
জীবননগরে কারফিউ ভেঙে সকাল থেকে ছাত্র জনতা রাস্তায় নেমে আসে।ছাত্র জনতার পাশাপাশি আন্দোলনে যোগ দেয় বিএনপি, জামায়াত ও তাদের অঙ্গ- সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মী।বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগঠনের কর্মীরা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্হান নেয়। বিক্ষুদ্ধ কর্মীরা শহরে মিছিল বের করলে সাথে যোগ দেয় ব্যবসায়ীরা। দুপুরের পর শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে আবারও রাস্তায় নেমে মিছিল কারীরা। এসময় ভাংচুর করা হয় আওমীলীগ নেতা-কর্মিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর। সোমবার সকাল থেকে রাত অবধি উপজেলার সর্বত্র আতংক বিরাজ করে।নিরাপত্তাহীনতা ভোগে সাধারণ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার বেলা ১০টার দিকে জীবননগর হাসপাতাল গেটে অবস্থান নেয় ছাত্র-জনতা। পাশাপাশি জীবননগর তরফদার মার্কেটে অবস্থান নেয়া ব্যবসায়ীরা মিছিল নিয়ে যোগ দেন হাসপাতাল গেটে অবস্হান নেয়া ছাত্র জনতার সাথে। এরপর বিক্ষুদ্ধ মিছিলটি থানা গেটে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর আবার বাসস্ট্যান্ড চত্বরে পৌঁছায়।
এ সময় জীবননগর বাসস্ট্যান্ডে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্যের নামে নির্মাণাধীন শোক দিবসের তিনটি তোরণ ভাঙচুর করেন তারা। ঘটনাস্থলের কিছুটা দুরে পুলিশের অবস্থান থাকলেও তারা নিরব ছিল। এদিকে সকালের দিকে জীবননগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করতে গেলে বিক্ষদ্ধ জনতার রোষানলে পড়েন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ। পরে দ্রুত গাড়ি নিয়ে চলে যান তিনি। দুপুরে আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন।
এদিকে দুপুরের পর শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে আবারও রাস্তায় মিছিল নামে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মি। মূর্হমূর্হ বিস্ফোরণ ও দোকান পাঠ, বাড়িঘর ভাংচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। বিক্ষুদ্ধরা পৌর যুবলীগের সভাপতি শাহ আলম শরিফুল ইসলাম ছোটবাবুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, কেডিকে ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুল বাসার শিপলুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দীনের ছেলে পল্লব ও জুয়েলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভাংচুর চালানো হয় পৌর কাউন্সিলর ওয়াসিম রাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। ভাংচুর করা হাবিবুর রহমান হবি বিশ্বাসের বাড়ি ও মইনুল স্টোরে ভাংচুর শেষে চলে লুটপাট।
এছাড়াও উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়,হাসপাতাল সড়কের কেয়ার সনো সেন্টার, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এস কে লিটনের অফিস, জেলা পরিষদের সদস্য লিটন মোল্লার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালানো হয়। রাতেও বিক্ষিপ্ত হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে ভাংচুর, হামলা ও অগ্নিসংযোগ বিভিন্ন ইউনিয়নে চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।