মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই রাশিয়া থেকে সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই রাশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটির বৈঠক শেষে ভার্চ্যুয়ালি সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

শিগগিরই যুদ্ধ থেমে যাওয়ার আশা রেখে মন্ত্রী বলেন, বিকল্প সোর্স আমরা বিবেচনায় রেখেছি। যদি সুইফটের কারণে কোনও পেমেন্ট করতে না পারি তাহলে অন্যরকম ব্যবস্থা করে নিতে হবে। আমরা চাই বিশ্বমানবতার স্বার্থে এই যুদ্ধটি বন্ধ হোক। বিশ্বের মানুষ যেন শান্তি পায়, এটা আমার প্রত্যাশা। আমরা কেউ যুদ্ধ দেখতে চাই না।

যথাসময়ে সার পাওয়া যাবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক।

আমরা যে আইটেমটি আনছি এটি নতুন নয়। এই আইটেমটি বরাবরের মতো আনার জন্য চেষ্টা করছি। তারা যদি কোনও কারণে না দেয় তাহলে আমরা ভিন্ন জায়গায় খুঁজবো। এর আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। আমরা ওদের কাছ থেকেই আনার চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, সুইফটের মাধ্যমে পেমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে কারেন্সি সোয়াপ বা অল্টারনেটিভ ব্যবস্থা নেয়ার বিষয় বিবেচনা করা হবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনকে (বিএডিসি) রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন ‘প্রডিনটর্গ’ থেকে ৩য় লটে ৩০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। এই সার কেনা হবে ১৫০ কোটি ২১ লাখ ২৩ হাজার ২২০ টাকায়। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের চুক্তির ধারাবাহিকতায় এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বিগ্ন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন কী কারণে দাম বাড়ছে। আমি আগেও বলেছি যে পরিমাণ দাম বাড়ে তার পুরোটাই ভোক্তার ওপর যাতে না পড়ে সে বিষয়ে আমাদের চিন্তা থাকে। আমরা এজন্য ভাগাভাগি করে নেই। কিছু ভোক্তা বহন করবে, কিছু সরকার বহন করবে। এভাবেই আমরা একটা ইক্যুয়েশনের মধ্যে দিয়ে কাজগুলো করছি।
সুতরাং আমরা যদি শুধু এককভাবে ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দিতাম তাহলে তারা এটি বহন করতে পারতো না। অনেক বেশি ভর্তুকি প্রয়োজন। কী পরিমাণ ভর্তুকি প্রয়োজন, যদি আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আপনাদের দিতো তাহলে ভালো হতো- যোগ করেন মুস্তফা কামাল।

এদিকে টানা তিনবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি থেকে ফেরত পাঠানো ট্যাব কেনা প্রস্তাবটি অবশেষে অনুমোদন পেয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাবলেট ‘ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ থেকে কেনা হবে। ট্যাবগুলো কিনতে ৪৪৭ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭০ টাকা ব্যয় হবে। উল্লেখ্য, ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল জনশুমারির জন্য এই ট্যাব কিনতে চায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। মূল প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর।

ঋণ নিয়ে ইনফ্লেশন (মুদ্রাস্ফীতি) থেকে মুক্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি না এটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে। আমাদের ওপর যে প্রভাবটা পড়েছে এটার প্রতিফলন যেটি দেখছি সেটি কতটা হবে আমরা জানি না। তবে আমরা কোন উৎস থেকে অর্থায়ন করবো। সেটা যদি আমাদের জন্য ভালো হয়, কার্যকরী হয় এবং সেখান থেকে যদি আমরা কিছু সেভিংস করতে পারি তাহলে অবশ্যই আমরা সেটি করবো।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 dailyamaderchuadanga.com