
লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালু করতে সরকার উদ্যোগ নিতে চায় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান (অতিরিক্ত সচিব)।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে মোগলহাট স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক গুরুত্ব ও অবকাঠামোগত সম্ভাবনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “মোগলহাট স্থলবন্দরটি দেশের অন্যতম পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী বন্দর। একসময় এ বন্দর দিয়ে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হতো। বন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার আন্তরিক। সম্ভাব্যতা যাচাই করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জি. আর. সারোয়ার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল পাটোয়ারী সাজুসহ কাস্টমস ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, মোগলহাট বন্দর পুনরায় সচল করার বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই মোগলহাট ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের গীতালদহ হয়ে আসামসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে এ রুটে সরাসরি রেল ও সড়ক যোগাযোগ ছিল। মোগলহাট শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে কয়লা ও পাথর আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা হতো।
তবে ২০০২ সালের দিকে ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনে বাংলাদেশ-ভারত সংযোগকারী রেলসেতু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সড়ক যোগাযোগ ও শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে কাস্টমস অফিস, রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালু হলে দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে বুড়িমারী স্থলবন্দরের ওপর চাপ কমবে এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ ও গতিশীল হবে। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এর আগে সকালে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান মোগলহাট এলাকার বিভিন্ন জরাজীর্ণ অবকাঠামো, পরিত্যক্ত শুল্ক স্টেশন এবং সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।