শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:১২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তার অভিযানে দুই দোকান মালিককে জরিমানা, এক দোকান পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ চুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজের ১৫ দিন পর আখক্ষেত থেকে এক ব্যক্তির অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় ভারতীয় বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনসহ দুই মাদক কারবারি আটক মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে গাছের সাথে ধাক্কায় দশম শ্রেণির ছাত্র নিহত, আরেক বন্ধু আহত সেনাবাহিনীর জন্য সর্বাধুনিক অস্ত্র কিনছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় আনসার ভিডিপির উপজেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গায় পাওয়ারট্রলির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত, এক নারী আহত চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তার অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে জরিমানা

রিকশা কোথা থেকে কে প্রথম এনেছিল!

দেশের শহরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান পরিবহন রিকশা। দেশজুড়ে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির ফলে রিকশা গ্রামাঞ্চলেও এখন ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশের শহর থেকে রিকশা উঠে গেলেও ঢাকায় এখন এটি জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। তাই ঢাকাকে অনেকে বলেন রিকশার নগরী। কোনো বিদেশি যদি ঢাকা শহরে পা রাখেন তাহলে প্রথমেই তার চোখে পড়বে রিকশা। মানবচালিত এই বাহনটি আর কোনো দেশেই এত পরিমাণ নেই। তাই হয়তো ঢাকাকে রিকশার নগরী বলেন অনেকে। বিবিসি।
‘রিকশা’ শব্দটি এসেছে জাপানি ‘জিন্রিকিশা’ শব্দ থেকে। যেখানে জিন্ অর্থ মানুষ, রিকি অর্থ শক্তি এবং শা অর্থ বাহন। শব্দগুলো যোগ করলে রিকশার আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় মানুষের শক্তিতে চলা বাহন বা মানুষ চালিত বাহন। তবে শুরুর দিকে কোনো রিকশাই তিন চাকার ছিল না। সেগুলো মূলত দুই চাকায় ভর করে চলত এবং সামনে ছিল লম্বা হাতল। এই হাতল ধরে একজন মানুষ ঠেলাগাড়ির মতো হেঁটে বা দৌড়ে এই রিকশা টেনে নিতেন। সে সময় ‘রিকশা’ বলতে এ ধরনের হাতে টানা রিকশাকেই বোঝানো হতো। পরে দুই চাকার রিকশার ডিজাইন তিন চাকার রিকশায় বিকশিত হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধুমাত্র ঢাকায় বৈধ অবৈধ মিলে প্রায় ১৫ লাখ রিকশা চলাচল করছে। আর পুরো দেশে কি পরিমাণ রিকশা চলছে সেটার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। এই বিপুল পরিমাণ রিকশার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভর করে আছে দেশটির এক বিশাল জনগোষ্ঠী।
গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ২০১৫ সালের প্রকাশনা অনুযায়ী, ঢাকার ৪০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত চলাচলের ক্ষেত্রে রিকশার ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই রিকশার উদ্ভব বাংলাদেশে হয়নি। হয়েছে জাপানে। বেশির ভাগ গবেষণা তাই বলছে। আবার কোনো কোনো গবেষকদের মতে, রিকশা তৈরি করেছেন মার্কিনিরা। রিকশা আবিষ্কারের সঠিক ইতিহাস নিয়ে এমন অনেক মতভেদ আছে।
বাংলাদেশে যে প্যাডেল দেওয়া সাইকেল রিকশার প্রচলন সেটা সিঙ্গাপুর থেকে এসেছে বলে ইতিহাসবিদ ও গবেষক মুনতাসীর মামুনের স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ঢাকা বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষক এম উইলিয়াম স্টিলির ‘রিকশা ইন সাউথ এশিয়া ইন্ট্রোডাকশন টু স্পেশাল সেকশন’ গবেষণা প্রবন্ধে দাবি করা হয়েছে, ১৮৬৯ সালের দিকে জাপানে কাহার-টানা পালকির বিকল্প হিসেবে এই হাতে টানা রিকশার উদ্ভব হয়।
পালকি টানা ছিল কষ্টসাধ্য, গতি ছিল অনেক কম। সে হিসেবে রিকশা অপেক্ষাকৃত দ্রুত বাহন হওয়ায় এটি বাজারে আসতেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দেশটির মিজি সাম্রাজ্যের শাসনামলে এই রিকশা তৈরি হয়। শুরুর দিকে কেবল ভারী মালপত্র বহনের জন্য রিকশা ব্যবহৃত হতো, যা ১৮৭০ সালের পর মানুষের চলাফেরার জনপ্রিয় বাহন হয়ে ওঠে। ওই গবেষণা অনুযায়ী ১৮৭৫ সাল নাগাদ জাপানে রিকশার সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়।
