বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

শিগ্গির ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থায় নেই শ্রীলঙ্কা

ড. ফরিদুল আলম: করে অবশেষে শিঙ্গাপুর থেকে ইমেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠালেন গোতাবায়া রাজাপক্ষে। ১৫ জুলাই অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা রনিল বিক্রমাসিংহে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্যাপকভাবে নন্দিত রাজাপক্ষে পরিবার সহসাই জনগণের কাছে তীব্র নিন্দিত হয়ে বিদায় নিলেন ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে। যদিও তাদের পরিবার বিদায় নিয়েছেন, এখনো শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে রয়ে গেছে তাদের পোদুজানা পেরামুনা (এসএলপিপি) দলের আধিপত্য।
দৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

৯ মে তারিখে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের পদত্যাগের পর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে আস্থা রেখেছিলেন এর আগে পাঁচ বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অনেকটা ভারতপন্থি রনিল বিক্রমাসিংহের প্রতি। সে সময় নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিলের নেতৃত্বে যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়, সেই মন্ত্রিসভায় কার্যত ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তিত হলেও রয়ে যায় এসএলপিপি দলের সর্বময় কর্তৃত্ব, অর্থাৎ মন্ত্রীদের সবাই রাজাপক্ষের দলের প্রতিনিধি হওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিকভাবে দেশের সরকার ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি। এমন অবস্থায় প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে চেয়েছিলেন রনিল বিক্রমাসিংহের অভিজ্ঞতা এবং ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে দেশকে কিছুটা টেনে তুলে আনতে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী রনিল সে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন আলোচনাসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতে কীভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে আলোচনা চলছিল। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া এবং জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে আবেদনের বিষয়টিও রয়েছে; কিন্তু দিনকে দিন পরিস্থিতি অবনতিশীল হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ধৈর্যচ্যুতি পরিস্থিতিকে অবশেষে বেসামাল করে তুলল।

বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগ এবং রনিল বিক্রমাসিংহের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার মধ্য দিয়ে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। বাস্তবে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে যা দেখা যাচ্ছে তা হলো সরকারের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে ঘোষিত ২০ জুলাই পার্লামেন্টের মাধ্যমে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে কিছুটা সংশোধন করে পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন করে একজন প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ দেওয়া এবং তার নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয় রয়েছে। এখন কথা হচ্ছে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার ওপর আস্থা রাখবেন এবং এক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা কতটুকু সম্ভব হবে, এটিও একটি চিন্তার বিষয়।

পার্লামেন্টের প্রধান বিরোধী দল সামাগি জন বালাবেগায়া (এসজেবি) নেতা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট রানাসিঙ্গে প্রেমাদাসার ছেলে সাজিথ প্রেমাদাসা দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই পদে লড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন একই দলের নেতা এবং দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান শরৎ ফনসেকা, রয়েছেন রনিল বিক্রমাসিংহে নিজেও। এর বাইরে রয়েছেন বর্তমান ক্ষমতাসীন দল এসএলপিপির আরো কয়েক জন নেতা। তবে পরিস্থিতি বলছে, যিনিই এই পদে আসুন না কেন এবং মন্ত্রিসভাকে নেতৃত্ব দেন না কেন, তাকে অবশ্যই এসএলপিপি সমর্থনপুষ্ট হতে হবে। অর্থাৎ, রাজাপক্ষে পরিবারের সদস্যদের ক্ষমতা থেকে বিদায় নিশ্চিত হলেও এসএলপিপির কর্তৃত্ব থেকে শিগ্গিরই মুক্তি মিলছে না শ্রীলঙ্কার।

