
দামুড়হুদাকে মাদক পল্লীতে রূপান্তরিত করতে বেপরোয়া মাদকচক্র সিন্ডিকেট;ফেনসিডিলের স্থান দখল করেছি ইয়াবা ?
স্টাফ রিপোর্টার:
মাদক যেন ফেরিওয়ালার বাদাম,দামুড়হুদাকে মাদক পল্লীতে রূপান্তরিত করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক সিন্ডিকেট চক্রের সক্রিয় সদস্যরা।মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানা পুলিশ সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা না থাকায় দামুড়হুদা সদর সহ উপজেলার সকল ইউনিয়নে গ্রামসমূহে মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা আশঙ্কা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছেন বলে স্থানীয় সহ একাধিক তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।তবে অন্যান্য মাদকদ্রব্যকে পিছনে ফেলে বর্তমানে যে মাদকদ্রব্য শীর্ষ স্থানে রয়েছে তা হলেন ইয়াবা।ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই দামুড়হুদার সদর ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক অভিভাবক,মহল্লা বাসী,
ব্যবসায়ীবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার একাধিক মানুষ মাদকদ্রব্য নির্মূলের সংবাদ প্রকাশের জন্য এই প্রতিবেদকের মুঠোফোনে একাধিক অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়,হতাশা,আর দুঃখজনক হলেও সত্য যে,বর্তমানে দামুড়হুদা উপজেলার ৭ নম্বর সদর ইউনিয়ন পরিষদ সহ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে হাত বাড়ালে মিলছে মাদকদ্রব্য।মাদকের অবাধ বিচরণের ফলে চুরি আতঙ্কে আতঙ্কিত রয়েছেন মহল্লাবাসী সহ স্থানীয়রা। দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নটিতে নতুন পুরাতন মিলিয়ে শতাধিক মাদকদ্রব্য বিক্রেতা করছেন।ফলে চিহ্নিত এসব মাদক ব্যাবসায়ীদের কাছে প্রতিনিয়তই নিত্যনতুন মাদকসেবী আর অপরিচিত মুখের আনাগোনা বৃদ্ধি পাচ্ছেন এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পুলিশ বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রশ্ন উঠেছে।মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে,প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান বাড়াতে হবে বলে সচেতন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরামর্শ।
দীর্ঘ এক মাসও বেশি সময়ের অনুসন্ধান বলছেন,”কারো পৌষ মাস,কারো সর্বনাশ”গেল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরপর পুলিশ বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে পুরো উপজেলর মাদক ব্যবসার অবাধ বিস্তৃতি দেখা যাচ্ছে।এরই ধারাবাহিকতায় দামুড়হুদার সদর উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডের আনাছে কানাছে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদকদ্রব্য ইয়াবা,গাজা, নেশা জাতীয় ইনজেকশন।দিন কিংবা রাতের আঁধারে অবাধে মাদক ব্যবসায়রা দাফিয়ে বেড়ানোর ফলে চরম উদ্বিগ্ন আর হতাশা প্রকাশ করছেন উপজেলার শান্তিপ্রিয় সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।অতীতের যে কোন সময়ের চাইতে বহুগুণে মাদকদ্রব্য বিক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও দাবি তাদের।তারা এও বলছেন,বিগত সরকার পতনের সাথে সাথে পুলিশের কার্যক্রম কিছুটা থেমে যায়,এই সুযোগটাকে মাদক ব্যবসায়ী সহ অপরাধী কাজে লাগিয়ে রমরমা মাদকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করে অপরাধ প্রবণতা চালিয়ে যাচ্ছেন।ফলে
আপাত;দৃষ্টিতে মনে করা হচ্ছে যেন দেখবার কেউই নায়।বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র বলছে,বর্তমান দামুড়হুদা সদরে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫/৭ হাজারের মতো ইয়াবা ট্যাবলেট মুড়ির মত বিক্রি হয়ে আসছেন।এদের বেশিরভাগই ক্রেতার বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে যাদের বেশিরভাগই স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী।এমন তথ্যর চিত্রে স্বাভাবিক ভাবে বোঝা যায় যে, দামুড়হুদা উপজেলার মাদকদ্রব্যের বিস্তার কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
