মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

কমছে কৃষি জমি, বাড়ছে পরিবেশ দূষণ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ইটভাটায় প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার মন জ্বালানী কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ছড়াচ্ছে বিভিন্ন রোগবালাই। এতে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে আবাদী জমি, উজাড় হচ্ছে গাছ পালা, ভারসাম্য হারাচ্ছে প্রকৃতি।

পরিবেশ অধিদপ্তর মাস তিনেক পূর্বে কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান চালায়। এরপর আর তাদের দেখা মেলেনি। অভিযানের পর ভাটা চালু থাকলেও এর প্রভাব পড়েছে ভোক্তাদের উপর। ইটের দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় দেড়গুন। ইটের পরিমাপ দৈর্ঘ প্রস্থ্য নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। তবে ক্রেতা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তাদের কোন কার্যক্রম চোখে পড়ার মতো নেই।

প্রাপ্ত তথ্যমতে গাংনী উপজেলায় মোট ৩৮ টি ইটভাটা রয়েছে। যার একটিরও কোন অনুমোদন নেই। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে ক্ষমতার জোরে ইটভাটা তৈরী করেছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ, যেখানে সেখানে ইটভাটা তৈরী হওয়ায় আবাদী জমিগুলো নষ্ট হচ্ছে। একটি ইটভাটা তৈরী করতে কমপক্ষে ৭/৮ একর জমির প্রয়োজন হয়। অনেক সময় মাটির প্রয়োজন হলে এলাকার লোকজনের কাছ থেকে আবাদি জমির উপরের এক থেকে দেড়ফুট মাটি কেটে ইট তৈরী করে। এতে ফসলী জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়। শুধু তাই নয়, ইটভাটার নির্গত কালো ধোয়ায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে ও আশপাশের আবাদি জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। কোন ইটভাটায় অনুমতিপত্রের শর্তানুযায়ী কয়লা ব্যবহার করা হয় না । ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। বিশেষ করে ফলজ ও বনজ বৃক্ষ ছাড়াও বাঁশের মোথা ব্যবহারের ফলে বাঁশঝাড় উজাড় হচ্ছে। বেশ কয়েকটি ভাটায় স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী কাঠ ফাড়ায় করা (স’) মিল।

ইটপোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৯ ও ২০০১ সনের ১৭ নং অনুচ্ছেদের ৪ ও ৫ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, আবাদি জমিতে কোন ইটভাটা তৈরী করা যাবেনা। এছাড়াও কাঠ পোড়ানো যাবেনা। অথচ সকল ইটভাটায় কয়লার বদলে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের লোকজন জরিমানা আদায় করলেও ইটভাটা বন্ধ করেনা। ফলে প্রভাবশালীরা প্রতি বছর নতুন নতুন ইটভাটা তৈরী করছে।

স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, প্রতি বছর পরিবশে অধিদপ্তর ও ভাটামালিকদের যোগসাজসে নাম মাত্র অভিযান চালানো হয়। পরে আবার সব ভাটায় চালু থাকে। যে কয়েকটি ভাটায় জরিমানা করা হয় সেই জরিমানার টাকা সব ভাটার ওপর সমান ভাগে ভাগ করে দেয় মালিক সমিতি।

মেহেরপুর সদর উপজেলার রামদাসপুর গ্রামের ইটভাটা মালিক নজরুল ইসলাম জানান, আমরা ভ্যাট দিচ্ছি ও বিভিন্ন ফান্ডে টাকা দিচ্ছি কিন্তু অনুমোদন মিলছেনা। আমাদের ভাটা যদি অবৈধ হয় তাহলে ভ্যাট অফিস রশিদ দিয়ে টাকা আদায় করছেন কিভাবে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার রেজা জানান, ইটভাটায় নির্গত কালো ধোয়ায় মানুষের শ্বাসকষ্ট, হাপানি, ক্যান্সারসহ নানা রোগের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অতিরিক্ত কার্বণ-ডাই অক্সাইডের কারণে ফসল ও এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়। অনতিবিলম্বে পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরী।

কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আতাউর রহমান জানান, অভিযানের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন হয়। এর জন্য জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে পত্র দেয়া হয়েছে। ম্যাজিষ্ট্রেট পাওয়া গেলে অভিযান চালানো হবে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আমার কাছে আবেদন করেনি। আবেদন পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 dailyamaderchuadanga.com