জাপানের ইতিহাসবিদ সিডেনস্টিকারের মতে, রিকশা প্রথম তৈরী করেছিলেন ইজুমি ইয়োসুকি নামের এক রেস্তোরাঁর মালিক, ১৮৬৯ সালে। অবশ্য এই রিকশা আবিষ্কারের পেছনে ইজুমি ইয়োসুকির সঙ্গে আরো দুজনের নাম জুড়ে দেওয়া হয়। তারা হলেন সুজুকি টোকোজিরো ও তাকায়ামা কোসুকি।
মানুষ বহনের কাজে বাহনটি জনপ্রিয়তা পেলে ১৮৭০ সালের জাপান সরকার ওই তিনজনকে এই বাহনটি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি ও বিক্রির অনুমোদন দেয়। রিকশা চালানোর লাইসেন্স হিসেবে এ তিনজনের যেকোনো একজনের অনুমোদনের সিল লাগত। গবেষণায় তাই তাদেরই রিকশা আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে।
এভাবে আস্তে আস্তে রিকশা জাপান থেকে ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। একেক দেশে এই রিকশার গঠন ও আকৃতি একেক রকম, নামও হয় আলাদা। চীনে একে বলা হয় সানলুঞ্চে, কম্বোডিয়ায় সিক্লো, মালয়েশিয়ায় বেকাক, ফ্রান্সে স্লাইকো নামে রিকশা পরিচিতি পায়।
আবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি পেডিক্যাব নামেও পরিচিত। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন দেশে রিকশার প্রচলন ব্যাপক বেড়ে যায়।
উইলিয়াম ই লুইসের থ্রু দ্য হার্টল্যান্ড অন ইউএস বইয়ে বলা হয়েছে, রিকশা আবিষ্কার হয়েছিল ১৮৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ওরচেস্টারে। সেখানকার এক কামার অ্যালবার্ট টোলম্যান দক্ষিণ আমেরিকান মিশনারির চলাচলে সুবিধার জন্য রিকশাটি তিনি আবিষ্কার করেছিলেন।
আবার বার্লিংটন কাউন্টি হিস্ট্রিকাল সোসাইটির গবেষণায় বলা হয়েছে, মার্কিন গাড়ি নির্মাতা জেমস বার্চের জাদুঘরে এ ধরনের একটি রিকশার মডেল প্রথম প্রদর্শন করতে দেখা যায়। সেটাও ১৮৬৭ সালের দিকে। বার্চের দাবি করেছিলেন, এটি তার ডিজাইন করা বাহন। রিকশা আবিষ্কারের পেছনে যেসব দেশের নাম উঠে এসেছে, সেখানকার কোথাও এই বাহনটির কোনো অস্তিত্ব নেই। বরং বাংলাদেশে এসেই এই বাহনটি প্রসার ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মুনতাসীর মামুনের গবেষণা প্রবন্ধ অনুযায়ী রিকশা এসেছে ১৯৩০ এর দশকে ভারত থেকে। আর ভারতে প্রথম রিকশার প্রচলন শুরু হয় ১৮৮০ সালের দিকে সিমলা শহরে। বলা হয়, রেভারেন্ট জে ফরডাইস নামের এক স্কটিশ মিশনারি প্রথম এই রিকশা এনেছেন। এর প্রায় ২০ বছর পর ১৯৯০ সালে সেই রিকশা কলকাতায় আসে। সেখানেও প্রথমে যাত্রী বহনের জন্য নয় বরং মালামাল টানার জন্য রিকশা ব্যবহার করা হতো। কলকাতায় রিকশায় যাত্রী বহন শুরু হয় ১৯১৪ সাল থেকে। তখনকার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ, প্রথমবারের মতো রিকশায় যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দিয়েছিল।
কথিত আছে সেই রেঙ্গুন থেকেই চট্টগ্রামে প্রথম রিকশা আসে ১৯১৯ সালের দিকে। এরপর রিকশা আসে ঢাকায়। ঢাকার রিকশা এসেছিল কলকাতা থেকে। ১৯৩০ এর দশকে। এ কারণে দুই রিকশার কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য ছিল আলাদা।
তবে মুনতাসীর মামুনের গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে ১৯৩০ এর দশকে কলকাতায় প্যাডেল চালিত সাইকেল রিকশা চালু হয়েছিল। এরপর ১৯৩০ এর দশকের মাঝামাঝি সেই রিকশা বাংলাদেশে আসে এবং ১৯৩৭ সালে আসে ঢাকায়। বাংলাদেশে শুরু থেকে এই সাইকেল রিকশার প্রচলন ঘটে, মানুষের হাতে টানা রিকশা নয়।
মুনতাসীর মামুন বলেছেন, সিঙ্গাপুরে গত শতকের ত্রিশের দশকে ব্যাপক হারে সাইকেল রিকশা চালু করা হয়। সেখান থেকে ঢাকাসহ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে মোমিনুল হকের আত্মজীবনীতে এ সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি জানিয়েছেন, ১৯৪০ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের পাট কোম্পানি রেলি ব্রাদার্সের এক কেরানি কলকাতা থেকে একটি রিকশা নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

১৫

© All rights reserved © 2020 dailyamaderchuadanga.com