লালমনিরহাট জেলা শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা গোশালা রোডে অতিরিক্ত লোডের কারণে সৃষ্ট তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে ইতোমধ্যে জায়গার জটিলতা কাটিয়ে নতুন একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে গোশালা রোডের মাত্র একটি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে ওই এলাকার সাতটি ব্যাংক, স্বপ্ন, বাটা ও অ্যাপেক্স শো-রুমসহ শতাধিক দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। চাহিদার তুলনায় লোড মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় ট্রান্সফরমারটি প্রায়ই বিকল হয়ে যেত। সর্বশেষ গত তিন দিন আগে ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যাওয়ায় পুরো গোশালা রোডের ব্যবসায়ীগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হন এবং ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন করতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি নেসকো পিএলসি লোড বিভাজনের লক্ষ্যে আরেকটি ট্রান্সফরমার স্থাপনের উদ্যোগ নিলেও পার্শ্ববর্তী দোকানদারদের বিরোধিতার কারণে উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছিল না।
ব্যবসায়ীদের এই তীব্র ভোগান্তি ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে অবশেষে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন এই অচলাবস্থা নিরসনে হস্তক্ষেপ করে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ রাসেল মিয়া নেসকো কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে একটি উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করেন। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরীফুল ইসলাম ও লালমনিরহাট নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী রায়হান মাহমুদ ঘটনাস্থলে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে পিলার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করেন এবং এর পরপরই ট্রান্সফরমার স্থাপনের মূল কাজ শুরু করা হয়।

আশা করা যাচ্ছে, আজ রাতের মধ্যেই ট্রান্সফরমার স্থাপনের যাবতীয় কারিগরি কাজ সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। নতুন এই ট্রান্সফরমারটি চালু হলে গোশালা রোডের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত চাপ হ্রাস পাবে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ব্যাংকগুলোর জন্য একটি স্থায়ী, ঝুঁকিমুক্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করবে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন ও নেসকোর এই যৌথ ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।