বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন

আজ ৪ঠা ডিসেম্বর দর্শনা শত্রু মুক্ত দিবস

 

দর্শনা অফিসঃ আজ ৪ঠা ডিসেম্বর দর্শনা শত্রু মুক্ত দিবস । ১৯৭১ সালের এই ৪ঠা ডিসেম্বরে দর্শনার বীরমুক্তিযোদ্ধা সন্তানেরা দর্শনাকে শত্রু মুুুক্ত করেছিল। ১৯৭১ এর ৩রা ডিসেম্বর দিনগত রাতে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী যৌথভাবে পাক-হানাদার বাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমন করে তুমুল যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে পরদিন ৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে দর্শনাকে মুক্ত করে। ৩ ডিসেম্বর দর্শনা আক্রমনের খবর পাওয়ার পর বাংলাদেশ সীমান্তের বারাদি গ্রামের ওপারে ভারতে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প থেকে রাতের খাবার খেয়ে মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার নুর হাকিম, কাসেদ আলী ও আবুল খয়েরের নেত্রীতে ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর ক্যাপ্টেন মুকিত এর নেত্রীত্বে প্রায় ১৫০জন ভারতীয় মিত্রবাহিনী দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দ পুরের নিকট নৌকা দিয়ে রাত ১০ টায় মাথাভাঙ্গা নদী পার হয়। এরপর লোকনাথ পুরের মধ্যের নলগাড়ীর ডানে রাস্তা ধরে কাঁঠাল বাগনের ভিতর দিয়ে গিয়ে পরাণপুর ও ধাঁপাড়ী রাস্তা পার হয়ে বটজল ও গবরা মাঠে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী আবস্থান নেয় বলে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুর হাকিম জানান। এরপর ঐ মাঠে রাতভর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী ব্যাংকার কেটে এ্যাম্বুস নিয়ে রাত ৩টায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। অপর একটি দলে গেরিলা মুত্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমান ও আব্দুস ছামাদের নেত্রীত্বে জীবননগর উথলীর দিক থেকে এবং মোবারক হোসেনের নেত্রীত্বে আর একটি মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী গেদে সীমান্ত থেকে এসে দর্শনায় আবস্থান নেয়। এরপর মিত্রবাহিনীর কমান্ডার মুকিতের নির্দেশে রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরানপুর বেলে মাঠে শান্তিপাড়া সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত পাক-হানাদার বাহিনী কিছু বুঝে উঠার আগেই তাদের উপর অতর্কিত সেল, এসমজি ও এসেলারের গুলি ছুড়ে হামলা শুরু হয়। এসময় পাকবাহিনী পাল্টা গুলি, সেল শুরু করে। শুরু হয় ত্রিমুখি তুমুল যুদ্ধ। প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে থেমে থেমে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক-হানাদার বাহিনী যুদ্ধ করে। শেষ পর্যন্ত না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাক-হানাদার বাহিনী। এসময় পাক-বাহিনী দুধপাতিলা গ্রামের খোরশেদ আলীর কাঁঠাল বাগান থেকে হঠাৎ সেলিং ও গুলি শুরু করে। এ সময় মিত্রবাহিনীর দুইটি ট্যাং এসে পাক-বাহিনীর উপর তুমুল আক্রমন ও গোলা বর্ষন শুরু করলে পাক-বাহিনী আর কোন উপায় না খুজে পেয়ে পালাতে থাকে। এ যুদ্ধে অসংখ্য পাক-সেনা মারা যায়। পাক-হানাদার বাহিনী ভোর ৫টা থেকে দর্শনা ছেড়ে পালাতে থাকে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দর্শনা মুক্ত হয়। এরপর ৪ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে মুক্তি বাহিনী ও মিত্র-বাহিনীর নেতীত্বদানকারী ক্যাপ্টেন মুকিত এর নেত্রীত্বে দর্শনা কেরু চিনিকলের প্রধান কার্যলয়ের সমানে জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে এবং দর্শনা মুক্ত ঘোষণা করেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় উপস্থিত থেকে মিত্র-বাহীনির মিষ্টার বুফে স্যালুট গ্রহন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com