
চুয়াডাঙ্গায় ভিন্ন ভিন্ন দু’টি স্থানে ট্রেনের ধাক্কায় একজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাইদঘাট রেলক্রসিংয়ে ও বেলা ১১টার দিকে ডুগডুগি রেলক্রসিংয়ে ঘটে এ দুর্ঘটনা।
দর্শনায় ট্রেনের ধাক্কায় আল-আমিন (২৮) নামের এক মানষিক বাক প্রতিবন্ধির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে দুধপাতিলা গ্রামের মাঝের মাঠ নামক স্থানে ট্রেন দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয়। সে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়নের ডিহি কৃষ্ণপুর গ্রামের ঝন্টুর ছেলে।
দর্শনা হল্ট স্টেশন জিআরপি ফাঁড়ি পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকালের দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়নের ডিহি কৃষ্ণপুর গ্রামের ঝন্টুর ছেলে মানষিক বাক প্রতিবন্ধি আল-আমিন (২৮) পরিবারের সকলের অজান্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। সে একই জেলার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের দুধপাতিলা গ্রামে নানা বাড়ি যাওয়ার সময় দুধপাতিলা গ্রামের মাঝের মাঠ সংলগ্ন রেললাইনের নিকট পৌঁছায়। এসময় রেললাইন পার হওয়ার প্রাক্কালে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশন হতে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের সাথে ধাক্কা লেগে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে। ফলে মাথা সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যু বরণ করে।
স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় দর্শনা হল্ট স্টেশন জিআরপি ফাঁড়ি পুলিশ। পরে নিহতর পরিবারের লোককজন লাশ সনাক্ত করলে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উর্দ্ধার করে নেওয়া হয় দর্শনা হল্ট স্টেশন জিআরপি ফাঁড়িতে। নিহতর পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় আইনী প্রক্রিয়া শেষে সন্ধায় পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়। গতকাল রাত সাড়ে ৯ টার দিকে নামাজের জানাযা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার গাইদঘাট রেলক্রসিংয়ে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী রুপসা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় গুরতর আহত হন শ্যালো মেশিনের ইঞ্জিন দিয়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি করা গাড়ি 'আলমসাধু'র চালক ইসরাফিল হোসেন (৪০)। ইসরাফিল আলমডাঙ্গা উপজেলার মাঝহাট গ্রামের হেলালের ছেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার সকালে ড্রাগন ফল বোঝাই একটি আলমসাধু গাইটঘাট গ্রামের অরক্ষিত রেললাইন পার হচ্ছিল। এসময় এই লাইনে দিয়ে রুপসা এক্সপ্রেস ট্রেন আসছিল। পরে কিছু বোঝার আগেই ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে আলমসাধুর সংঘর্ষ হয়। আলমসাধু ছিটকে রেললাইনের একপাশে পড়ে। এতে আলমসাধু চালক ইসরাফিল হোসেন গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জোবায়দা জামান জয়া জানান, মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, রুপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে ড্রাগন বোঝায় একটি আলমসাধুর সংঘর্ষ হয়েছে বলে শুনেছি। তবে কেউ হতাহত হয়েছে কিনা এটা নিশ্চিত নয়।