দেশটিতে সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট এবং সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল যথাক্রমে ২০১৯ এবং ২০২০ সালে। সংবিধান অনুসারে আগামী ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট এবং সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। সংবিধান অনুসারে এর আগে এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন প্রেসিডেন্টকে পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের মাধ্যমে পদচ্যুত করতে হবে কিংবা প্রেসিডেন্ট কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সঙ্গে আলোচনাক্রমে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। বর্তমান বাস্তবতায় এর কোনোটিই সম্ভব হবে না, কারণ এই উভয় পদ দুইটি পেতে এসএলপিপির সঙ্গে সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। আর এসএলপিপিও চাইবে না দেশের এই রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে নিজ থেকেই কর্তৃত্বে জায়গায় কোনোরকম ছাড় দিতে।

এখন সংগত কারণেই পরের প্রশ্ন হচ্ছে বিদ্যমান বাস্তবতায় শ্রীলঙ্কার রাজনীতি এবং অর্থনীতিকে আমরা কীভাবে বিশ্লেষণ করব? এক্ষেত্রে বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তারা যদি একটি সত্যিকার অর্থে সর্বদলীয় সরকারব্যবস্থা গঠন করতে পারেন, তাহলে এই সমস্যা উত্তরণে একটি কার্যকর পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। তবে এর ফল পেতে সময় লাগবে। ধারণা করা হচ্ছে যদি সত্যিকার অর্থে একটি কার্যকর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয় সেক্ষেত্রে আগামী দুই বছরের মধ্যে তারা এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারবে। এখন কথা হচ্ছে, দেশের বিক্ষুব্ধ জনতা দেশের সরকারকে এই দুই বছর সময় দেবে কি না। আর এর চেয়েও বড় কথা হচ্ছে, একটি কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা লাভ করতেই বা সরকার কতটুকু সক্ষম হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ইবা কোন কারণে একটি শ্রীলঙ্কার মতো বিধ্বস্ত অর্থনীতির দেশকে পুনর্গঠনে আবার এগিয়ে আসবে। এখানে আরো একটি কারণ হচ্ছে শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে চীনের প্রচ্ছন্ন হস্তক্ষেপ; বিশেষ করে ২৬ বছর সময় পর্যন্ত তামিলদের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ অবসানের পর দেখা যায় দেশটির সিংহলিদের একটা বড় অংশ ভারত-বিরোধী, যার সুযোগ নিয়েছে চীন। শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক সংকটে ভারত সবচেয়ে বেশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেও দেশটির ব্যাপক অংশের জনগণের মন থেকে কিন্তু ভারত-বিরোধিতা সেই অংশে দূরীভূত হয়নি। সুতরাং, পশ্চিমা দেশগুলো সংগত কারণেই চীনের দিকে ঘেঁষে থাকা শ্রীলঙ্কার সংস্কার প্রক্রিয়ায় সেরকমভাবে আগ্রহ দেখাবে না, সেটা বলাই যায়।

নিকট অতীতে আমরা দেখেছি, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু আয় ছিল ৪ হাজার ডলার। খাদ্য উদ্বৃত্তসহ স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তার দিক দিয়ে দেশটি ছিল অনন্য। ২০১৯ সালের নির্বাচনের পরপরও দেশটিতে রিজার্ভ ছিল ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। মাত্র তিন বছর সময়ের মধ্যে এই রিজার্ভ এখন শূন্যের কোটায় এসে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে আমদানিব্যয় মেটানো দূরে থাক, ইতিপূর্বের অনেক আমদানিব্যয় পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে দেশটি। এই অবস্থায় গত মে মাসে রনিল বিক্রমাসিংহে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দেশটির বিমান সংস্থাসহ কয়েকটি খাতকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, যা এখনো প্রক্রিয়াধীন, তবে আগেই বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে গৃহীত যে কোনো সংস্কার প্রক্রিয়ার ফলাফল পেতে অপেক্ষা করতে হবে; কিন্তু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জনবিক্ষোভ দেখে মনে হচ্ছে মানুষ সম্ভবত এই অপেক্ষা করতে আগ্রহী নয়।

