বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

৭ দিনে সিমেন্টের দাম বেড়েছে ৫০ টাকা

দেশের বাজারে মাত্র সাত দিনেই সব ব্রান্ডের সিমেন্টের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে সিমেন্ট তৈরির প্রধান উপকরণ ক্লিংকারসহ অন্যান্য কাঁচামাল, ফুয়েল ও কয়লার দাম এবং জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সিমেন্টের দাম বাড়াতে হয়েছে বলে জানিয়েছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

সিমেন্ট খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন শিল্পপণ্যের কাঁচামালের দাম। জাহাজের জ্বালানি (মেরিন ফুয়েল) টনপ্রতি ৫০ শতংশ বেড়েছে, প্রতি বস্তা সিমেন্ট উৎপাদনে ৫০-৬০ টাকা খরচ বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় সিমেন্ট কম্পানিগুলো টিকে থাকার স্বার্থে মূল্য সমন্বয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

উৎপাদনকারীরা জানান, সিমেন্টের সব কাঁচামালই আমদানিনির্ভর। বৈশ্বিক বাজারে এ কাঁচামাল ও জাহাজ ভাড়া বেড়েছে। সিমেন্ট উৎপাদনে প্রধান পাঁচটি কাঁচামাল হলো ক্লিংকার, লাইমস্টোন, স্ল্যাগ, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসাম। মূলত সিমেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত ক্লিংকারের দাম আগের তুলনায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে সিমেন্টের দামের ওপর। ক্লিংকারের দাম কয়েক দফায় গত এক মাসে ৯ ডলার বা ৭৬৫ টাকা বেড়েছে প্রতি টনে। এতে বস্তাপ্রতি ক্লিংকারের খরচ বেড়েছে ৩৮ টাকার ওপরে।

এছাড়া জাহাজ ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ যোগ করলে ৬০ থেকে ৭০ টাকা উৎপাদন খরচ বেড়েছে প্রতি বস্তায়। ফলে সিমেন্টের দাম না বাড়িয়ে কোনো উপায় নেই। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ক্লিংকার প্রস্তুতে ব্যবহৃত জ্বালানি কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্লিংকারের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আর চীন হঠাৎ করে কয়লার আমদানি বাড়ানোর ফলে দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এফওবিতে বা উৎপাদন পর্যায়ে যেখানে প্রতি টন কয়লার মূল্য ছিল ৪০ থেকে ৪২ ডলার, তা এখন দাঁড়িয়েছে ৮২ ডলারে। এসব কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে সিমেন্টের অন্যতম মূল কাঁচামাল ক্লিংকারের দাম বেড়েই চলেছে, যার প্রভাব দেশীয় সিমেন্ট খাতেও পড়ছে।

সোমবার রাজধানীর খুচরা ও পাইকারি দোকান ঘুরে দেখা যায়, সব কম্পানির সিমেন্টের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ টাকা বেড়েছে। খুচরা হিসেবে সুপারক্রিট ৪২০ থেকে বেড়ে ৪৭০ টাকা, শাহ স্পেশাল ৪২০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। স্ক্যান সিমেন্ট ৪৫০ থেকে বেড়ে ৪৯০-৫০০ টাকা, বেঙ্গল ৪১০ থেকে বেড়ে ৪৬০ টাকা এবং মীর ৪০৫ থেকে বেড়ে ৪৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতেও প্রতি টনে চার ডলার বেড়ে ক্লিংকারের দাম ৪৬ ডলারে ওঠে। বর্তমানে ক্লিংকারের দাম ৬০ ডলার থেকে বেড়ে এক লাফে ৭৫-৭৯ ডলারে উঠেছে। মূল্যবৃদ্ধির যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তাতে খুব শিগগির দেশের বাজারে সিমেন্টের দাম ৫০০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে সিমেন্টের কাঁচামালের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ)। তারা জানান, বিশ্ববাজারে সিমেন্টের কাঁচামালের দাম দুইভাবে বাড়ছে। ক্লিংকার তৈরির খরচ বাড়ায় রপ্তানিকারক পর্যায়ে যেমন দাম বাড়ছে, তেমনি জাহাজভাড়া বাড়ায় তা আমদানি মূল্যের সঙ্গে যোগ হচ্ছে। সব মিলিয়ে টনপ্রতি ক্লিংকারের দাম এখন ৫৫ থেকে ৫৬ ডলার। ফেব্রুয়ারির শুরুতেও প্রতিটনে ৪ ডলার বেড়ে ক্লিংকারের দাম ৪৬ ডলারে ওঠে। সিমেন্টশিল্পে পাঁচ ধরনের কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। সবকটি আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে ৬২ থেকে ৯০ শতাংশই হলো ক্লিংকার। গত অর্থবছরও দেশে ১ কোটি ৮৭ লাখ টন ক্লিংকার আমদানি হয়েছে। সূত্র: পূর্বপশ্চিম

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com