মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১০:২০ পূর্বাহ্ন

২ বছর পর করব থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনীতে ২ বছর পর করব থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ মার্চ), বেলা ১১ টার দিকে জেলার গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের চাঁন্দামারী গ্রাম থেকে আসাদুজ্জামান (৪০) নামের এক যুবককে লাশ উদ্ধার করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে আসাদুজ্জামানের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়।

চাঁন্দামারী গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলম ডাঙ্গা উপজেলার হাঁপানিয়া গ্রামের আব্দুল জলিল মাষ্টারের ছেলে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি আসাদুজ্জামানের বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী গ্রামের মোনালিসা রুপার সাথে। তাদের সংসারে ৩ টি সন্তানও রয়েছে।
আসাদুজ্জামান চাকুরির সুবাদে স্ত্রী সন্তান নিয়ে চুয়াডাঙ্গা বসবাস করতেন।

হঠাৎ ২০২০ সালের ২৭ মার্চ আসাদুজ্জামানের মৃত্যু হয়। সেসময় রুপা জানান তার স্বামী আসাদুজ্জামান স্ট্টোক করে মারা যায়। পরে তার লাশ হাঁপানিয়া গ্রামে নেওয়ার পর কাছাকাছি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁন্দামারী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কিন্তু দাফনের পর থেকেই আসাদুজ্জামানের মৃত্যু নিয়ে তার বাবার পরিবারে সন্দেহ ছিল। যার কারণ হিসেবে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর আসাদুজ্জামানের ভাই লিটন আলী বাদি হয়ে চুয়াডাঙ্গা আদালতে রুপা ও তার প্রেমিক নরসিংদী জেলার হুমায়ুনের নামে মামলা করেন। মামলায় রুপা তার প্রেমিক হুমায়ুনের সহযোগিতায় আসাদুজ্জামান কে হত্যা করে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হুমায়ুন কে আটক করে।

আটকের পর হুমায়ুন স্বীকার করেন তিনি আসাদুজ্জামান কে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে হত্যা করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি তদন্ত সাইদ হোসেন জানান, আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা ২৫ জানুয়ারী মামলাটি নথিভুক্ত করে। মামলা নং ২১ তাং ২৫.০১.২২ ইং। মামলা রেকর্ড হওয়ার পরদিন হুমায়ন কবিরকে গ্রেফতার করে ৩দিনের রিমান্ড নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে বর্তমানে হুমায়ন কবির চুয়াডাঙ্গা জেলা হাজতে রয়েছে। পলাতক রয়েছে প্রধান আসামী মোনালিসা রুপা। তাকে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া আদালতের নির্দেশনা পেয়ে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। হুমায়ুনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ময়না তদন্তের জন্য ২ বছর পর আজ আসাদুজ্জামানের লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

লাশ উত্তোলনের সময় শতশত মানুষের ঢল নামে চাঁন্দামারী কবরস্থান এলাকায়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 dailyamaderchuadanga.com