সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
কোটচাঁদপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে প্রশ্ন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির চুয়াডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকসেবীর কারাদন্ড ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে চাচার বাড়িতে ভাতিজির অনশন ৪বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক চুয়াডাঙ্গা যুব মহিলা লীগের আয়োজনে স্থানীয় শহীদ দিবস পালিত চুয়াডাঙ্গা যুব মহিলা লীগের আয়োজনে স্থানীয় শহীদ দিবস পালিত ৩৫ বছরের শ্রেষ্ঠ মৎস্য হ্যাচারি ম্যানেজার আশরাফ-উল-ইসলাম দরিদ্র অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে অপারেশন করানো হবে- জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন কোটচাঁদপুরে শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী পালন চুয়াডাঙ্গায় ভারতীয় বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনসহ আটক ১

সংখ্যালঘুদের আইন ও কমিশন নিয়ে যা ভাবছে সরকার

সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলার হ্রাস টানতে দাবী উঠেছে পৃথক আইন ও একটি জাতীয় কমিশন গঠনের। দেশে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মাঝে সম্প্রীতি রক্ষায় এই আইন ও কমিশনকে ‘বিকল্প উপায়’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সে কারণেই সম্প্রীতি রক্ষায় এ বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক সম্মতি রয়েছে।

চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকটি জেলায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে নীরব ছিলেন না সরকার প্রধান কিংবা দেশের বিচার বিভাগ। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও ছিল। জড়িতদের বিচারের মুখোমুখী করতে ধরা পড়েছে বেশীরভাগ আসামী। এরপর বিচারালয়ের মুখোমুখী হতেই তাদের যেতে হয়েছে কারাগারে। বিচারাঙ্গনের জোরালো ভূমিকায় জামিনের চেষ্টা করেও কারা প্রকোষ্ঠে আটক আছেন আসামীরা। এমনকি সেসব মামলার বিচার ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি এবং সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা এসেছে উচ্চ আদালত থেকে।

সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা হ্রাসে পৃথক আইন: সরকার ও বিচার বিভাগের শক্ত অবস্থানের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা হ্রাস করতে পৃথক আইন করার বিষয়ে মত দিয়েছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, ‘মূলত সুরক্ষার অভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা মামলা করতে বা সাক্ষ্য দিতে ভয় পান। তাই সবার আগে এদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংখ্যালঘু হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কেউ যেন বিচার বঞ্চিত না হন, সেজন্য তাদের জন্য একটি পৃথক আইন করতে হবে।’

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘বাংলাদেশে পঁচাত্তরের পর থেকে যেসব সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেসব বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে—বিএনপি আমলে তারা মামলা করতো না। ভুক্তভোগীরও মামলা নিতো না। এই সরকারের আমলে মামলা হলো ঠিকই, তবে চার্জশিট হলেও সাক্ষী আনা হয় না। তাই একটি ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রয়োজন।’’ তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মতো সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনকে বিশেষ আইন হিসেবে তৈরী করতে হবে। তেমনি দুর্বলদের জন্য সংবিধানের ২৮ (গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই আইন করা যেতে পারে। আইনে পত্রিকার সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজ সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রাখতে হবে। যেহেতু সংখ্যালঘুরা মামলা করতে ভয় পায়, সেক্ষেত্রে পুলিশ খবর পেলে তারা নিজেরাই বাদী হয়ে মামলা করবে। একইসঙ্গে সাক্ষী হাজিরের বিধান নিশ্চিত করাসহ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে ৯০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়ারও বিধান আইনে রাখতে হবে।’

এ বিষয়ে সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ না, আমরা যেটা করছি সেটা হলো—অ্যান্ট্রি ডিসক্রিমিনেশন ল। এটি প্রায় করে ফেলেছি। আগামী জানুয়ারি মাসে এটা (আইন তৈরির কাজ) শেষ করতে পারবো।’

সংখ্যালঘু সুরক্ষায় কমিশন গঠন: রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘পৃথক আইন করার সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যালঘুদের দমন-নিপীড়ন হ্রাসে একটি কমিশন গঠন করারও প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও ন্যাশনাল মাইনরিটি কমিশন আছে। সরকার চাইলে ভারতের নজির ধরে মাইনরিটি কমিশন করে ফেলতে পারে।’

কিন্তু কমিশন গঠনের বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কমিশন গঠনের বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা বৈঠক করে সিদ্ধান্তে নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদ ও দলের (আওয়ামী লীগের) প্রধান। তার নেতৃত্বে ও আলোচনায় যে সিদ্ধান্তে তিনি উপনীত হবেন, সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা এগিয়ে যাবো।’ সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com