বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পর্ব-৩: ঘুরে এলাম মক্কা-মদিনা/ মদিনায় মসজিদে নববী ও প্রসিদ্ধ স্থান

                                               ————- এমএম আলাউদ্দীন,

মক্কার আরাফাত হোটেল থেকে বের হলাম আমাদের ৩টি লাগেজ নিয়ে। বাসটি হোটেলের নিকটবর্তী পার্কিং করায় লাগেজ বাসে উঠাতে বেগ পেতে হয় নি। বাসে উঠে কোন সিটে বসব তালাস করতে নারী কন্ঠে ডাকলো এখানে বসে দেখলাম অন্য কেউ না স্বস্ত্রী মরিয়ম। তার পাশের সিটে বসলাম। এবার চেক আউট-এর পালা। ২৭জন বাসে উঠেছে কিনা হোটেল কর্তপক্ষ চেক করার জন্য লিষ্ট দেখে নাম ডাকা শুরু করলো। নাম ঘোষণার সাথে আমরা সাড়া দিতে লাগলাম। বাস কর্তৃপক্ষ বাস ছাড়ার অনুমতি পেয়ে বেলা ১০টায় বাসটি ২০ এপ্রিল মদিনার অভিমুখে রওনা হলো। এ সময় গাইড সোলাইমান বাসে ভ্রমণের দোয়াটি জোরে জোরে পড়তে থাকেন সাথে সাথে আমরা ২৭ জন দোয়া পড়েছিলাম তার সাথে।

বেলা সাড়ে ১২টায় মদিনায় হোটেল সালামের সামনে দাঁড়ালো বাসটি। আমাদেরকে বাস থেকে নামার অনুরোধ করা হলো। লাগেজ বাস থেকে নামালাম। হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে ওয়েটিং রুমে লাগেজ রাখা হলো। আমাদের বরাদ্দকৃত কক্ষগুলো থেকে অবস্থানকরী চেক আউট হবে আসরের নামাজের পর। ফলে, আমাদের গাইড আহবান জানালেন আমরা আমাদের লাগেজ যেখানে যে অবস্থায় আছে সেখানে সে অবস্থায় থাক। এখন আমরা মসজিদ নববিতে যাবো। যোহরের নামজ ও আসরের নামাজের পর হোটেলে ফিরে এসে যার যার কক্ষে লাগেজসহ অবস্থান করবো।

গাইড সোলাইমান-এর সাথে রওনা দিলাম আমরা। ৩১৬ নম্বর গেট দিয়ে আমরা প্রবেশ করলাম মসজিদে নববীতে। ওয়াশরুম থেকে ওজু করা হলো। তারপর যোহরের সালাত আদায় করলাম জামাতের সাথে আমাদের কাফেলার সদস্যদের নিয়ে। সালাত শেষে আমি ও মনিরুল ইসলাম দু’জন মিলে হযরত মোহাম্মদ (সা:)-এর রওজা শরীফে সালাম ও জিয়ারত করার জন্য রওনা হলাম। নববি মসজিদের সাথে বর্তমানে রওজা শরীফ। সালাম দেয়া ও জিয়ারত করার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে দেখলাম হাজীগণ। নিরাপত্তা বাহিনী শৃংখলা রক্ষা করার জন্য অবস্থান করছেন। আমরাও লাইনে দাঁড়ালাম। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রবেশ দ্বার বাবুস সালাম গেটে পৌঁছালাম। মনের মধ্যে আকুতি ও মিনতি কাজ করছে। পূর্বে জেনেছি এখানে জোরে শব্দ করা যাবে না ও ঠেলাঠেলি করা যাবে না। এটা করলে আদবের খেলাপ হবে। তাতে ইবাদত গরবাদ হতে পারে। রওজা শরীফে মধ্যে তিন লাইন হলো আমরা বাম হাতের লাইন ধরে এগুতে লাগলাম। ডান হাতের দিকে পাশাপশি আরও দু’টি লাইন আছে।

২০ গজ যেতেই আমাদের বাম দিকে লক্ষ্য করি সোনা খচিত দরজা, করআনের আয়াত, একটি বড় ছিদ্র তাতে গ্লাস দেয়া, বুঝতে দেরী হয় নি এখাানে শায়িত আছেন আমাদের প্রিয় রাসুল হযরত মোহাম্মদ (সা:), অবলক নয়নে তাকিয়ে সালাম দিলাম-আসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্।ু তারপাশে শায়িত আছেন আবুবকর সিদ্দিক (রা:) ও তারপাশে উমর (রা:), তাদেরকেও সালাম দিলাম-আসলামু আলাইকুম ইয়া আবু বকরী সিদ্দিক (রা:) ও আসলামু আলাইকুম ইয়া উমর (রা:)। রওজা শরীফ-এর বাবুল বাকী গেট দিয়ে বের হয়ে কোরআন তেলওআয়াত ও দরুদ পাঠ শেষে মুনাজাত করালাম আল্লাহর দরবারে। তারপর মসজিদ নববীর বিভিন্ন অংশ দর্শন করলাম। আসরের নামাজ নববি মসজিদের ভিতরে আদায় করলাম। ফিরলাম হোটেলে। সিট পেলাম দ্বিতীয় তলায় ১০১ নম্বর কক্ষে- সেখানেও আমি, সোহেল আকরাম, মুহ: আরিফ ও মনিরুল ইসলাম। মরিয়ম ও রহিমা খাতুন চাচির সাথে ঢাকার ২ জন ৬১৩ নম্বর কক্ষে সিট পেল। যার যার সিটে যাওয়ার জন্য লাগেজ নিয়ে লিফটে চলা শুরু। কক্ষে প্রবেশের কার্ডটি দরজার লকের সাথে স্পর্শ করার সাথে সাথে আনলক হয়ে গেল। ফলে, আমরা রুমে প্রবেশ করলাম। লাগেজ রেখে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ইফতারি ও মাগরিবের নামাজ আদায়ের উদ্যোশ্যে নববী মসজিদের দিকে রওনা হলাম আমি ও আরিফ।

