
চুয়াডাঙ্গায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ হেরোইন, বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন ও গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), জেলা কার্যালয়। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলার দামুড়হুদা ও সদর থানা এলাকায় পৃথক অভিযানে এই সাফল্য অর্জিত হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ বদরুল হাসান এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম দামুড়হুদা থানাধীন দশমী পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। দুপুর ১:৩০ ঘটিকা থেকে বিকাল ৩:০০ ঘটিকা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে মোঃ আতিয়ার রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তির বসতঘর তল্লাশি করা হয়।তল্লাশিকালে আতিয়ার রহমানের পরিহিত লুঙ্গির কোঁচর থেকে পলিথিনে মোড়ানো ১০ গ্রাম লুজ হেরোইন উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা।
অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
মোঃ আতিয়ার রহমান (৪০): পিতা- মৃত হযরত আলী, সাং- দশমী পাড়া, দামুড়হুদা। (তার নিকট থেকে ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার)। আব্দুস সামাদ (৫৩): পিতা- মৃত একসেদ মন্ডল, সাং- বুজরুগগড়গড়ী, চুয়াডাঙ্গা সদর। (তার নিকট থেকে ০২ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার)। মোঃ তপু মিয়া (৩২): পিতা- মৃত খোকন মিয়া, সাং- দক্ষিণ গোরস্থান পাড়া, চুয়াডাঙ্গা সদর। (তার নিকট থেকে ২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার)।
অভিযান চলাকালীন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আশিস মমতাজ ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি অপরাধের ধরন অনুযায়ী দুই আসামিকে তাৎক্ষণিক সাজা প্রদান করেন:
আব্দুস সামাদকে (২ নং আসামি) মাদক সেবন ও বহনের দায়ে ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১,০০০/- (এক হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
মোঃ তপু মিয়াকে (৩ নং আসামি) গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরা পড়ায় ০১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০/- (একশ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।অন্যদিকে, ১ নং আসামি আতিয়ার রহমানের নিকট থেকে বাণিজ্যিক পরিমাণ হেরোইন উদ্ধার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পরিদর্শক মোঃ বদরুল হাসান বাদী হয়ে দামুড়হুদা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলাকে মাদকমুক্ত করতে তাদের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা সর্বদা সজাগ রয়েছেন।গ্রেফতারকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অন্য আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।