০৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ধবলগুড়ি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নাগরিক মোঃ আলী হোসেন (৪৯) নিহত হয়েছেন। এর এক দিন আগেও একই সীমান্তে বাংলাদেশী তরুণ মিজানুর রহমান মিজানকে গুলিতে আহত করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছিল বিএসএফ।

লালমনিরহাট ‎তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলী হোসেনের মরদেহ বর্তমানে ভারতীয় হাসপাতালে আছে।

বিজিবি’র প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, আলী হোসেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানার ধবলগুড়ি (পূর্ব পানিয়ারটারী) গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।

বিজিবি’র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫–এস সংলগ্ন শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভারতের ভেতরে সাতগ্রাম ক্যাম্প এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টা ৫০মিনিটে একটি গুলি ও ভোর ৪টা ৫০মিনিটে আরেকটি গুলি ছোড়া হয়। পরে সকাল আনুমানিক ৬টা ৩৫মিনিটে উভয় দেশের ব্যাটালিয়ন অধিনায়কদের মধ্যে মুঠোফোনে কথা হয়।

এ সময় বিএসএফের পক্ষ থেকে পাওয়া ভাষ্য অনুযায়ী জানা যায়, সাত থেকে আট বাংলাদেশী নাগরিক ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে গেলে বিএসএফের সদস্যরা প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি করেন। এক পর্যায়ে চোরাকারবারীদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশী নাগরিক আলী হোসেন ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিএসএফের সদস্যরা মরদেহটি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে স্থানীয় ভারতীয় হাসপাতালে পাঠান।

লালমনিরহাট তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান। বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবির এই অধিনায়ক বলেন, গত সোমবার পাটগ্রামের ধবলসূতি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী তরুণ মিজান আহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিপক্ষ বিএসএফের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে তাদের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা আমাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে বাংলাদেশী গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ হয়। কিন্তু এরপর পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক আলী হোসেন নিহত হলেন। ঘটনাটি দুঃখজনক। তাঁকে গুলি না করে আটকের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ হলে ভালো হতো। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি পতাকা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আমরা সীমান্তে গুলি নয়, বিকল্প ব্যবস্থা চাই, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। পাশাপাশি উভয় দেশের নাগরিকদের সীমান্ত আইন মেনে চলতে আহ্বান জানাচ্ছি।

লালমনিরহাট ‎তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)’র অপর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ১১টা হতে ১১টা ১৫মিনিট পর্যন্ত তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) এর অধীনস্থ ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস এর নিকটবর্তী সাতগ্রাম নামক স্থানে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে স্পট মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম এবং বিএসএফ এর পক্ষে নেতৃত্বে দেন ১৫৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট শ্রী সৌরভ এবং সাথে ১জন স্টাফ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

শ্রীকোল-বোয়ালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি,’২৬ বিদায় ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ধবলগুড়ি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নাগরিক মোঃ আলী হোসেন (৪৯) নিহত হয়েছেন। এর এক দিন আগেও একই সীমান্তে বাংলাদেশী তরুণ মিজানুর রহমান মিজানকে গুলিতে আহত করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছিল বিএসএফ।

লালমনিরহাট ‎তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলী হোসেনের মরদেহ বর্তমানে ভারতীয় হাসপাতালে আছে।

বিজিবি’র প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, আলী হোসেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানার ধবলগুড়ি (পূর্ব পানিয়ারটারী) গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।

বিজিবি’র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫–এস সংলগ্ন শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভারতের ভেতরে সাতগ্রাম ক্যাম্প এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টা ৫০মিনিটে একটি গুলি ও ভোর ৪টা ৫০মিনিটে আরেকটি গুলি ছোড়া হয়। পরে সকাল আনুমানিক ৬টা ৩৫মিনিটে উভয় দেশের ব্যাটালিয়ন অধিনায়কদের মধ্যে মুঠোফোনে কথা হয়।

এ সময় বিএসএফের পক্ষ থেকে পাওয়া ভাষ্য অনুযায়ী জানা যায়, সাত থেকে আট বাংলাদেশী নাগরিক ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে গেলে বিএসএফের সদস্যরা প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি করেন। এক পর্যায়ে চোরাকারবারীদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশী নাগরিক আলী হোসেন ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিএসএফের সদস্যরা মরদেহটি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে স্থানীয় ভারতীয় হাসপাতালে পাঠান।

লালমনিরহাট তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান। বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবির এই অধিনায়ক বলেন, গত সোমবার পাটগ্রামের ধবলসূতি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী তরুণ মিজান আহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিপক্ষ বিএসএফের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে তাদের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা আমাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে বাংলাদেশী গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ হয়। কিন্তু এরপর পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক আলী হোসেন নিহত হলেন। ঘটনাটি দুঃখজনক। তাঁকে গুলি না করে আটকের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ হলে ভালো হতো। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি পতাকা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আমরা সীমান্তে গুলি নয়, বিকল্প ব্যবস্থা চাই, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। পাশাপাশি উভয় দেশের নাগরিকদের সীমান্ত আইন মেনে চলতে আহ্বান জানাচ্ছি।

লালমনিরহাট ‎তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)’র অপর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ১১টা হতে ১১টা ১৫মিনিট পর্যন্ত তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) এর অধীনস্থ ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস এর নিকটবর্তী সাতগ্রাম নামক স্থানে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে স্পট মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম এবং বিএসএফ এর পক্ষে নেতৃত্বে দেন ১৫৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট শ্রী সৌরভ এবং সাথে ১জন স্টাফ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।