সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
গাংনীর কল্যাণপুরে সংঘর্ষে ১০ জন আহত চুয়াডাঙ্গায় হাত-মুখ বাঁধা বয়স্ক স্বামী-স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে মিনা দিবস উদযাপন ‘যাও পাখি বলো তারে’ সিনেমার টাইটেল গান প্রকাশ (ভিডিও) রিমোট দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে জীবন্ত তেলাপোকা! নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের দাবি বিজ্ঞানীদের ছাপা কাগজে খাবার পরিবেশন বন্ধের নির্দেশ বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সেনাদের গুলি বিনিময় সরকারের পতন ঘটিয়ে শাওন হত্যার জবাব দিব: মির্জা ফখরুল মদপান স্বাস্থ্যের জন্য ভাল, মন্তব্য ভারতের সুপ্রিম কোর্টের! আগামীকাল শনিবার মীনা দিবস, দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি

স্বাস্থ্যবিধি মানায় আসছে কঠোর নির্দেশনা

ছবিঃ সংগৃহিত

নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের লাগাম টানতে স্বাস্থ্যবিধি মানায় আসছে কঠোর নির্দেশনা। এ নির্দেশনার মধ্যে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় সচেতন করা, সব শিক্ষার্থীকে সময়মতো টিকাদান, টিকা ছাড়া রেস্টুরেন্টে না খাওয়া, গণপরিবহনে নির্ধারিত আসনের চেয়ে কম যাত্রী নেওয়া থাকছে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে কেউ মাস্ক না পরলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করা হবে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় করোনার সার্বিক পরিস্থিতি ও করণীয় ঠিক করতে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে সব মন্ত্রণালয় সচিব, মাঠ প্রশাসন এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভার্চুয়াল সভায় মিলিত হন। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শাহেনুর মিয়াও ছিলেন বৈঠকে।

বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টিকা যদি না নিয়ে থাকে, তাহলে রেস্টুরেন্টে খেতে পারবে না। সেখানে খেতে হলে টিকা সনদ দেখাতে হব।। যারা টিকা নিয়েছে, তারা শুধু রেস্টুরেন্টে তা দেখিয়ে খেতে পারবেন। কেউ মাস্ক না পরলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করা হবে। সব শিক্ষার্থী যেন সময়মতো টিকা পায় আমরা সে বিষয়ে এরই মধ্যে গুরুত্ব দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের টিকা নিতে আমরা উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি। গণপরিবহনে যাত্রী চলাচলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আসনের চেয়ে কম যাত্রী পরিবহনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আশা করি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে থাকবে।’

এর আগে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে এক বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ বলেন, এসএমএস না পেলেও যেকোনো বয়সের রোগীরা করোনা টিকার বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে, বুস্টার ডোজ নেওয়ার আগে ওই রোগীকে তার অসুস্থতা বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যগত নথি দেখাতে হবে।

খুরশীদ আলম জানান, আগামী মার্চ-এপ্রিলে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট দেশে বড় ধরনের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। আমরা ধারণা করছি মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে পারে। এ কারণে, আমরা সারা দেশের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা জোরদারের জন্য কাজ করছি।

গত বছরের জুন-জুলাইয়ে ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছলে চাহিদার তুলনায় অক্সিজেন সরবরাহ কম ছিল উল্লেখ করে খুরশীদ বলেন, বর্তমানে ৪০টি হাসপাতালে অক্সিজেন জেনারেটর স্থাপনের কাজ শেষপর্যায়ে রয়েছে। আমরা এই ৪০টি ছাড়াও বিভিন্ন উৎস থেকে আরো কিছু অক্সিজেন জেনারেটর স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।

খুরশীদ আলম আরো বলেন, আমরা এরই মধ্যে সব টিকাকেন্দ্রকে নির্দেশনা দিয়েছি। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিরা আগে ২ ডোজ টিকা নিয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র থেকে বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন। বুস্টার ডোজের জন্য বয়স সীমা ৬০ বছর থেকে কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে। ভবিষ্যতে টিকা গ্রহীতারা সুবিধাজনক যেকোনো কেন্দ্র থেকে বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন।

গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক বিবেচনায় কঠোর অবস্থান তুলে নিয়ে সরকার সবকিছু স্বাভাবিক করে দেয়। এ সুযোগে স্বাস্থ্যবিধিও শিকেয় ওঠে। গণপরিবহনসহ সব ধরনের সভা-সমাবেশ চললেও বেশির ভাগ মানুষই পরছেন না মাস্ক এবং বজায় রাখছেন না সামাজিক দূরত্ব। এরই মধ্যে ডেল্টার পর হঠাৎ করে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শুরু হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ ও সরকারকে পরামর্শ দেন। করোনা সংক্রান্ত কারিগরি কমিটিও ২৩ দফা নির্দেশনা দেয়। তবে এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে বেপরোয়া চলাফেরা শুরু করে মানুষ। বর্তমানে দ্রুত সংক্রমিত হওয়া করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে রবিবার পর্যন্ত ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া করোনা পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। বাড়ছে শনাক্ত। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ৬৭৪ জন এবং চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৯ হাজার ৯৮০ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত হার ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ২ দশমিক ৯১ শতাংশ। এরই মধ্যে ওমিক্রন নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়েছে। করোনার বিস্তার রুখতে পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে এরই মধ্যে আবার বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গতকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। এছাড়া ভারতের রাজধানী দিল্লিতেও সম্প্রতি আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮০ শতাংশের বেশির ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত কঠোর লকডাউন অথবা বিধিনিষেধ আরোপ করা জরুরি। যদি সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হয় তাহলে চরম মূল্য দিতে হতে পারে মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে, যা অতীতেও আমরা দেখেছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ চিকিৎসাবিজ্ঞানী প্রফেসর ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানতে চায় না। ঠিকমতো মাস্ক পরে না, হাত ধোয় না। অতিদ্রুত অন্তত ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় না আনতে পারলে এই ভয়াবহ মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

প্রফেসর এ বি এম আবদুল্লাহ আরো বলেন, করোনা একটি সংক্রামক রোগ। অণুজীবের মাধ্যমেই এটি ছড়ায়। আমাদের সমাজে মানুষের অদ্ভুত কিছু মানসিকতা আছে। কিছু মানুষ আছেন যারা করোনা আছে, এটা বিশ্বাসই করতে চান না। অনেকে আছেন তারা প্রকাশ্যেই বলেন আমরা করোনায় মারা যাব না। বরং লকডাউন দিলে না খেয়েই মারা যাব। এই প্রবণতাই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ওমিক্রনের ঢেউ শুরু হয়েছে। এখন যদি মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানায় বাধ্য করা না যায় তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে, যা সামলানো যাবে না। তাই বিলম্বে হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত।

২০২০ সালের মার্চে দেশে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ১৪০ জনের। সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ৮১ জনের। আর এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৭৭১ জন। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২১৪ জন সুস্থ হয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com