বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে শিক্ষার্থীর আত্নহত্যা

ময়মনসিংহ নগরীর বানিজ্যিক এলাকায় স্বদেশী বাজার মোড়ে রাইট পয়েন্ট নামক বহুতল ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে এক স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা করে। আত্নহত্যার পূর্বে তার নিজের ফেসবুকে আত্নহত্যার আভাস দিয়ে একটি স্টেটাস দেয়। মুহুর্তেই সেটি ভাইরাল হয়। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম অর্ক প্রিয়া ধর শ্রীজা। সে বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণী। সে গবেষক, ছড়াকার ও ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক স্বপন ধরের কন্যা।

শ্রীজার আত্নহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিবারে ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ খবরে হাজারো উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভীড় জমান। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

পুলিশ, বাসার সিসি ক্যামেরা ও নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে জানাযায়, নগরীর পুলিশ লাইন্স এলাকার বাসিন্দা স্বপন ধরের কন্যা শ্রীজা ধর বাবা-মা’র সাথে অভিমান করে নগরীর স্বদেশী বাজার এলাকার রাইট পয়েন্ট নামক বহুতল ভবনের ৬ তলায় আত্মীয়ের (খালা) বাসায় না গিয়ে ছাদে উঠে পড়ে। সেখান থেকে দুপুর ২টার দিকে সে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। পুলিশ ছাদ থেকে তার একটি ব্যাগ জব্দ করে। ওসি জানান, বাবা-মা ও ভাইয়ের প্রতি নানা অভিযোগ ও অভিমান থেকেই গত তিন বছর ধরে আত্মহত্যার পথ খোঁজছিলো অর্ক প্রিয়া ধর শ্রীজা। গত দু’দিন সে স্কুলেও যায়নি। শনিবার তার মা’র সাথে কিছু কথা কাটাকাটিও হয়। আত্মহত্যার পূর্বে সে ফেইজবুক নিজের টাইমলাইনে একটি স্ট্যাটাসে পরিবারের সদস্যদের উপর অভিমানের কথা উল্লেখ করে আত্মহত্যা করে।

শ্রীজার স্কুল শিক্ষিকা মা অর্পণা দে জানান, সকালে বাবা ও মেয়েকে বাসায় রেখে আমি স্কুলে আসি। দুপুরে এই খবর পাই। তার মা আরো জানান, মেয়েটি কয়েকদিন ধরে অসুস্থ্য ছিল। আমরা চিকিৎসক দেখিয়ে ওষধ খাচ্ছে। এ সপ্তাহে আবারো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। আমার মেয়ে আত্নহত্যা করবে তা বুঝতে পারিনি।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, পুলিশ ছাদ থেকে তার একটি ব্যাগ জব্দ করে। বাসার সিসি ক্যামেরা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সে একা বাসার ছাদে উঠে। তার ফেসবুকের স্টেটাস দেখে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করো হচ্ছে বাবা-মা ও ভাইয়ের প্রতি নানা অভিযোগ ও অভিমান থেকেই সে আত্নহত্যার পথ বেছে নেয়। তাছাড়াও গত তিন বছর ধরে আত্মহত্যার পথ খোঁজছিলো অর্ক প্রিয়া ধর শ্রীজা।

শ্রীজার ফেসবুকের স্টেটাসটি হুবহু তোলে ধরা হলো- যারা বলেন বাবা মার সাথে একটু ঝগড়া হইলেই মইরা যাওয়া লাগে? গিয়ে দেখেন গা এইটা এক দিনের ঝগড়া ছিল না, কি পরিমান মানসিক চাপ দিলে একটা মানুষ মরতে যায় নিজে থেকে। আমি নিজে যতদিন ধরে ট্রাই করতেসি আমি দেখতেসি। ৩ বছর ধরে সুইসাইডাল চিন্তায় ভুইগা আমার এতদিনে সাহস হইসে। তাই, সবাইরেই ভাবসে আর সুইসাইড কইরা ফেলসে এম্নে জাজ করতে যাইয়েই না। কেও হেল্প চাইলে তো বুলি ছাড়া কিছু পারেন না। আবার কিসু করে ফেললে তখন তার দোষ। ভিক্টিম ব্লেম ছাড়া জীবনে কিসু শিখছিলেন? যারা সুইসাইড করে তারা বাপ মা রে মাইরা করে না, বাপ মা ই এদের সুইসাইড এর পথে ঠেইলা দেয়। আপনার মনে হয় আমার খুব ইচ্ছা ছিল মরার? বাধ্য হইসি।

