বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

সাধারণ মানুষের কথা কি কেউ ভাবছে, বেড়েছে ৫৩ ওষুধের দাম

প্রথমত, করোনা ও দ্বিতীয়ত, বন্যার চাপে মানুষ জর্জরিত। এ অবস্থায় সবকিছুই যখন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা দরকার, তখন জীবন রক্ষাকারীসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধের দাম বৃদ্ধি করা হলো। আর দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি তো রয়েছেই। খুব স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে- তা হলে কি সাধারণ মানুষের কথা কেউ ভাবছে?

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বহুল ব্যবহৃত ২০টি জেনেরিকের ৫৩টি ব্র্যান্ডের ওষুধের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মাত্রার প্যারাসিটামলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে ৫০ থেকে শতভাগ। মাত্র ৪০ টাকার এমোক্সিসিলিনের দাম করা হয়েছে ৭০ টাকা, ২৪ টাকার ইনজেকশন ৫৫ টাকা এবং ৯ টাকার নাকের ড্রপের দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৮ টাকা। কোনো কোনো ওষুধের দাম ৯৯ থেকে ১৩২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিয়ম মেনেই ওষুধের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তারা জানান, তাদের একটি টেকনিক্যাল কমিটি ওষুধ উৎপাদনকারীদের প্রস্তাবনা যাচাই-বাছাই করে দাম নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুননির্ধারিত মূল্য তালিকা দেখে এটি সহজেই বোঝা যায়- সব ওষুধের দাম যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করা হয় নি। কারণ দেশের প্রায় শতভাগ দরিদ্র মানুষের সুস্থতা বা বেঁচে থাকা নির্ভর করে এসব ওষুধের সহজলভ্যতার ওপর।

বলার অপেক্ষা রাখে না, চিকিৎসা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। সরকারের দায়িত্ব জনগণের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং এ ক্ষেত্রে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা নিরসনে উদ্যোগী হওয়া। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের সুস্থতার জন্য জীবনরক্ষাকারী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধগুলোর দাম নাগালের মধ্যে রাখতে অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com