বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

চুয়াডাঙ্গায় স্বাস্থ্যকর্মী রাসেলের নৃশংস হামলায় সাংবাদিক আহসান আলম গুরুত্বর আহত

পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জেরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল চত্বরে সাংবাদিক আহসান আলমকে (৪৫) এলাপাতাড়ী পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করা হয়েছে। হাসপাতালে কর্মরত আউটসোর্সিং ওয়ার্ডবয় রাসেল প্রকাশ্যে তাকে পিটিয়ে আহত করে। রোববার (০২ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে রাজুর চায়ের দোকানের সামনে ঘটে এ হামলার ঘটনা। পরে, আহত সাংবাদিক আহসান আলমকে উদ্ধার করে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়। এঘটনার পর সাংবাদিক আহসান আলম বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আহসান আলম চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পশ্চিমাঞ্চল পত্রিকার ষ্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ও ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘নয়া শতাব্দী’ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি।

অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় রাসেল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় ফায়ার সার্ভিসপাড়ার সাগরের ছেলে। সে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে ওয়ার্ডবয় হিসেবে কর্মরত।

মামলার এজাহারে জানা গেছে, রোবার (০২ জানুয়ারী) স্থানীয় দৈনিক পশ্চিমাঞ্চল পত্রিকায় ”চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় রাসেলের সাথে আস্থা প্রকল্পের আয়া বৃষ্টির অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। রোববার সকালে আহসান আলম চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভেতরে চা পান করে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় (আউটসোর্সিং) রাসেল তার এবং বৃষ্টির অনৈতিক সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে। সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে আহসান আলম সম্পাদকের সাথে কথা বলার জন্য পরামর্শ দেন। পরে, রাসেল ক্ষীপ্ত হয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে এবং একটি স্বর্ণের আংটি ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

আহত সাংবাদিক আহসান আলম বলেন, আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে সংবাদ সংগ্রহের উদ্যোশ্যে বাড়ী থেকে রওনা হয়। পরে সদর হাসপাতাল চত্বরে রাজুর চায়ের দোকানে চা পান করে আমার সহকর্মীর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সে সময় ওয়ার্ডবয় রাসেল এসে আমাকে প্রথমে হুমকী দিয়ে আরএমও’র কক্ষে চলে যায়। পরে, মোবাইলে কথা বলতে বলতে এসে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাঁশ দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। এরপর আবার আঘাত করলে আমি হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে আমার বাম হাতের আঙ্গুল ও কনুইয়ে লেগে রক্তাক্ত জখম হই। পরে আবার আমার মাথায় আঘাত করলে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এরপর আমাকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে আমার শরীরে এলোপাতাড়ী আঘাত করতে থাকে। আঘাতের তীব্রতায় আমি মাটিতে লুটিয়ে থাকা অবস্থায় আমার বাম হাতের আঙ্গুলে থাকা একটি স্বর্ণের আংটি ও ব্লেজারের সামনের পকেটে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ওয়ার্ডবয় রাসেল ছিনিয়ে নেয় এবং স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে রাসেল পালিয়ে যায়। পরে, হাসপাতালে থাকা পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় ক‘একজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, তার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফাতেহ আকরাম বলেন, আয়া বৃষ্টির জন্য ওই ওয়ার্ডবয় ও তার স্ত্রীর মনোমালিন্য হয়েছিল। এ কারণে আয়া বৃষ্টিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের ভেতরে ঘটনাটি হওয়ায় আসলেই দু:খজনক। এ জন্য আমরা গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখছি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আলামিন ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান কচি বলেন, সাংবাদিকদের উপরে হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানায়। অতিলম্বে আসামীকে গ্রেফতার করে আইনের আওয়ায় আনার জোর দাবী করছি।

বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন বলেন, অবশ্যই এটি নিন্দযোগ্য অপরাদ। ঘটনার সাথে জড়িত স্বাস্থ্যকর্মী রাসেলকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, এঘটনায় সকালে সংবাদিক আহসান আলম বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামীকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক পশ্চিমাঞ্চলের ষ্টাফ রিপোর্টার সংবাদিক আহসান আলমের উপর নৃশংস হামলার ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক পরিষদ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দদের মধ্যে আলোচনা চলছে; শিঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

আমাদের চুয়াডাঙ্গা/এ.এইচ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com