বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

চোরাই মদ-বিয়ারের উৎস খোঁজার নির্দেশ


অনলাইন ডেস্ক: আমদানি নিষিদ্ধ চোরাই বিদেশি মদ-বিয়ারের উৎস খোঁজার নির্দেশ দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। একইসঙ্গে বার, ক্লাব ও হোটেলগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনতে বলা হয়েছে।

বুধবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নারকোটিক্সের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ নির্দেশনা দেন অধিদফতরটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আজিজুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদের চালান ধরা পাড়ায় নড়েচড়ে বসে নারকোটিক্স। এসব চোরাই মদ রাজধানীর বিভিন্ন বার, ক্লাব ও হোটেলে বিক্রি হচ্ছে এমন খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। চোরাইপথে আনা বিদেশি মদ-বিয়ার নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজতে জরুরি সভা ডাকেন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক। এতে নারকোটিক্সের পরিদর্শক থেকে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, বেলা সাড়ে ১১টায় আলোচনা শুরু হয়। শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা বিদেশি মদ-বিয়ার ও পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। মাঠের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বৈঠকের শুরুতে এক কর্মকর্তা বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিদেশি মদ-বিয়ার ছাড়াও ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজগুলো চোরাই মদের অন্যতম বড় উৎস। কিন্তু আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানে নারকোটিক্স অভিযান চালাতে পারে না। তাছাড়া কয়েকটি বার, ক্লাব ও হোটেল প্রভাবশালীদের শেল্টারে চলছে।

ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বলেন, কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন ডিজি যোগদান করবেন। এরপর তিনি এ বিষয়ে আরো কঠোর নির্দেশনা দেবেন। তবে অবৈধ মদ-বিয়ার বিক্রিতে ছাড় দেওয়া চলবে না। ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজে প্রবেশ করতে না পারলে রাস্তায় অভিযান চালাতে হবে। মদ-বিয়ার আটকের পর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও মামলা করতে হবে।

ঢাকা মেট্রো-উত্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান চোরাই মদ-বিয়ার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। এছাড়া ইন্সপেক্টরসহ সংশ্লিষ্ট সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাদকবিরোধী অভিযানে আরো তৎপর হতে বলেন তিনি।

অধিদফতরের পরিচালক অপারেশন উপমহাপুলিশ পরিদর্শক কুসুম দেওয়ান সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে আটক বিদেশি মদের চালানের প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সব মদ ঢাকায় কীভাবে ঢুকল এবং এগুলোর গন্তব্যের ঠিকানা খুঁজে বের করতে হবে। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিদেশি মদের বিশাল গোডাউন থাকলেও এতদিন এর খোঁজ কেন জানা যায়নি সে প্রশ্ন তোলা হয়।

ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপপরিচালক রাশেদুজ্জামান বলেন, চোরাই বিদেশি মদ বিয়ারের পাশাপাশি সিসা নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। রাজধানীতে ৪২টির মতো সিসা লাউঞ্জে প্রকাশ্যে সিসা সেবন করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। সিসা জব্দ করে রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হলেও যথাসময়ে রিপোর্ট আসছে না। ফলে অভিযান বিলম্বিত হচ্ছে।

সভায় উল্লেখ করা হয়, ৭টি সিসা লাউঞ্জ উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছে। নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি নিকোটিনযুক্ত সিসা পরিবেশন করা হচ্ছে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com