সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
গাংনীর কল্যাণপুরে সংঘর্ষে ১০ জন আহত চুয়াডাঙ্গায় হাত-মুখ বাঁধা বয়স্ক স্বামী-স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে মিনা দিবস উদযাপন ‘যাও পাখি বলো তারে’ সিনেমার টাইটেল গান প্রকাশ (ভিডিও) রিমোট দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে জীবন্ত তেলাপোকা! নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের দাবি বিজ্ঞানীদের ছাপা কাগজে খাবার পরিবেশন বন্ধের নির্দেশ বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সেনাদের গুলি বিনিময় সরকারের পতন ঘটিয়ে শাওন হত্যার জবাব দিব: মির্জা ফখরুল মদপান স্বাস্থ্যের জন্য ভাল, মন্তব্য ভারতের সুপ্রিম কোর্টের! আগামীকাল শনিবার মীনা দিবস, দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি

সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, আবারও অর্ধেক যাত্রী বাস-ট্রেন-লঞ্চে

ওমিক্রন ঠেকাতে ১১ বিধিনিষেধ : নিবন্ধন ছাড়াই টিকা নিতে পারবে

শিক্ষার্থীরা : ‘পরিস্থিতি বুঝে’ এসএসসি-এইচএসসির সিদ্ধান্ত-

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

কোভিড-১৯ ও করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে ১১ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এ বিধিনিষেধের আওতায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী বহন করা যাবে। উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা যাবে না। এবারের নির্দেশনায় অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে মাস্ক পরার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ নিয়ম না মানলে পড়তে হবে শাস্তির মুখে। গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারী করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, ১৩ জানুয়ারী (বৃহস্পতিবার) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

দেশে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও এখনই লকডাউনের কথা ভাবা হচ্ছে না বলে সরকারের একাধিক মন্ত্রী আভাস দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওমিক্রন নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে গত সোমবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার ক্ষেত্রে কোভিড টিকার সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়। এ ছাড়া টিকা সনদ ছাড়া ১২ বছরের বেশী বয়সী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে না বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নতুন বিধিনিষেধে যা মানতে হবে- ১. দোকানপাট, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে; ২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাবে; ৩. রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেল থাকার জন্য অবশ্যই করোনা ভাইরাসের টিকা নেওয়ার সনদ দেখাতে হবে; ৪. ১২ বছরের বেশি বয়সের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না; ৫. স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বন্দরে জাহাজের বাইরে নাবিকদের আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। স্থলবন্দরগুলোয় আসা ট্রাকের সঙ্গে শুধু চালক থাকতে পারবে, কোনো সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে; ৬. ট্রেন, বাস ও লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সব ধরনের যানের চালক ও সহকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে করোনা ভাইরাসের টিকার সনদ থাকতে হবে; ৭. বিদেশ থেকে আসা যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড-১৯ টিকাকার্ড প্রদর্শন এবং র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হবে; ৮. স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন; ৯. সর্বসাধারণের করোনা ভাইরাসের টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার ও উদ্যোগ নেবে। এ ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেবে; ১০. কোভিড আক্রান্তের হার ক্রমবর্ধমান হওয়ায় উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে এবং ১১. কোনো এলাকার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে নিবন্ধন প্রয়োজন হবে না; ভর্তি ফরম, রেজিষ্ট্রেশন বা আইডি কার্ড দিয়ে শিক্ষার্থী প্রমাণ হলেই টিকা নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ৩১ জানুয়ারীর মধ্েয ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৪৪ লাখ শিক্ষার্থীকে করোনা প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া সম্পন্ন হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করব না, যেভাবে সীমিত পরিসরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চলছিল সেভাবেই চলবে। ১২ জানুয়ারির মধ্যে যারা এক ডোজ টিকা দিয়েছে তারা ক্লাসে আসবে, বাকিরা অনলাইনে ক্লাস করবে আর অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেবে। সবার অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়া হলে তারপর থেকে তারা সশরীরে ক্লাস করতে পারবে।

এছাড়াও ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে কিনা এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, ‘পরিস্থিতি বুঝে’ এসএসসি-এইচএসসির সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘গত বছরের ন্যায় ২০২২ সালেও পাবলিক পরীক্ষা নিতে চাই আমরা। তবে সময়মতো হবে না। এটি খুবই স্বাভাবিক। কারণ শিক্ষার্থীরা সেভাবে ক্লাস করতে পারেনি। আমরা একটা আভাস দিয়েছি যে, হয়তো ক্লাস করিয়ে বছরের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষাগুলো নিতে পারব। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেই পরীক্ষা হবে। এখনও সিদ্ধান্ত সে জায়গায় আছে। আমাদের এখনও সেটিই পরিকল্পনা।’

সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২২ সালের পরীক্ষা হবে কিনা জানতে চাইলে জবাবে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

মহামারীর কারণে নির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয় জানিয়ে দীপু মনি বলেন, আমরা পর্যবেক্ষণ করতে থাকব এবং ক্লাস করাতে থাকব। যখন নেওয়ার মতো পরিস্থিতি হবে, তখন আমরা পরীক্ষাটা নেব। আশা করি পরীক্ষা নেওয়ার দুই থেকে তিন মাস আগে বলতে পারব, কোন তারিখে পরীক্ষা হচ্ছে। সদিচ্ছা যতই থাকুক, এটা তো আমাদের হাতে নেই।

দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর ২০২০ সালের মার্চে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ৫৪৩ দিন পর গত ১২ সেপ্টেম্বর আবার শ্রেণিকক্ষে ফেরে শিক্ষার্থীরা।

সে সময় স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট ও পাঠ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের পরবর্তী শ্রেণীতে তুলে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাও শেষ হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালে আমরা এসএসসি নিতে পেরেছিলাম কিন্তু এইচএসসি নিতে পারিনি। ২০২১ সালে পরীক্ষা হবে হবে না এরকম নানান অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বছরের শেষ দিকে পরিস্থিতি আমাদের পক্ষে ছিল বলে করতে (পরীক্ষা নিতে) পেরেছি।’

দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের মার্চে লকডাউন জারী করে সরকার। টানা ৬৬ দিন চলে ওই লকডাউন। পরে পরিস্থিতি কিছু উন্নতি হলে লকডাউন শিথিল হয়। ডেল্টা সংক্রমণের পর গত বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট অবধি বিভিন্ন সময় বিধিনিষেধ ছিল। এর পর সংক্রমণের হার দ্রুত কমলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। জীবনযাত্রাও অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে ফের করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্বজুড়ে চোখ রাঙাচ্ছে। গত মাস থেকে বাংলাদেশেও ওমিক্রন বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল সোমবার একদিনে দেশে শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ছাড়িয়েছে। দৈনিক শনাক্তের হার ছাড়িয়ে গেছে সাড়ে ৮ শতাংশ। দৈনিক শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি হলে পরিস্থিতি খারাপ বলেই ধরে নেওয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com