বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

আমি বাঁচতে চাই স্কুলে যেতে চাই ; ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত শিশু শিমলা

 

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :সাইমন হোসেন 

বাবা ঝালমুড়ি বিক্রেতা মা গৃহিনী। ঝালমুড়ি বিক্রি করে পরিবার নিয়ে এক সময় ভালোই চলছিল শফিকুল ইসলাম। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১৪ নং রাজাগাঁও ইউনিয়নের চাপাতি (মোল্লাপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। সারাদিন স্কুল, কলেজ ও বিকেলে বাজারে ঝালমুড়ি বিক্রি যা পান, তা দিয়ে পরিবার চালান। মা, স্ত্রী এবং তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দুই মেয়ে নিয়ে চলছিল তার সংসার।

যদিও অল্প আয় ছিল সংসারে তারপরেও সুখ-শান্তির কোনো কমতি ছিল না তাদের মাঝে। হঠাৎ কোন একদিন ঝাল মুড়ির বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানতে পারেন তার আট বছর বয়সের ছোট মেয়ে শিমলা আক্তার মাথা ব্যথায় ভুকছে। এরপর তিনি স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ঔষধ আনে দেন কিন্তু তাতেও কোন প্রকার কাজ হয় নি।

দেখতে দেখতে উপায় না পেয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের মাম হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের এম.বি.বি.এস মেডিসিন ডা. সাজ্জাদ হায়দার শাহিনের চিকিৎসা নেন। তিনি রোগীর অবস্থা দেখে রংপুর ব্রেইন এন্ড মাইন্ড কনসালটেশন ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেই হাসপাতালে রিপোর্ট অনুযায়ী ধরা পড়ে শিশু শিমলা আক্তারের মাথায় টিউমার হয়েছে। ডাক্তার বলেছেন, খুব দ্রুত তাঁর অপারেশন করাতে হবে এতে খরচ হতে পারে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা।

ঝালমুড়ি বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি দিন আনি দিন খাই। মা, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে চলছিল সংসার। হটাৎ মেয়ের মাথা ব্যথা শুনে ডাক্তার দেখাই এবং ডাক্তার বলেছে মাথায় টিউমার হয়েছে অপারেশন করতে হবে এতে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৮-৯ লাখ টাকা দরকার, যা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

তিনি আরো জানান চিকিৎসার জন্য অনেক জায়গায় দরখাস্ত দিছে এখনো কোন সাড়া পাই নি। তাই দেশবাসী সহ সমাজের বিত্তবানরা যদি আমাকে সাহায্য করে তাহলে আমি আমার মেয়েকে বাঁচাতে পারব।

বেইন টিউমারে আক্রান্ত আট বছরের ছোট্ট শিশু শিমলা আক্তার বলেন , ‘আমি বাঁচতে চাই। আমি স্কুলে পড়াশোনা করতে চাই অনেক দিন হলো স্কুলে যাইনা, বন্ধুদের সাথে খেলতে পারি না।

এদিকে শিমলার করুণাময়ী মা পারুল বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, এলাকা সহ বিভিন্ন জনের কাছে হাত পেতে যা পেয়েছি তা দিয়ে চিকিৎসা করতেছি কিন্তু তার সুস্থতার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। সমাজে তো অনেক বিত্তবান দানশীল মানুষ আছে তারা যদি আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য একটু একটু করে আর্থিক ভাবে সহযোগীতা করে তাহলে আমি আমার ছোট মেয়েকে বাঁচাতে পারব এবং আমার মেয়েকে আমার বুকে রাখতে পারব।

সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করুন শফিকুল ইসলাম (রোগীর বাবা) ০১৭৭৪৪৩৯১১৫ (বিকাশ)।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com