আপনাদের তৈরি সমাজ আর পেরেন্টিং এর কারনে। কেও মেয়েরে নিজের আলাদা লাইফ দিতে না পারলে প্লিজ মেয়ে নিয়েন না, আপনার এক ডিসিশনের জন্য একটা মানুষের জীবন নষ্ট কইরেন না। আর এই সো কল্ড বাপ মা রে দেবতার আসন থে নামান। আপনার বাপ মা ডেভেল্পড মাইন্ডেড বা আপনার সাথে পারস্পেক্টিভ মিলে দেইখা সবারটা এক না। সবাইরে নিজেরে দিয়া জাজ করা বন্ধ করেন। আই নো অনেকে বলবেন এর থেও বড় প্রব্লেম থাকে মানুষের লাইফ এ। মানুষ তাও বাইচা থাকে। বাট ওদের প্রব্লেম আর আমার প্রব্লেম এক না দেইখাই যে ওদের টা প্রব্লেমের পর্যায়ে পরে আর আমার টা পরে না এটা তো কথা না। আমার মানসিক, পারিবারিক অবস্থা ওর সাথে যেমন মিলবে না আমার রিয়েকশনও ওর সাথে মিলবে না। আমার জন্য সুইসাইড ই একমাত্র উপায় ছিল। সব মুহুর্তে শেষ হয়ে যাবে। ফাইট যে করি নাই তা না, চার বছর ধরে করসি। এখন আর পারতেসিনা। সব ট্রাওমা এখন ফিজিক্যাল রিয়েকশন শুরু করসে। এখন আর সম্ভব না।

আর অপশন নাই। আমার ফ্রেন্ড দের বলতেসি, থ্যাংক্স আ লট। তোদের জন্যই এতদিন বাচতে পারসি। এত্ত এত্ত হেল্প করার জন্য থ্যাংক্স। অনেক ভালোবাসি তোদের। পাওনা রইল অনেক কিছু। ভালো থাকিস। ট্রাই করিস তোদের সময়ে এই টক্সিক পেরেন্টিং দূর করতে। আর আবারও বলতেসি আমি যা ট্রাওমা ভোগ করসি এগ্লা একদিনের না। দিনের পর দিন মানসিক নির্যাতন সহ্য করার পরে এই ডিসিশন নিসি। সেই ক্লাস সিক্স থেকে। আর তার আগে তো ভালো করে বুঝি ই নাই। যাই হোক জানি তার পরও কেউ চেঞ্জ হবেন না। সেই ভিক্টিম ব্লেম ই করে যাবেন।

আর আমার পেরেন্ট কেউ এই পোস্ট দেখে থাকলে আর আমার জমানো টাকা গুলা খুইজা পাইলে অনু রে দিয়, নিজে তো দেখসি আমার সাথে কি করস, মেয়ে হওয়ার দোহায় দিয়া সব রাইট কাইরা নিস, সুতরাং ও বড় হইলে ওর লাগতে পারে। আশা করি আমি ছোট থাকতে যা টাকা পাইসিলাম বা জমাইসি তার মত মাইরা দিবা না। আর আমার ভাইরে তো কিসু বলার ই নাই। সেম জেনারেশনে থাইকাও কেম্নে আমারে হ্যারাস কইরা গেল জানিনা। জানার ইচ্ছাও নাই। আর কেয়ার করতে পারব না। আমার সাথে যা করসো সবাই আশা করি হাজার গুনে কারমা হিসেবে ফেরত পাও। আর না বোঝার ভান কইর না। আমি ১৬ বছর থেকেই বুঝতে শিখলে তোমাদের জন্য ৪০ বছরে বোঝা কোনো ব্যাপার ই না। তার পরও চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝায়ে দেওয়ার চেষ্টা করসি। শুনো নাই, খালি লোকে কি বলবে ভাইবা গেসো। এখন থাকো গিল্ট নিয়া। এখন দেখো লোকে কি বলে দেখ আর রিগ্রেট কর। এগ্লাই তোমাদের পাওয়া উচিত।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com