
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের রাইসার বিল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের পাশ থেকে ‘জয় বাংলা’ লেখা একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহভাজন বস্তুটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টার দিকে রাইসার বিল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসা কয়েকজন ব্যক্তি প্রধান ফটকের পাশে একটি সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন। লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো বস্তুটির গায়ে স্পষ্ট অক্ষরে ‘জয় বাংলা’ লেখা ছিল। বিষয়টি দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তারা মৎস্য কমিটির সদস্যদের বিষয়টি জানান এবং জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত দর্শনা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।
খবর পাওয়ার পরপরই দর্শনা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে ফেলে সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং বোমাসদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে থানায় নিয়ে যান।
এদিকে, উদ্ধার হওয়া বস্তুটিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা থাকায় এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আব্দুর রশিদ দাবি করেন, “উদ্ধার হওয়া বস্তুটিতে ‘জয় বাংলা’ লেখা থাকাটা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত হতে পারে। আমাদের ধারণা, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমর্থকরা এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে বা নাশকতামূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি রেখে থাকতে পারে।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি এবং সন্দেহজনক বস্তুটি উদ্ধার করেছি। বর্তমানে বস্তুটি থানা হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করেছি।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি প্রকৃতপক্ষেই কোনো শক্তিশালী বিস্ফোরক কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য অভিজ্ঞ বোম ডিসপোজাল ইউনিট বা বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাইসার বিল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি অত্যন্ত জনবহুল একটি এলাকা। এখানে পরিকল্পিতভাবে এমন বস্তু রাখা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নাঈম উদ্দীন, স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা 






