লক্ষ্য করলাম মসজিদের চারদিকে পিলার রয়েছে সেই পিলারগুলোতে ছাতার মত তাবু দেয়া যার মাধ্যমে রোদ ও বৃষ্টির পানি থেকে হাজীগণকে রক্ষা করে, সেই তাবুগুলো আস্তে আস্তে বুজে যাচ্ছে ছাতার মত করে। চারদিকে আধ আলো ও আধ ছায়া। এ এক মনরম দৃশ্য। প্লাষ্টিকের রিমুভাল ফেন্স দিয়ে বেসটনি করে বিভিন্ন পয়েন্টে মসজিদের বাইরে হাজীগণের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমারও একটি পয়েন্ট বেছে নিয়ে বসলাম। দস্তরখানা বিছিয়ে দেয়া হলো। কিছুক্ষণ পর সৌদী রাষ্ট্রীয় ইফতার আমাদেরকে পরিবেশন করা হলো যেমনটি হয়েছিল মক্কায় হারাম শরীফে। মাগরিবের আযান হলো। ইফতারি শুরু করলাম। এখানে ইফতারির জন্য প্রায় ৪ মিনিট সময় দিয়েছিল। যা মাক্কায় হারাম শরীফ থেকে অনেক বেশী সময়। তারপর দস্তর খানা টেনে তুলে নিয়ে গেল সেচ্ছা সেবকরা। এখানে অধিকাংশ সেচ্ছা সেবক স্কুল কলেজের ছাত্ররা। মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। ইমাম সাহেবের তেলওয়াতে মধুর সুর। তারাবি, ইশা ও নফল নামাজ আদায় করে রুমে ফিরি ডিনার ও সেহেরি খাবার কিনি মসজিদ নববি নিকটবর্তী বাংলা বাজারের বাঙালি হোটেল থেকে। প্রতি জনের জন্য ১৫ বা ২০ রিয়ালে খাবার কিনা যায়। মসজিদে নববীতে সেহরী রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারিভাবে বিতরণ করা হয়।
২১ ও ২২ এপ্রিল নববি মসজিদে ফজর, জহর, আসর, মাগরিব, ইশা, তারাবি সালাত, নফল নামাজ, দোয়া, দরুদ পাঠ করেছিলাম আমরা। মসজিদে নববী’র ৩৩৫ নম্বর গেটের সাথেই আছে বহুতলা বিশিষ্ট মার্কেট। কিছুসময়ের জন্য মার্কেটটি ঘুরে ঘুরে দেখেছিলাম। ২২ এপ্রিল মরিয়ম ও রহিমা চাচি দু’জন মিলে হযরত মোহাম্মদ সা:, আবু বকর (রা:) ও ওমর (রা:) রওজায় সালাম এবং জিয়ারত করেন আলাদাভাবে অপরদিকে আমি ও মুহ: আরিফ এরুপ কাজ করেছিলাম। হযরত মোহাম্মদ সা: -এর রওজা শরীফে সালাম দেয়াকালীন দু’জন হাজী ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহ আকবার’ বলে স্লোগান দিয়েছিল, ফলে আদব খেলাপির অভিযোগে পুলিশ তদের গ্রেফতার করে।

হযরত মোহাম্মদ (সা:) ‘মদিনা মসজিদ’ নামে মসজিদ তৈরী করেন। বর্তমানে নাম ‘মসজিদে নববী’। অধুনিকতা ছোয়ায় তৈরী হয়েছে মসজিদে নববী। মসজিদের সাথে হযরত মোহাম্মদ (সা:)-এর রওজা শরীফ। মূল মসজিদের চারপাশে পিলারে ছাতির মত তাবু। সমতল ভূমি করা হয়েছে, পাথর বসানো হয়েছে সমতল ভূমিতে। বৈদ্যতিক আলো জ¦লছে। এসি স্থাপন করা হয়েছে। মসজিদের ভিতরে ও বাইরে সালাত আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও রিয়াজুল জান্নাত। মসজিদে নববী আঙ্গীনার চত্বরটি আধুনিক প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রাচীরে গেট করা হয়েছে। ৩১৮ নম্বর গেটের পাশে কবুতর চত্বর করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com