতে শোনা গেছে স্থানীয়সহ অতিথিদের মুখ থেকে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বেলা বেলা ১১টায় প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল দামুড়হুদার বাস্তবায়নে ও প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রাণিসম্পদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মেলার আলোচনা সভা।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্রের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ডা. আ .হা. ম শামীমুজ্জামান। এ সময় তিনি বলেন, প্রাণি সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। পুষ্টি ও দরিদ্র বিমোচনে সর্বোপরি গ্রামীণ জীবিকায় এ খাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।
দামুড়হুদা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কে এইচ তাসফিকুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিআরডিবি কর্মকর্তা লুৎফর নাহার, সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক মহালদার, আইসিটি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রাণিসম্পদের প্রদর্শনী দেখতে আশা অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান,সত্যিকার অর্থে প্রাণিসম্পদ খাত কে উন্নত করতে হলে তৃণমূল প্রান্তিক পর্যায়ের সর্বশ্রেনীর খামারিদের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত।এদের অনেকের দাবি,বছরে দুই একবার শুধু প্রাণিসম্পদ মেলায় মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।তাও প্রকৃত, অ স্ব সচল খামারীদের মূল্যয়ন করা হয় না।
দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের এক ভেড়া খামারী জানান, বিগত ৮/১০ বছর ধরে আমি ভেড়া পালন করে আসছি। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ৫০টি বিভিন্ন জাতের ভেড়া রয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকারি প্রাণিসম্পদের কোন সেবা আমি পায়নি। ছাগল ভেড়ার মারাত্মক রোগ পি পি আর সহ বিভিন্ন রকমের রোগের টিকা গুলো আমরা বাইরে থেকে নিজ খরচে সংগ্রহ করে থাকি। কোন টিকা কেউ দেয়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সেবা আমি পেলাম না, আর মেলা হলেও জানতে পারি না।
হাউলী ইউনিয়নের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনকারী এক নারী খামারী বলেন, প্রাণিসম্পদ কি? তারা কি করে, আমি তো জানি না। ব্যক্তি মালিকানায় যদি উপজেলায় কোন ব্লাক বেঙ্গল ছাগল কেউ পালন করে থাকে তাহলে সে আমি। আমার বাড়িতে প্রায় ২৮ টি ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল রয়েছে। কিন্তু কেউ কোনদিন খোঁজ নেয়নি। ছাগলের পিপিয়ারের টিকা আমি বাইরে থেকে টাকা দিয়ে সংগ্রহ করে দিয়ে থাকি। আজ ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ছাগল পালন করে আসছি, কিন্তু কেউ কোনদিন এবং সরকারের কোন সেবা আমি এখন পর্যন্ত পাইনি।
দামুড়হুদা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুরশেদ বিন ফয়সাল বলেন, যতদূর জানি, সরকারের এ জাতীয় মেলার উদ্দেশ্য সর্বস্তরের জনগণকে অবহিত করা। সরকারের প্রতিটি খাতকে বৃহত্তর উন্নত করণের স্বার্থে প্রয়োজন প্রচারণা ও সমন্বিত উদ্যোগ। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য,এ মেলা সম্পর্কে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা অবগত নন পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও জানানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য, প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষ যাতে উন্নত প্রজাতির গৃহপালিত পশু পাখি লালন-পালনে উদ্বুদ্ধ হয় এবং এর সুফল উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের মাঝে পৌঁছে যায়। তবে এক্ষেত্রে দামুড়হুদাতে তার ব্যতিক্রম অনুষ্ঠান করেছে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, আমাকে শুধু মাত্র অনুষ্ঠানের সভাপতি করা হয়েছে। এর বাইরে আর কিছু আমার জানা নেই।