১০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোয়ালমারীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধের অভিযোগ, দুই শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে অভিভাবকদের ক্ষোভ

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিন রেনিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের বার্ষিক পরীক্ষা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি, বুধবার নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী উক্ত বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা মোঃ জাহিদুল ইসলাম এবং বোয়ালমারী উপজেলার হাটখোলার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা মোঃ রাকিবুল হাসান মিলনের নেতৃত্বে ৪/৫টি মোটরসাইকেলযোগে আরও ৪/৫ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, তারা বিদ্যালয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে পরীক্ষার কার্যক্রমে বাধা দেন এবং পরীক্ষা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানালে প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তার সঙ্গে থাকা শিক্ষকরা জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষ থেকে বের করে দেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে অভিভাবকদের বাকবিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো তালাবদ্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এর ফলে নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে এবং তাদের শিক্ষা জীবনের জন্য এটি চরম হুমকিস্বরূপ। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক মহল।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে বসেই রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত থাকেন। এক অভিভাবক বলেন, “প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত ড্রাইভার হিসেবে সহকারী শিক্ষক সাজেদুল ইসলাম কাজ করেন। বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে দুজন অন্যত্র চলে গেছেন। এতে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”
অন্য অভিভাবক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় আমরা প্রধান শিক্ষকের বদলি চাই।”
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিনের পুত্রবধূ রুলিয়া পারভিন বলেন, “প্রধান শিক্ষক চেয়ারে বসে সারাক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করেন। কিছু বললে বলেন, তিনি মেইল চেক করছেন। তিনি কি উপজেলা অফিসে চাকরি করেন যে সারাক্ষণ মোবাইল চেক করতে হবে?”
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ওনাদের নিজেদের মধ্যে ভাই-ভাই দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমি মফিজুল আমিনের ছেলেকে প্রথম না করায় তারা ক্ষুব্ধ। একজন ভ্যানচালকের সন্তান ভালো পড়াশোনা করলে সেও তো প্রথম হতে পারে।”
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রকিবুল হাসান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত টিম বিদ্যালয়ে গিয়েছিল। তারা এখনো রিপোর্ট জমা দেয়নি। রিপোর্ট পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গায় আপ টু ড্রাই ক্লিনার্স এন্ড হোম সার্ভিস শোরুম উদ্বোধন

বোয়ালমারীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধের অভিযোগ, দুই শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে অভিভাবকদের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৭:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিন রেনিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের বার্ষিক পরীক্ষা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি, বুধবার নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী উক্ত বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা মোঃ জাহিদুল ইসলাম এবং বোয়ালমারী উপজেলার হাটখোলার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা মোঃ রাকিবুল হাসান মিলনের নেতৃত্বে ৪/৫টি মোটরসাইকেলযোগে আরও ৪/৫ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, তারা বিদ্যালয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে পরীক্ষার কার্যক্রমে বাধা দেন এবং পরীক্ষা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানালে প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তার সঙ্গে থাকা শিক্ষকরা জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষ থেকে বের করে দেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে অভিভাবকদের বাকবিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো তালাবদ্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এর ফলে নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে এবং তাদের শিক্ষা জীবনের জন্য এটি চরম হুমকিস্বরূপ। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক মহল।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে বসেই রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত থাকেন। এক অভিভাবক বলেন, “প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত ড্রাইভার হিসেবে সহকারী শিক্ষক সাজেদুল ইসলাম কাজ করেন। বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে দুজন অন্যত্র চলে গেছেন। এতে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”
অন্য অভিভাবক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় আমরা প্রধান শিক্ষকের বদলি চাই।”
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিনের পুত্রবধূ রুলিয়া পারভিন বলেন, “প্রধান শিক্ষক চেয়ারে বসে সারাক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করেন। কিছু বললে বলেন, তিনি মেইল চেক করছেন। তিনি কি উপজেলা অফিসে চাকরি করেন যে সারাক্ষণ মোবাইল চেক করতে হবে?”
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ওনাদের নিজেদের মধ্যে ভাই-ভাই দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমি মফিজুল আমিনের ছেলেকে প্রথম না করায় তারা ক্ষুব্ধ। একজন ভ্যানচালকের সন্তান ভালো পড়াশোনা করলে সেও তো প্রথম হতে পারে।”
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রকিবুল হাসান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত টিম বিদ্যালয়ে গিয়েছিল। তারা এখনো রিপোর্ট জমা দেয়নি। রিপোর্ট পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”