০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৈঠক শেষে ট্রাম্পের ‘রহস্যজনক নীরবতা’ কি ঝড়ের আগের পূর্বাভাস

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ Time View

পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার তুলনায় এবারের আলোচনায় অনেক বেশি অমীমাংসিত ইস্যু এবং যুদ্ধকালীন সংকট নিয়ে দরকষাকষি হয়েছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনার ব্যর্থতা এবং তেহরানের ওপর দেওয়া ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ নিয়ে কথা বললেও খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। ট্রাম্পের এই দীর্ঘ নীরবতাকে সাংবাদিক জেমস বেস ‘বধিরকারী নীরবতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দিন আগেও ট্রাম্প যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধের হুমকি দিয়ে বলছিলেন যে ‘একটি পুরো সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে’, সেই তুলনায় এখনকার এই নিথরতা অত্যন্ত রহস্যজনক। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে ১০ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পাকিস্তান সরকার চায় এই সময়টুকু যেন অন্তত শান্তিতে অতিবাহিত হয়।

কিন্তু হোয়াইট হাউসের প্রধান নীতি-নির্ধারক ট্রাম্পের মৌনতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ওয়াশিংটন হয়তো পর্দার আড়ালে অন্য কোনো বড় ধরনের সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং ইরান চাইলে এটি নিয়ে পুনরায় ফিরে আসতে পারে, তবে ট্রাম্পের সরাসরি অনুমোদন ছাড়া এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ কতটুকু তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ইসলামাবাদে গত ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনার পর কূটনীতির পথ কি আসলেই রুদ্ধ হয়ে গেছে নাকি এটি কেবল বড় কোনো ঝড়ের আগের পূর্বাভাস, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় প্রশ্ন। ইসরায়েল বাদে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান এই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার পক্ষে থাকলেও ট্রাম্পের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া পুরো পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে হরমোজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল পানিসীমায় নৌ-অবরোধ বা নতুন করে বিমান হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। কূটনীতির অন্য পিঠ যে ভয়াবহ যুদ্ধ হতে পারে, সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে বিশ্ববাসী এখন হোয়াইট হাউসের পরবর্তী বার্তার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

বর্তমান সংকট নিরসনে এই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি সময়টুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। যদি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওয়াশিংটন থেকে কোনো ইতিবাচক সংকেত না আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্পের অনড় অবস্থান এবং তেহরানের ‘অযৌক্তিক দাবি’ প্রত্যাখ্যান করার প্রবণতা শান্তি প্রক্রিয়াকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। এমতাবস্থায় কেবল ট্রাম্পের একটি বক্তব্যই নির্ধারণ করতে পারে যে বিশ্ব কি শান্তির পথে এগোবে নাকি ধ্বংসাত্মক সংঘাতের দিকে ফিরে যাবে।

সূত্র: আল জাজিরা

Tag :
এখন আলোচনায়

বৈঠক শেষে ট্রাম্পের ‘রহস্যজনক নীরবতা’ কি ঝড়ের আগের পূর্বাভাস

আপডেট সময় : ০২:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার তুলনায় এবারের আলোচনায় অনেক বেশি অমীমাংসিত ইস্যু এবং যুদ্ধকালীন সংকট নিয়ে দরকষাকষি হয়েছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনার ব্যর্থতা এবং তেহরানের ওপর দেওয়া ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ নিয়ে কথা বললেও খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। ট্রাম্পের এই দীর্ঘ নীরবতাকে সাংবাদিক জেমস বেস ‘বধিরকারী নীরবতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দিন আগেও ট্রাম্প যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধের হুমকি দিয়ে বলছিলেন যে ‘একটি পুরো সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে’, সেই তুলনায় এখনকার এই নিথরতা অত্যন্ত রহস্যজনক। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে ১০ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পাকিস্তান সরকার চায় এই সময়টুকু যেন অন্তত শান্তিতে অতিবাহিত হয়।

কিন্তু হোয়াইট হাউসের প্রধান নীতি-নির্ধারক ট্রাম্পের মৌনতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ওয়াশিংটন হয়তো পর্দার আড়ালে অন্য কোনো বড় ধরনের সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং ইরান চাইলে এটি নিয়ে পুনরায় ফিরে আসতে পারে, তবে ট্রাম্পের সরাসরি অনুমোদন ছাড়া এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ কতটুকু তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ইসলামাবাদে গত ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনার পর কূটনীতির পথ কি আসলেই রুদ্ধ হয়ে গেছে নাকি এটি কেবল বড় কোনো ঝড়ের আগের পূর্বাভাস, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় প্রশ্ন। ইসরায়েল বাদে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান এই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার পক্ষে থাকলেও ট্রাম্পের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া পুরো পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে হরমোজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল পানিসীমায় নৌ-অবরোধ বা নতুন করে বিমান হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। কূটনীতির অন্য পিঠ যে ভয়াবহ যুদ্ধ হতে পারে, সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে বিশ্ববাসী এখন হোয়াইট হাউসের পরবর্তী বার্তার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

বর্তমান সংকট নিরসনে এই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি সময়টুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। যদি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওয়াশিংটন থেকে কোনো ইতিবাচক সংকেত না আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্পের অনড় অবস্থান এবং তেহরানের ‘অযৌক্তিক দাবি’ প্রত্যাখ্যান করার প্রবণতা শান্তি প্রক্রিয়াকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। এমতাবস্থায় কেবল ট্রাম্পের একটি বক্তব্যই নির্ধারণ করতে পারে যে বিশ্ব কি শান্তির পথে এগোবে নাকি ধ্বংসাত্মক সংঘাতের দিকে ফিরে যাবে।

সূত্র: আল জাজিরা