বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:০২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
চুয়াডাঙ্গায় ভারতীয় বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনসহ দুই মাদক কারবারি আটক মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে গাছের সাথে ধাক্কায় দশম শ্রেণির ছাত্র নিহত, আরেক বন্ধু আহত সেনাবাহিনীর জন্য সর্বাধুনিক অস্ত্র কিনছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় আনসার ভিডিপির উপজেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গায় পাওয়ারট্রলির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত, এক নারী আহত চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তার অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে জরিমানা চুয়াডাঙ্গায় গাঁজা গাছসহ হাতিকাটার মুছাহক মন্ডল আটক গাংনীতে মুদিব্যবসায়ীর আত্মহত্যা ব্র্যাকের আয়োজনে নাগরীক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা

৪ ডিসেম্বর: অনিবার্য হয়ে ওঠে হানাদারদের পরাজয়

জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভ। দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা এই অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত বিজয় অর্জন করেছি। ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এই মাসেই বিশ্বের মানচিত্রে সার্বভৌম-স্বাধীন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।

৩ ডিসেম্বরে যৌথ বাহিনীর তীব্র আক্রমণ মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে। ফলে ৪ ডিসেম্বর থেকেই রণাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যৌথ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে পর্যুদস্ত হতে থাকে হানাদাররা। প্রতিটি দিনই যেন শত্রুর পরাজয়ের ক্ষণ গণনা চলছিল।

হানাদারদের পরাজয় যখন অনিবার্য হয়ে ওঠে, তখন সশস্ত্র যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক যুদ্ধও শুরু করে তারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্রের দোসর হয়ে ওঠে। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো দেয়। ফলে বাঙালির স্বপ্ন পূরণ আরও সহজতর হয়ে ওঠে।

একাত্তরে এই দিন সকালে নয়াদিল্লীতে প্রবাসী সরকার ও ভারতীয় প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি তারা পর্যালোচনা করে দেখতে পান- এখন পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর কেউ পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে আটকে পড়েনি বা বন্দী হয়নি। ব্যাপক বিমান হামলায় তাদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হানাদারদের বিমান শক্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চালনা, চাঁদপুর এবং নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য নৌ বন্দরগুলোতে হামলার মাধ্যমে সেখানে নতুন জাহাজ ভেড়ানো বা রসদ আমদানির সামর্থ্য একেবারে নিঃশেষ করে দেওয়া গেছে। এছাড়া এসব যুদ্ধে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি মোটামুটি এড়িয়ে যাওয়া গেছে। পাশাপাশি যৌথ বাহিনী যে কোনো মূল্যে ঢাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাইছে, হানাদারেরা এটা ধারণা করতে পারেনি, তাদেরকে ধোঁকা দেওয়া গেছে। এসব পর্যালোচনা এবং জাতিংসঘে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব বাতিলের কারণে প্রবাসী সরকার এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্ত নেন যে, যুদ্ধ জয়ের জন্য তারা সঠিক পথেই আছেন এবং যৌথ আক্রমণের দ্বিতীয় দিনেও এই কৌশল অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ঘোষণা দেন যে, এই যুদ্ধ ভারতের সঙ্গে চূড়ান্ত যুদ্ধ হবে। পাকিস্তানের বন্ধুরা তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। তবে তিনি কোনও দেশের নাম বলেননি।

উত্তর রণাঙ্গনের ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের পরিকল্পনা অনুসারে ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা কামালপুর ঘাঁটি অবরোধ করেছিলেন। দশ দিনব্যাপী প্রচণ্ড এই যুদ্ধের পর ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের গ্যারিসন কমান্ডার ক্যাপ্টেন আহসান মালিক খানসহ ১৬২ পাকিস্তানি সৈন্য যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। আর কামালপুর মুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়েই সূচিত হয় শেরপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ ঢাকা বিজয়ের পথ। ১০ দিনের ওই যুদ্ধে শহীন হন ১৯৭ মুক্তিযোদ্ধা। অন্যদিকে, এক ক্যাপ্টেনসহ পাকিস্তানি বাহিনীর ২২০ জন সৈন্য এই যুদ্ধে নিহত হন।

একই দিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভারতীয় ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জঙ্গি বিমানগুলো পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে লাগাতার বোমা বর্ষণ করতে থাকে। এসব হামলায় পাকিস্তানি বিমান শক্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। আর সামরিক ঘাঁটিগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই ভেঙে যায়।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া তখন ভারতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করে বলেন, পাকিস্তান যথেষ্ট সহ্য করেছে। আর নয়। পাকিস্তানিরা ‘পাকিস্তানের মাটিতে’ ভারতীয় বাহিনীকে শুধু আক্রমণ করবে না বরং ভারতের সীমান্তেও আঘাত করবে।

এদিকে যৌথ বাহিনীর বিমান হামলা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে লাগাতার গোলাবর্ষণ দেখে মনে করেছিল, সামরিক ঘাঁটি দখল এবং তাদের দিকে এগোনোই বুঝি যৌথ বাহিনীর লক্ষ্য। তাই হানাদারেরা তখনও মূল সড়কগুলোতে শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যুহ গড়ে তোলে। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধারা ভিন্ন কৌশলে লড়াই শুরু করেন।

ইয়াহিয়া যখন এসব হম্বিতম্বি করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছিলের তখন যৌথ বাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এবং ১ নম্বর সেক্টর ক্যাপ্টেন মাহফুজ পশ্চিম অঞ্চল থেকে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হয়ে পূর্বাঞ্চলের দিকে এগুতে থাকেন। তারা পাকিস্তানিদের বিভ্রান্ত করতে তিনি তাদের ক্যাম্পকে পাশ কাটিয়ে অতিক্রম করেন। একইভাবে যশোর, হিলি, সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী প্রভৃতি পাকিস্তানি অঞ্চলে হানাদার বাহিনীর শক্ত ঘাঁটির দিকে না গিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা তাদেরকে পাশ কাটিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়তে শুরু করেন।

শত্রুকে ধোঁকা দেওয়ার এই কৌশল আর লাগাতার হামলার মাধ্যমে শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাত্মক যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের এইদিন দখল মুক্ত হয় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী; গাইবান্ধার ফুলছড়ি; চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা, জীবননগর; সিলেটের বকশীগঞ্জ, কানাইঘাট; কুমিল্লার দেবীদ্বার, বরুড়া ও চান্দিনা; জামালপুরের কামালপুর, লক্ষ্মীপুরসহ আরও কিছু এলাকা। সূত্র: সময় নিউজ টিভি

Please Share This Post in Your Social Media

১২

© All rights reserved © 2020 dailyamaderchuadanga.com