সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
গাংনীর কল্যাণপুরে সংঘর্ষে ১০ জন আহত চুয়াডাঙ্গায় হাত-মুখ বাঁধা বয়স্ক স্বামী-স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে মিনা দিবস উদযাপন ‘যাও পাখি বলো তারে’ সিনেমার টাইটেল গান প্রকাশ (ভিডিও) রিমোট দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে জীবন্ত তেলাপোকা! নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের দাবি বিজ্ঞানীদের ছাপা কাগজে খাবার পরিবেশন বন্ধের নির্দেশ বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সেনাদের গুলি বিনিময় সরকারের পতন ঘটিয়ে শাওন হত্যার জবাব দিব: মির্জা ফখরুল মদপান স্বাস্থ্যের জন্য ভাল, মন্তব্য ভারতের সুপ্রিম কোর্টের! আগামীকাল শনিবার মীনা দিবস, দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি

চ্যালেঞ্জ দিলেন সাবেক সেনাপ্রধান

নিজের ভাইদের পরিচয়পত্র ও অন্যান্য কাগজে তথ্য পরিবর্তনে কোনো প্রভাব খাটাননি বলে দাবি করেছেন সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জও দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের টকশোতে নেতিবাচক নানা প্রশ্নের জবাব দেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে এক ঘণ্টার আলোচনায় জেনারেল আজিজ আহমেদ কথা বলেন তাকে নিয়ে নানা অভিযোগের বিষয়ে। এর মধ্যে উঠে আসে আল জাজিরার তথ্যচিত্র, ভাইদের বিষয়ে নানা অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বাতিল, নির্বাচনের সেনাবাহিনীর ভূমিকাসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ।

সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমের প্রকাশিত হয়, যুক্তরাষ্ট্র তার ভিসা বাতিল করেছে। এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, তিনিও গণমাধ্যমেই এ সংবাদ শুনেছেন।

জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কারো ভিসা বাতিল করলে তাকে তা জানানোর বিধান আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেশটির কোনো দায়িত্বশীল দপ্তরের কাছ থেকে পাননি। গণমাধ্যমগুলো যথাযথ সূত্র ও তথ্য-প্রমাণ উল্লেখ না করেই এ বিষয়ে প্রতিবেদন ছাপিয়েছে বলে তার অভিযোগ। এ মুহূর্তে তার বৈধ ভিসা আছে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি, আছে।

তিনি শত শত কোটি টাকার মালিক কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আজিজ আহমেদ বলেন, কয়েকশো কোটি নয়, আমাকে সামান্য কিছুর সূত্র দিন যাতে বাকি জীবন স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারি। শত শত কোটি নয় যদি.. বলতে পারেন লক্ষ লক্ষ বা এক-দুই কোটি টাকা আছে তাহলে ওটা দিয়ে আমি পরিকল্পনা করব আমার ভবিষ্যতটা স্বচ্ছন্দ্য হতে পারে কী না।

এ সময় তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ মনগড়া হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। অবসর জীবন নিয়ে তিনি বলেন, রিটায়ারম্যান্টের পরে তিনি এখন দায়িত্বের চাপ থেকে মুক্ত। এ মুহূর্তে পোস্ট ডক্টরাল করছেন তিনি, সেই বিষয়ে গবেষণা করেই সময় কাটাচ্ছেন।

সেনাপ্রধানের দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই তার ব্যক্তিগত সহকারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে খবর বের হয়। এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ সেনাপ্রধান বলেন, আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, আমি যখন রিটায়ারম্যান্টে আসি তখন শুনেছি। সে অবসরে গেছে। ডিসিপ্লিন বলে একটা কথা আছে। দুর্নীতির বিষয়টি আরও গভীর। অত সিরিয়াস যদি কোনো কিছু হতো ‘হি শুড হ্যাভ বিন ডিসক্লোজড ফ্রম দ্য সার্ভিস’। সেক্ষেত্রে আমরা অনেককে জেল দিয়ে থাকি, অনেককে বরখাস্ত করে থাকি। ‘হি ওয়াজ গিভেন নরম্যাল রিটায়ারম্যান্ট’। আমি এ ব্যাপারে ‘ফারদার’ কিছু বলতে চাচ্ছি না।

