বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

শরীয়তপুরে সেতু ভেঙে ট্রাক খাদে, নিহত ১

শরীয়তপুর সদর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডে কুরাইশি এলাকার প্রেমতলা- নড়িয়া সড়কে মঙ্গলবার ১০ আগষ্ট সকাল সোয়া ১০টার দিকে সেতু ভেঙে ট্রাক খাদে পড়ে নয়ন নামের একজন নিহত হয়েছে।

নিহত ব্যক্তি হলেন- সদর উপজেলার পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ডের স্বর্ণঘোষ এলাকার মৃত মনির বেপারির ছেলে নয়ন বেপারি (৩৫)

আহত চারজন হলেন- সদর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের স্বর্ণঘোষ এলাকার রহমান হাওলাদারের ছেলে দেলোয়ার হাওলাদার (৩৬), স্বর্ণঘোষ এলাকার ছাদেম সরদারের ছেলে মজিবুর সরদার (৬০), স্বর্ণঘোষ এলাকার আবুল শিকদারের ছেলে আবু তাহের (৪০), সদর পৌরসভা ধানুকা এলাকার গোলাপ খানের ছেলে ছবেদ খান(৫৫)।

পালং থানা পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, দীর্ঘদিন ধরে শরীয়তপুর প্রেমতলা- নড়িয়া সড়কের কালভার্টের নির্মাণ কাজ চলছে। রাস্তার পাশে বিকল্প সড়ক নির্মাণ না করেই এম এম ব্লিডার্ডস ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাস্তার উপরে বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী ভিত্তিতে বেইলি সেতুর পাঠাতান বসিয়ে দেয়। দূর্ঘটনার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই এ পাঠাতনের উপর দিয়েই চলছিলো ভাড়ি যানবাহন। মঙ্গলবার সকালে পঞ্চগড় থেকে কুষ্টিয়া-ট-১১১৬২৬ নাম্বারের একটি ট্রাকে পাথর নিয়ে যাচ্ছিলেন নড়িয়ার উদ্দশ্যে। পথিমধ্যে কুরাইশি নিমার্ণধীন ওই কালভার্টটি পার হওয়ার সময় পাঠাতান ভেঙে খাদে পড়ে ট্রাকটি। এ সময় নির্মাণ কাজে শ্রমিকরা ট্রাকের নিচে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় এলাকা বাসীর সহযোগিতায় শ্রমিকদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় নয়ন সরদারকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করা।

দুর্ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পালং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আকতার হোসেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে।

শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আমজাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন মারা গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল জলিল বেপারি বলেন, সব ব্রিজ নির্মাণের সময় পাশ দিয়ে ডাইভেশন করে থাকে। কিন্তু এটি করার সময় কোন ডাইভেশন করা হয়’নি ব্রিজের ওপর দিয়ে অস্থায়ী ভিত্তিত বেইলী ব্রিজের পাঠাতন বসিয়ে কাজ করছে ব্রিজে। এর আগে কয়েকবার ট্রাক ওঠার সময় ফেসে যায় ট্রাক। তখন সেটে সমাধান না করে ই ব্রিজের কাজ করছিলেন সড়ক ও জনপদ বিভাগ। গত কয়েকদিন আগে সামনে আরেকটি ব্রিজের একই ভাবে কাজ করছে। সেখানে দুর্ঘটনা হয়ে একজন মারা যায়।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান জানান, গাড়ি ওভারলোড হওয়াতে এ দূর্ঘটনা ঘটে। এতে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কোন ত্রুটি ছিলো না। ওভারলোড করার দায়ে সড়ক আইনে যে ধারা আছে, গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে সে ধারায় মামলা দায়ের করা হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মন্দীপ ঘরাই জানান, দূর্ঘটনার তথ্য পেয়ে, তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। নিহতের পরিবারে খোঁজ খবর নিচ্ছি এবং যারা আহত হয়েছে হাসপাতালে গিয়ে তাদেরও খোঁজ খবর নিয়েছি। নিহতের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। দূর্ঘটনার কারন সম্পর্কে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে লিখিক প্রতিবেদন প্রেরণ করেছি। সূত্র: খোলাকাগজ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com