
চুয়াডাঙ্গায় কাস্টমস কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে মেসার্স বঙ্গ পিভিসি পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিক-কর্মচারীরা সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করেছে এবং প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মাবকলিপি দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ বিক্ষোভ করে তারা।
কাস্টমস কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে না পেয়ে মেসার্স বঙ্গ পিভিসি পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজের মালিককে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুয়াডাঙ্গার মেসার্স বঙ্গ পিভিসি পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যালয়ে গত সোমবার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মালিক তার কারখানাটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে ওই কারখানার শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট যশোরের অতিরিক্ত কমিশনার রাকিবুল হাসান ও তার সহযোগী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেনের শাস্তি, কাস্টমস কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি চালুর দাবিতে শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তারা আন্দোলনে নেমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা এসব দাবিতে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর তারা স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছেন।
তবে মেসার্স বঙ্গ পিভিসি পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকের কাছে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি ও তাঁকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বৃহস্পতিবার রাতে অতিরিক্ত কমিশনার রাকিবুল হাসান বলেন, ‘শিল্পপ্রতিষ্ঠানটিতে সরেজমিন গিয়ে আর্থিক অনিয়ম পাওয়া যায়, যা নিয়ে বৃহস্পতিবার ভ্যাট আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। সেখানে বাগ্বিতণ্ডা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান। এই সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক-কর্মচারী প্রতিনিধি আমিনুর ইসলাম ও টিপু সুলতান।
সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত কমিশনার রাকিবুল হাসান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেনসহ ১২ সদস্যের একটি প্রিভেনটিভ দল ওই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আসেন। তল্লাশির নামে তারা ডাকাতের মতো আচরণ করেন এবং সেলিম আহমেদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দাবি করেন। একপর্যায়ে অতিরিক্ত কমিশনার রাকিবুল হাসান সেলিম আহমেদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে (সেলিম আহমেদ) জোরপূর্বক অফিস কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে মূল্যবান কাগজপত্র তছনছ করেন। এ কারণে মালিকপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিককে হয়রানি বন্ধসহ বঙ্গ পিভিসি পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজ চালুর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ কঠোর আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে মেসার্স বঙ্গ পিভিসি পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, ‘অতিরিক্ত কমিশনার রাকিবুল হাসান অফিসে ঢুকে প্রথমে বলেন যে অনেক তো লাভ করছেন। এরপর সরাসরি তিনি আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং নিজেই জানিয়ে দেন যে ৩০ লাখের নিচে হবে না। এ ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি গালাগালি করে আমার শার্টের কলার টেনে ধরেন এবং আমাকে আমার অফিসকক্ষ থেকে বের করে দেন। তাই আমি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নিজের টাকা দিয়ে ব্যবসা করে হয়রানির শিকার হওয়ার দরকার নেই। এ কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছি।’