চলতি বছরের ফেব্রয়ারি মাসে এ সেনাপ্রধান ও তার ভাইদের নিয়ে একটি অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র প্রকাশ করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। এ নিয়ে তখন তোলপাড় হয় বাংলাদেশে। এ তথ্যচিত্র প্রকাশের পর শুরুতে বিব্রত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন আজিজ আহমেদ। সেই সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকলেও সেখানে এর কোন প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেন।

এ সময় তার ভাইদের পরিচয়পত্র ও অন্যান্য কাগজে তথ্য পরিবর্তনে কোনো প্রভাব খাটাননি বলে দাবি করেন সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, একটা উদাহরণ দেন কোনো জায়গায় আমি কাউকে টেলিফোন করেছি কি না, যে আপনি একে নির্দেশ দিয়েছেন যে এটা করে দেও। এ রকম কোনো এভিডেন্স কি আপনাদের কাছে আছে? প্রমাণ দেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, জেনারেল আজিজের দুই ভাই হারিছ আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ নতুন নাম আর ভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, কত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি লোকজন বিদেশে আছে তাদের কি নিজস্ব নাম পিতৃপরিচয় বা ঠিকানা কি একচুয়েলটা ইউস করছে?

আবেদনপত্রের কোন পর্যায়ে তার অধীন কোন বিজিবি অফিসার যুক্ত ছিলেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এ ধরনের কোনো কিছু হয়েছে কী না আমার কিছু জানা নেই। আর এ ধরনের স্বাক্ষর করা প্রসঙ্গ এসেছিল কী না আমার ঠিক মনে পড়ছে না।

আল-জাজিরার তথ্যচিত্রে, অভিযোগ করা হয়েছিল ইসরায়েল থেকে স্পাইওয়্যার ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ক্রয় প্রক্রিয়ায় জেনারেল আজিজ প্রভাব খাটিয়েছেন। এর উত্তরে তিনি দাবি করেন, কেনাকাটাগুলো যখন হয় তখন সেনাপ্রধান হিসেবে এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। যদিও তিনি দায়িত্ব নেওয়ার একদিন পর নজরদারি প্রযুক্তি ক্রয়ের স্বাক্ষর হয়, তিনি দাবি করেন, প্রক্রিয়াগুলো আগেই সম্পন্ন হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করছি কেউ যদি কোনো একটা ‘এভিডেন্স’ দিতে পারে যে আমি বিজিবিতে থাকাকালে, আমি সেনাপ্রধান থাকাকালীন আমার কোনো ভাই বা আত্মীয়কে বিজিবি বা সেনাবাহিনীর কোনো ‘আর্মস, ইকুয়েপমেন্ট, অ্যামুনেশন প্রক্রিউরম্যান্ট, কন্ট্রাক্ট’ দিয়েছি এটা যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে ‘আই উইল অ্যাকসেপ্ট অ্যানিথিং। আই অ্যাম রেডি। আই এম গিভিং এ চ্যালেঞ্জ।

আল জাজিরার তথ্যচিত্রে জেনারেল আজিজ ও তার একজন কোর্সমেটের কথোপকথন ফাঁস করা হয়। এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আজিজ আহমেদ দাবি করেন অডিওটি সঠিক নয়। ‘ইট ওয়াজ এ কাট অ্যান্ড পেস্ট। ইট ওয়াজ টেম্পার্ড। অনেক কিছু করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জেনারেল আজিজ এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এতদিন আমি ইউনিফর্মে ছিলাম, এটার ব্যাপারে যদি আমি কোনো লিগ্যাল অ্যাকশনের বা ব্যবস্থা নিতাম অনেকে প্রশ্ন করত যে আই এম এক্সারসাইজিং মাই অথরিটি। আই এম মিসইউজিং মাই পাওয়ার। আমি কিন্তু এখন ইউনিফর্মের বাইরে আসছি। আগামী জুনের ২৫ তারিখের পর আমার সম্পূর্ণ রিটায়ারম্যান্ট শুরু হবে। তখন আমি চিন্তা করব হোয়াট কাইন্ড অব লিগ্যাল অ্যাকশন আই শুড টেক এগেইন্সট দিস কাইন্ড অব প্রপাগান্ড অ্যান্ড আদার থিংস।

বাংলাদেশের সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় তাকে। জবাবে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী কী দায়িত্ব পালন করবে তার পরিষ্কার নির্দেশনা ছিল। চাইলেই সেনাবাহিনী যা করার এখতিয়ার নেই। সূত্র: সময় নিউজ টিভি

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com