বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

শত কনটেইনার ‘হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড’ নিয়ে বিপাকে ৪ ডিপো

সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পর নিজেদের বন্দর দিয়ে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের চালান পরিবহন সীমিত করেছে সিঙ্গাপুর। এ অবস্থায় রফতানির জন্য রাখা ১০৫ কনটেইনার হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড নিয়ে বিপাকে পড়েছে চট্টগ্রামের চার বেসরকারি ডিপো। তবে সিঙ্গাপুর বন্দর দিয়ে রফতানি সম্ভব না হলে অন্য বন্দরের বিষয়ে ভাবা হবে বলে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসরকারি কনটেইনার ডিপো (অফডক) মালিকদের সংগঠন বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন বিপ্লব বলেন, বিএম ডিপোর দুর্ঘটনার পর অন্য যে চারটি ডিপোতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রয়েছে, সেগুলো দ্রুত শিপমেন্ট বা কারখানায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর পোর্ট দিয়ে এসব কনটেইনার পাঠানো না গেলে পোর্ট কেলাং বা অন্য বন্দর দিয়ে পাঠানোর সুযোগ আছে কিনা দেখতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে এসব কনটেইনার নিজ নিজ কারখানায় নিয়ে যেতে বলা হতে পারে।

বিএম ডিপোর অক্ষত পণ্যের শিপমেন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে সেখানে অনেক তদন্ত টিম কাজ করছে। এখনো পুড়ে যাওয়া পণ্য, অক্ষত পণ্যের হিসাব আমরা পাইনি। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী কার্যক্রম। এর সঙ্গে বন্দর, কাস্টমস, সিঅ্যান্ডএফ, আমদানিকারক, রফতানিকারক, বিজিএমইএ, শিপিং এজেন্ট, ডিপো কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক অধিদফতর, পরিবেশ অধিদফতরসহ অনেক স্টেকহোল্ডার সম্পৃক্ত।

এদিকে, বিএম ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিজিএমইএর প্রতিনিধি দল। অক্ষত পণ্য কীভাবে রফতানি হবে, সে বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করে তারা।

বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণে প্রাণহানি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এখন অক্ষত পণ্য রফতানি কীভাবে হবে, তার একটি পথ খুঁজে বের করা উচিত। কারণ, এসব কনটেইনার রফতানি করা না গেলে রফতানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরো বলেন, এ ডিপো ব্যবহারে যেসব বিদেশি ক্রেতা চুক্তিবদ্ধ ছিলেন, তাদের এখন অন্য ডিপোর সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। বিএম ডিপোর রফতানি পণ্যের জট খোলার জন্য বিদেশি ক্রেতা, বাংলাদেশ ব্যাংক, কাস্টমস ও বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা না গেলে সমস্যা কাটবে না।

৪ জুন রাত ৮টার দিকে ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতর আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একটি কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রানহানি হয়েছে ৪৮ জনের। এছাড়া আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com