বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

তরকারি দিতে দেরি হওয়ায় মা’কে খুন, কুলাঙ্গার ছেলে মুকুল আটক, থানায় মামলা

চুয়াডাঙ্গায় কুলাঙ্গার ছেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মা জবেদা বেগম কুপিয়ে খুন করেছে। তরকারি দিতে দেরি হওয়ায় মুকুল হোসেন তার মাকে খুন করে বলে একাধীক সুত্রে জানা গেছে।  শনিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের পিরোজখালী গাজীপাড়ায় ওই ঘটনা ঘটে। নিহত জবেদা বেগম (৫৬) একই এলাকার আসান আলীর স্ত্রী। ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহযোগীতায় ঘাতক ছেলে মুকুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত জবেদা বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল রাতেই নিহতের ভাই বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা করেছে।

এলাকা সুত্রে জানা গেছে, মুকুল হোসেন (৩৪) অনেক আগে থেকেই নেশাগ্রস্থ ছিলো। ৯ বছর আগে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের ববিতা খাতুনের সাথে বিয়ে করে মুকুল হোসেন। বিয়ের ২ বছর মধ্যে তাদের এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহন করে। তার নাম রুহুল আমিন এবং বর্তমানে তার বয়স ৭ বছর। নেশাগ্রস্থ উগ্র মেজাজের মুকুল হোসেনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে বাপের বাড়ী চলে যায় ববিতা খাতুন। পরে, তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটলে রুহুল আমিন তার বাবার কাছেই থাকে। বছর ৪/৫ আগে মুকুল হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করে সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামের রিক্তা খাতুনকে। সেখানেও একই সমস্যা। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে রিক্তা খাতুনও তার বাবার বাড়ীতে চলে যায় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

মুকুল হোসেন তার চেলে রুহুল আমিনকে নিয়ে তার বাবার বাড়ীতেই আলাদা থাকতো। শনিবার বেলা সাড়ে ৪ টার দিকে মুকুল হোসেন রুটি বানিয়ে তার মায়ের কাছে তরকারি চাই। এ সময় জবেদা খাতুন বাড়ীর বারান্দায় বসে ভাত খাচ্ছিলেন। তরকারি দিতে দেরি হওয়ায় রাগে ক্ষোভে সেখানে থাকা ধারালো দা দিয়ে মুকুল তার মা জবেদা বেগমকে এলোপাতাড়ী কোপাতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় জবেদা বেগম বারান্দায় লুটিয়ে পড়ে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান তিনি। মাকে কুপিয়ে নিজের ঘরের ভিতর বসে থাকে মুকুল হোসেন।

এদিকে, দাদির এ অবস্থা দেখে রুহুল আমিন বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানায়। প্রতিবেশীরা খবর দেয় পুলিশকে। সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ সেখানে যায় এবং স্থানীয়দের সহযোগীতায় মুকুল হোসেনকে গ্রেফতার করে।

নিহত জবেদা বেগমের ভাই আলাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, জবেদা বেগমের ২ ছেলে। তার মধ্যে মুকুল হোসেন বড় আর ছোট ছেলে বকুল হোসেন। ৮ বছর আগে বকুল হোসেন মারা যায়। আলাউদ্দিন আলী অভিযোগ করে আরও বলেন, মুকুল হোসেন নেশাগ্রস্থ ছিলো। সে ছিলো উগ্র মেজাজের এবং তার ছোট ভাই বকুল হোসেনকেও সে মারধর করতো। অসুস্থ্য হয়ে মারা যায় বকুল। তিনি আরও বলেন, মুকুল হোসেন নেশাগ্রস্থ ছিল। সে কারণে সে উগ্র মেজারের ছিলো। সবসময় তার মায়ের সাথে খারাপ আচরণ করতো।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, জবেদা বেগমকে তার ছেলে হত্যা করেছে। এর আগেও একাধীকবার তার মাকে হত্যার চেষ্টা করেছে এবং তার মাকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে। শনিবার দুপুরে তার মামাতো ভাই তাদের বাড়ীতে গেলে তাকেও হত্যার চেষ্টা করে মুকুল। এতে জবেদা বেগম বাধা দেয়। সেই ক্ষোভ থেকে এবং খাবার নিয়ে একটি বিবাদের কারনে বিকেলে মুকুল হোসেন তার মাকে দা দিয়ে মাথায় আঘাত করে। প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকান্ডের ঘটনার স্বাক্ষ্য প্রমান পাওয়া গেছে। জবেদা বেগমের ভাই আলাউদ্দিন বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনার পিছনে আর কোন রহস্য আছে কি-না বা এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি-না বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। ময়নাতদন্তের জন্য নিহত জবেদা বেগমের মরহেদ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মের্গ রাখা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com