বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন

শিশুদের স্মৃতিশক্তির বিকাশ ধীর করছে যানবাহনের শব্দ

রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহনের কোলাহলের অনেক বেশী প্রভাব রয়েছে শিশুদের ওপর। গবেষণা বলছে, এসব কোলাহল তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ দক্ষতার বিকাশে প্রভাব বিস্তার করে। স্পেনের বার্সেলোনার ৩৮টি স্কুলে সাত-দশ বছর বয়সী ২ হাজার ৭০০ শিশুর ওপর বছরে চারবার গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। গবেষণাপত্রটি পিএওএস মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত হয়। এবারই প্রথম শিশুর সম্মিলিত উন্নতির ওপর যানবাহনের কোলাহলের প্রভাব ও তীব্র শব্দদূষণের প্রভাব বিষয়ে বিশ্লেষণ করা হলো।

গবেষণায় অংশ নেয়া শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তাদের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ দক্ষতা বেশ সংকটপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আর এ দু’টিই শিখন প্রক্রিয়ার জন্য খুব জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু তিনবার এমন যানবাহনের শব্দের মধ্য দিয়ে যায়, অন্যান্য মানুষের তুলনায় তাদের স্মৃতিশক্তির বিকাশ প্রক্রিয়া বছরে ২৩ শতাংশ ধীর হয়। সেই সঙ্গে মনোযোগ দক্ষতার বিকাশ ৫ শতাংশ ধীর হয়।

শরীরের জন্য তীব্র ক্ষতিকর হিসেবে বায়ুদূষণের পরই শব্দদূষণকে ধরা হয়। এটা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গত ফেব্রুয়ারীতে জাতিসংঘ জানায়, শহরে শব্দদূষণের মাত্রা বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকী হয়ে উঠছে। এ কারণে শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নেই ১২ হাজার মানুষ আগে আগে প্রাণ হারায়।

রাস্তায় যানবাহনের কোলাহল শিশুর ওপর কতটা প্রভাব বিস্তার করে সে বিষয়ে গবেষণা এখনো সীমিত। গবেষকরা বলছেন, অনেক স্কুলই শব্দদূষণে ভুগছে এবং স্কুলের আশপাশ থেকে রাস্তা সরিয়ে নেয়ার মতো কিছু পদক্ষেপ শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণের হাত থেকে স্কুলগুলোকে রক্ষা করতে পারে।

গবেষণাটি পরিচালনাকারী বার্সেলোনা ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথের ড. মারিয়া ফোরাস্টার বলেন, শারীরিক দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দ যে কতটা ক্ষতিকর হতে পারে তা আমরা উপলব্ধিই করতে পারি না। আমরা মনে করি, আমরা ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্ত হয়ে যাব। কিন্তু গবেষণা বলছে, আমরা সেটা পুরোপুরি পারি না। আমাদের এর পরও একটি শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া থাকে।

গবেষণা বলছে, শ্রেণীকক্ষের ভেতরে তীব্র মাত্রার শব্দ যেমন বড় ট্রাক বা অন্যান্য যানবাহন যাওয়ার শব্দ অন্য যেকোনো উচ্চতর গড় সর্বোচ্চ মাত্রার শব্দের তুলনায় বেশী প্রভাব বিস্তার করে। কারণ হতে পারে সেই শব্দটা বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে, এমনটা বলেন ফোরাষ্টার।

গবেষকরা এটাও দেখেছেন, বাসায় উচ্চশব্দের তুলনায় স্কুলে যেকোনো উচ্চমাত্রার শব্দ বেশী প্রভাব ফেলে। ফোরাস্টার বলেন, হয়তো মনোযোগ ও শিখন প্রক্রিয়ার ভঙ্গুর ক্ষেত্রগুলো প্রভাবিত হয়, এ কারণেই এমনটা হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক আইরোইজ ডামনথেইল বলেন, খুবই যত্নসহকারে গোছানো এ গবেষণা বেশ বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ সামনে নিয়ে এসেছে। ইউরোপীয় অনেক শিশু যারা বড় বড় শহরে বাস করে তারা উচ্চমাত্রার রাস্তার যানবাহনের কোলাহলের মধ্যে থাকে। সেজন্য স্কুলের আশপাশে যানবাহনের কোলাহল কমাতে জননীতি চালু করার ওপরই জোর দিচ্ছে এ গবেষণা। সূত্র: বণিকবার্তা

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com