সূত্র বলছে,উপজেলাটির দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নটি ৯টি ওয়ার্ড দ্বারা গঠিত।এদের মধ্যে-উজিরপুর ফকিরপাড়া (১), পুড়াপাড়া-কেশবপুর-কুশাঘাটা(২),দশমী পার-দামুড়হুদা(৩),দামুড়হুদা(৪),চিৎলা গোবিন্দহুদা(৫),দেউলি-বদনপুর-নাপিতখালী(৬),হাতিভাঙ্গা(৭), মুক্তারপুর(৮),উত্তর চাঁদপুর ও পাঠাচোরা(৯)।এই নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাদকের সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র’র শীর্ষ স্থানে রয়েছেন দশমী,পারদামুড়হুদা-৩, দামুড়হুদা-৪ ও চিৎলা-গোবিন্দহুদা ৫ নম্বর ওয়ার্ড।পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে রয়েছেন-৬,১,৭,৮,২ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড।এই ইউনিয়নের মধ্যে ছোট বড় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী থাকলেও ছয়টি শক্তিশালী মাদকের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছেন।এ সকল মাদক ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকেই দামুড়হুদার তরুন ও যুব শক্তিকে ধ্বংস করতে মারিয়া।শক্তিশালী মাদকের সিন্ডিকেট মধ্যে এক নারী ইয়াবা ব্যাবসায়ীর তথ্য পাওয়া গেছে।মাদকের এ ভয়াবহতার সঙ্গে কিশোর-তরুণ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জড়িত রয়েছেন।এরা প্রত্যেকেই অর্থের বিনিময়ে মাদকদ্রব্য হেরোইন ইয়াবা ফেনসিডিল গাঁজা তুলে দিচ্ছে তাদের সন্তান কিংবা ভাই সমতুল্য কিশোর-তরুন-যুব তথা আগামীর প্রজন্মের হাতে।বর্তমানে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া মহল্লার অলিগলি,ঝোপঝাড়,নদীরতীর,পুকুরপাড়,স্কুল ও খেলার মাঠে সবখানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদকদ্রব্য।ফলে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে হেরোইন,ইয়াবা,গাঁজা ও নেশাতে ইনজেকশনের মতন ভয়াবহ সব মাদকদ্রব্য।
একাধিক ওয়ার্ডের স্থানীয় ব্যক্তি,অভিভাবক আতঙ্কিত কন্ঠে মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ বিস্তার ও
তাদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন।তারা বলছেন,কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত অবধি মাদক ব্যবসায়ীর আনাগোনা শব্দে চিন্তিত,উদ্বিগ্ন।এমন অবস্থায় নিজেদের পাশাপাশি গোয়ালের গরু,ছাগল সহ মূল্যবান জিনিস চুরি যাওয়ার আতঙ্কে আতঙ্কিত সকলেই।এদের অনেকেই নিরাপত্তা স্বার্থে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা সহ প্রধান ফটকের সামনে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়েছেন।পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের অবাধ বিচরণের ফলে মহল্লাবাসীকে রাতে নিদ্রায় যেতে হচ্ছে কপালে চিন্তার ভাজ নিয়ে।এরই মধ্যেও মাঝেমধ্যে উঠে দেখতে হচ্ছে গোয়ালের গরু ছাগল সহ উপার্জনের একমাত্র সম্বল ব্যাটারীর চালিত ভ্যান সহ ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহন সহ মূল্যবান কিছু চুরি গিয়েছে কিনা?দিনের আলোতে প্রকাশ্যে একজন মাদক ব্যবসায়ী তার সন্তান কিংবা ভাই সমতুল্য ব্যক্তির হাতে অর্থের বিনিময় কেমন করে ভয়াবহ সব মাদকদ্রব্য তুলে দিচ্ছেন,যা দেখলেই অবাক হতে হয়। চরম উদ্বেগের বিষয়ে যে,যারা প্রতিনিয়ত মাদক ব্যাবসায়ীদের নিকট মাদকদ্রব্য সেবনের জন্য কিনতে আসছেন তাদের প্রত্যেকের বয়স বেশিরভাগই ১৪ থেকে ২০ এর মধ্যে।
