সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৩৪ অপরাহ্ন

সার্চ কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত, নাম চাইবে দলগুলোর কাছে, পরামর্শ নেবে সুশীল সমাজের

 পরবর্তী নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার হিসেবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মতামত ও নামের তালিকা চাইবে প্রেসিডেন্ট গঠিত সার্চ কমিটি। তবে, তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক করা হবে না।  রোববার সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং নির্বাচন বিষয়ে অভিজ্ঞদের সঙ্গেও বৈঠক করা হবে। সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে অনুসন্ধান কমিটিকে সাচিবিক সহায়তার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার আবার বৈঠকে বসবে কমিটি। প্রথম বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টার মতো স্থায়ী হয়। তিনি বলেন, আমাদের হাতে আগামীকাল থেকে ১৫ কার্যদিবস সময় আছে। তার আগেই ইনশাআল্লাহ এটা করে দেয়া হবে। যেসব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে, তাদের কাছ থেকে নাম ও মতামত চাইবো- তাদের কোনো চয়েজ আছে কিনা, প্রপোজাল আছে কিনা। সেটা আজকে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে কেবিনেট ডিভিশনের ই- মেইল বা ওয়েবসাইটে দেয়া হবে। ব্যক্তিগতভাবেও কেউ চাইলে সাবমিট করতে পারবে। ই-মেইল বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সংশ্লিষ্টরা তা দিতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগামী পরশু আবার আমরা বসবো। আগামী শনিবার দু’টি এবং রোববার একটি মিটিং হবে। গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ যারা আছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত যারা বিশেষজ্ঞ আছেন তাদের নিয়ে কমিটি এ তিনটি মিটিংয়ে বসবে এবং তাদের কাছ থেকে সাজেশন্স বা প্রপোজাল থাকলে নেয়া হবে। তারপরে কমিটি সবার বক্তব্য এবং আইন ও অন্যান্য জিনিস দেখে যেভাবে আইনে যোগ্যতার কথা বলা আছে সেগুলো বিবেচনা এবং আইন অনুযায়ী সিলেকশন করে পাঁচজনের বিপরীতে দু’জন করে মোট ১০ জনের নাম দেয়া হবে।

কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ২৪ তারিখ পর্যন্ত টাইম আছে। যদি ১৪ তারিখের বিষয়ে কোনো আবশ্যকতা থাকে তাহলে সেটা করা হবে। পরশুদিন (মঙ্গলবার) শুধু আমরা নিজেরা বসবো। নাম প্রকাশ করা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতি অ্যাপ্রুভ না করলে বলবো কীভাবে?

নির্বাচন কমিশন গঠনে সুপারিশ করতে ব্যক্তি নির্বাচন এবং কমিটির কার্যসূচি নির্ধারণে শুক্রবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিকাল ৪টা থেকে সার্চ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত হন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য নাম সুপারিশ করতে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে কমিটির সভাপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সার্চ কমিটির সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন এবং কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। এর আগে শনিবার ছয় সদস্যের এই সার্চ কমিটি গঠন করেন প্রেসিডেন্ট। শনিবারই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের সময়ও রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম চেয়েছিল অনুসন্ধান কমিটি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত ওই সব নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ ১৪ই ফেব্রুয়ারী শেষ হচ্ছে। তার আগে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের জন্য গতকালই অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইসি গঠনে নতুন আইন অনুযায়ী, অনুসন্ধান কমিটি গঠনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করতে হবে অনুসন্ধান কমিটিকে। অনুসন্ধান কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও কমিশনারদের প্রতি পদের জন্য ২ জন করে ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবে। এ ১০ জনের মধ্য থেকে সিইসিসহ পাঁচজনকে দিয়ে ইসি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি। এবারই প্রথমবারের মতো আইনানুযায়ী ইসি গঠিত হচ্ছে। এ জন্য কিছুদিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ জাতীয় সংসদে পাস হয়।

অনুসন্ধান কমিটির কাজ সম্পর্কে আইনে বলা হয়েছে, এই কমিটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে। আইনে বেঁধে দেয়া যোগ্যতা, অযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনাম বিবেচনা করে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

১০

© All rights reserved © 2020 dailyamaderchuadanga.com