এই মুহূর্তে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, সম্ভবত রনিল বিক্রমাসিংহেই হতে যাচ্ছেন শ্রীলঙ্কার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। রাজাপক্ষের দল এবং এই মুহূর্তে পার্লামেন্টের সর্ববৃহৎ দল এসএলপিপির একটা অংশ এবং রাজাপক্ষের ভাই এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী তথা এসএলপিপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক বাসিল রাজাপক্ষের সমর্থনও রয়েছে রনিলের প্রতি। সেই সঙ্গে রনিলের সঙ্গে একধরনের গোপন সমঝোতাও রয়েছে রাজাপক্ষের পরিবারের। রনিলের দলের তিনি ছাড়া আর কোনো সংসদ সদস্য পার্লামেন্টে না থাকার পরও তাকে প্রধানমন্ত্রী করা এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা—এসবই প্রচ্ছন্নভাবে দেশটির রাজনীতিতে রাজাপক্ষেদের টিকিয়ে রাখার এক অপপ্রয়াস। সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে এবং তার ভাই বাসিল রাজাপক্ষে তাদের আইনজীবীদের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে এক মুচেলকায় দেশ ছেড়ে পালাবেন না বলে জানিয়েছেন। রনিলের প্রতি তাই তারা সংগতভাবেই আস্থাশীল থাকবেন। রনিলও চাইবেন ক্ষমতায় টিকে থেকে এই আস্থার প্রতিদান দিতে। দেশের জনগণ বিষয়টি ভালোভাবেই অনুধাবন করছেন বলে তারা এই মুহূর্তে রনিলকেও পদে দেখতে চাইছেন না। এহেন অবস্থায় তার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পরবর্তী সময়ে আবারও নতুন করে বিক্ষোভের দানা বাঁধতে পারে, আর এক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই অপরাপর বিরোধী দলগুলো এতে ইন্ধন দেবে সন্দেহ নেই।

একটি দেশের নির্বাচিত ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল এবং নেতারা কীভাবে রাতারাতি জনসমর্থন হারিয়ে এখন পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে রাজাপক্ষে পরিবার এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। অনেক কারণ রয়েছে এই অর্থনৈতিক ধসের নেপথ্যে। এর মধ্যে করোনা মহামারি অন্যতম, যার ফলে দেশটির প্রধান শিল্প হিসেবে খ্যাত পর্যটন ব্যবসায় ব্যাপক ধস নামিয়েছে। আর বাইরেও চীনের ঋণ নিয়ে হাম্বান্টোটায় গভীর সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দরসহ চীনা সিটি নির্মাণ এবং ‘সভেরেন বণ্ড’ বিক্রির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে কয়েক ট্রিলিয়ন অর্থ সংগ্রহ এবং ২০২২ সালে যখন এগুলো ম্যাচিউরড হয়ে ৭ বিলিয়ন ডলার কিস্তি পরিশোধ করার কথা—এমন অবস্থায় দেখা গেল অর্থনৈতিক শূন্যতা। এর বাইরেও কেবল গোতাবায়ার সিদ্ধান্তে, কোনো বিশেষজ্ঞই মত না নিয়ে কৃষিতে অর্গানিক ফার্মিং প্রচলন এবং করের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার ফলে ফলন কমে এক-চতুর্থাংশে নেমে আসে এবং কর আদায় নেমে আসে অর্ধেকে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এই অর্গানিক ফার্মিং ব্যবস্থা বাতিল এবং করের হার বৃদ্ধি করেছে, তবে আগেই বলা হয়েছে—এর ফল পেতে সময় লাগবে। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এই মুহূর্তে সবাই মিলে জনগণকে প্রকৃত অবস্থা বোঝানোর চেষ্টা করেন তাহলেই কেবল পরিস্থিতি অনেকটা অনুকূলে যেতে পারে। এরকম চরম সংকটে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের নিজেদের মধ্যে আস্থাহীনতা জনগণকে আরো বিক্ষুব্ধ করে তুলছে। এই বিক্ষোভ শ্রীলঙ্কাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করাবে, সেটা সময়ই বলে দেবে, তবে ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো দেখছি না।

লেখক : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সূত্র: https://www.ittefaq.com.bd/606151/%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%98%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B2%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com