বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

যে মসজিদের গম্বুজে আছে বিশেষ ১০ সাহাবীর নাম

চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ। যেটি অনেকের কাছে মসজিদ-ই-সিরাজ-উদ-দৌলা বা চন্দনপুরা বড় মসজিদ বা তাজ মসজিদ নামেও পরিচিত। নগরীর চকবাজারের সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কে অবস্থিত এ মসজিদের চারদিকে যেন রঙের মেলা। নানা রঙ, লতা-পাতার নকশা আর কারুকাজে স্থাপনার প্রতিটি অংশে ফুটিয়ে তোলা সৌন্দর্য নজর কাড়ে যে কারো।

চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ।

চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ।


জানা যায়, ১৮৭০ সালে মোগল স্থাপনা শিল্পের আদলে মাটি ও চুন সুরকির দেয়াল আর টিনের ছাদ দিয়ে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন আব্দুল হামিদ মাস্টার। সে সময়ও মাটির দেয়ালগুলো ছিল কারুকাজে ভরপুর। পরে ১৯৪৬ সালে আব্দুল হামিদ মাস্টারের বংশধর ব্রিটিশ সরকারের ঠিকাদার আবু সৈয়দ দোভাষ মসজিদটির সংস্কার কাজে হাত দেন। পাঁচ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে ভারতের কলকাতা থেকে কারিগর ও দিল্লীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নির্মাণ সামগ্রী এনে ১৩ শতক জায়গার ওপর দোতলা মসজিদটি গড়ে তোলা হয়।

চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ।

চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ।


এ মসজিদে রয়েছে ছোট-বড় ১৫টি গম্বুজ। প্রতিটি গম্বুজে যাওয়ার জন্য রয়েছে সিঁড়ি। এসব গম্বুজ ও সিঁড়িতেই যেন ফুটে উঠেছে মোগল স্থাপত্য নিদর্শনের প্রতিচ্ছবি। গম্বুজের চারপাশে রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবীর নাম। যখন মাইকের ব্যবহার ছিল না, তখন প্রায় চারতলা সমান উঁচু মিনারে ওঠে দেয়া হতো আজান। এমন দুটি মিনার এখনো রয়েছে মসজিদটিতে। এছাড়া চারপাশের দেয়ালগুলোতে রয়েছে ভেন্টিলেশন পদ্ধতি। দেয়ালের ফাঁক গলে ঢোকে আলো। আলোর ঝরণাধারায় ঝলমল করে মসজিদের ভেতরের অংশ। থাকে বাতাসের কোমল পরশও।

চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ।

চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ।


একই নকশায় নগরীর কোতোয়ালির মোড় এলাকায় আরো একটি মসজিদ তৈরি করেন আবু সৈয়দ দোভাষ। যেটি এ মসজিদের চেয়ে আকারে ছোট। ফলে এটিকে চন্দনপুরা বড় মসজিদ বা তাজ মসজিদ নামে অভিহিত করা হয়।

চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের পরিচয় তুলে ধরতে ১৫০ বছরের পুরোনো এ মসজিদের ছবিও ব্যবহার করা হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রকাশনায়। ফলে মসজিদটি এক নজর দেখতে চলে আসেন দেশ-বিদেশি পর্যটকরা।

চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ।

চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ।


মসজিদ পরিচালনা কমিটির একজন মোহাম্মদ জহুরুল হক জানান, ১৯৫০ সালে তার দাদা আবু সৈয়দ দোভাষ মসজিদটির পুননির্মাণ কাজ শেষ করেন। এখনো প্রতি পাঁচ বছরে একবার মসজিদটিকে রাঙানো হয়। একবার রাঙাতে সময় লাগে প্রায় তিন থেকে চার মাস। মসজিদের বড় গম্বুজটির ওজন প্রায় ১৩ মণ। যেটি রুপার তৈরি। সবুজ, গোলাপি ও হলুদ রঙে গম্বুজটিকে রাঙানো হয়।

চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ।

চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ।


সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল হক বলেন, চন্দনপুরা মসজিদের আশপাশে আরো অনেক মসজিদ রয়েছে। তবুও এ মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা বেশি। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ মসজিদটি দেখতে আসেন। দৈনিক অন্তত ৮ থেকে ৯শ’ মানুষ এখানে নামাজ আদায় করেন। জুমার দিনে সেই সংখ্যা তিনগুণ ছাড়িয়ে যায়। এলাকায় এমন প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ থাকা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বলা চলে। সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com