শিক্ষক,ব্যবসায়ী,মহল্লাবাসী সর্বোপরি স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন,বর্তমানে যে মাদকটিতে দামুড়হুদা উপজেলা তথা দেশে ধ্বংস করে দিচ্ছে তা হচ্ছে ইয়াবা।ফেন্সিডিলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ইয়াবার রাজত্ব বৃদ্ধি পেয়েছেন।পাশাপাশি সমান তালে চলছে হেরোইন, গাঁজা, ইঞ্জেকশন ও মদ।ইয়াবার বাজারটি এতই সহজলভ্য পড়ে গেছে যে,স্কুল পড়া শিক্ষার্থীরাও এটা খুব সহজেই পেয়ে যাচ্ছে।যদিও বিভিন্ন প্রত্রিকার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন স্থানে কমবেশি ইয়াবা জব্দ হওয়ার খবর খবর পাওয়া যাচ্ছে, তথাপিও এর বাজার একটুও কমেনি।বরং ইয়াবা বাজারের নেটওয়ার্ক প্রতিনিয়তই প্রসার লাভ করছে এবং তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।ফলে উপজেলা সদরসহ মাদকের এই নীল নেশার থাবা বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন উপজেলার এই প্রান্তে থেকে ও প্রান্তে।দামড়হুদা সদর ইউনিয়ন সহ সকল ইউনিয়নের মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়াবহ বিস্তারের জন্য,গাঁজা ও ইয়াবা, হেরোইন, নেশা জাতীয় ইনজেকশন প্রভৃতি নামক নেশায় জড়িয়ে পড়েছেন হাজার হাজার তরুণ,যুবক ও কিশোররা।এখনই মরণ নেশা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ও কঠোর ভূমিকা না নিলে যুব সমাজকে কোনভাবেই রক্ষা করা যাবে না।ফলে এ হতভাগ্য জাতির পুনরুত্থানের স্বপ্ন অচিরেই ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবেন।আমাদের সমাজ তথা দেশে তরুণদের ঐতিহ্য রয়েছে, সংগ্রামের, যুদ্ধজয়ের ও প্রতিবাদের আজ সেই তরুণ নিঃস্ব হচ্ছে মরণ নেশার কড়াল ছোবলে, ধাবিত হচ্ছে সমাজ,সেজন্য এখনই সমাজ থেকে মাদক ব্যবসার শিখর উপরে ফেলে সুন্দর সমাজ উপহারের জন্য ভূমিকা রাখা সময়ের দাবি।
দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুরশেদ বীন ফয়সাল বলেন,জুয়া এবং মাদকদ্রব্য ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি।মাদক কিংবা জুয়া একজন ব্যক্তির পাশাপাশি সমাজ এবং পরিবার তছনছ করে দেন। মাদক এবং জুয়া এই শব্দ দুটির ব্যাখ্যা বৃহৎ সময় সাপেক্ষ।বর্তমান সমাজে কিশোর থেকে শুরু করে স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীরা সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ব্যক্তিরা ব্যাপকভাবে ইয়াবার,হেরোইন আর গাঁজার দিকে আসক্ত হয়ে পড়েছেন,এর মধ্যে বড় বিষয় হচ্ছে এরা নেশা ততো ইনজেকশনও নিচ্ছেন,যা সত্যিকার অর্থে চরম উদ্বেগের বিষয়।এ থেকে উত্তরণের এখনই সময়,একটাই পথ- সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি’র)নজরদারি বাড়ানো সহ স্থানীয় প্রশাসনের উচিত হবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীকে কঠোর শাস্তি’র আনা, সর্বোপরি মাদক নির্মূলে সামাজিক রাজনৈতিকভাবে সোচ্চার থাকা জরুরী।
স্থানীয় প্রশাসন সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষর প্রতি মাদকের ডিলার ও কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে
দামুড়হুদা থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির বলেন,বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন তথা উপজেলার সকল গ্রামের মাদকের ভয়াবহতা বেড়েছে।পাশাপাশি মাদকে পুরো উপজেলার গোটা এলাকা জুড়ে সয়লাব হয়ে গেছে।যথাযথ প্রশাসনের মাদকের নজরদারি কম থাকার ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদকের চক্র। পাশাপাশি সমাজ তথা পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।তিনি আরো বলেন,আমাদের সন্তানদের তথা আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আপনার সন্তান কার সাথে মিশছে কোথায় যাচ্ছে খেয়াল রাখতে হবে।সর্বোপরি রাজনৈতিক এই নেতা বলেন,দলের কেউ যদি মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকে কিংবা মাদকের পক্ষে তদবির করেন তাকেও আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রতিনিধির নাম 













