০৪:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফায়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মী মিলন অবশেষে শ্রীঘরে

বিদেশে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুয়া ভিসা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত আলোচিত প্রতারক মিলন হোসেনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে। দুপুরে তাকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার উত্তর চাঁদপুর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের হারুন অর রশিদের কাছ থেকে কিরগিজস্তানে পাঠানোর নাম করে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন একই এলাকার আনছার আলী ও তার ছেলে মিলন হোসেন।

কিন্তু তাকে দেওয়া হয় ভ্রমণ ভিসা। কিরগিজস্তানে পৌঁছানোর পর কোনো কাজের ব্যবস্থা না করে তাকে অবৈধ অবস্থায় সেখানে ফেলে রাখা হয়।

ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ জানান, সেখানে দীর্ঘ দিন মানবেতর জীবনযাপন করার পর শেষমেশ পরিবারের কাছ থেকে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে কোনোমতে দেশে ফিরে আসেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।

দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে মিলন ও তার বাবা তাকে হুমকি-ধামকি দিতে শুরু করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী চুয়াডাঙ্গা আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মিলনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই মিলন হোসেন পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে দৌলতদিয়াড়ে অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

স্থানীয়দের দাবি, মিলনের প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পায়নি তার আপন বোন ও নিকটাত্মীয়রাও। এক সময় ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করলেও তা ছেড়ে দিয়ে প্রতারণাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

এলাকাবাসী জানায়, সে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের বিদেশে পাঠানোর নাম করে সর্বস্বান্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এবং ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডজনখানেক প্রতারণা মামলা রয়েছে। সে বর্তমানে তিনটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি (মামলাগুলো ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালের)।

মামলার ১ নং আসামি ও মিলনের পিতা আনছার আলী ইতিপূর্বে আদালতে হাজির হয়ে সামাজিক ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামিন নিয়েছিলেন। কিন্তু জামিন পাওয়ার পর তারা ভুক্তভোগীদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি এবং মীমাংসার নামে দীর্ঘ সময় ধরে নাটক সাজিয়ে টালবাহানা করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃত মিলন হোসেন একজন পেশাদার প্রতারক এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। সে দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক ছিল। মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতারণার মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

প্রতারণার শিকার হারুন অর রশিদসহ এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ এই গ্রেফতারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

লালমনিরহাটে চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানে ভারতীয় মাদক এবং কসমেটিক্স জব্দ

বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফায়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মী মিলন অবশেষে শ্রীঘরে

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

বিদেশে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুয়া ভিসা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত আলোচিত প্রতারক মিলন হোসেনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে। দুপুরে তাকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার উত্তর চাঁদপুর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের হারুন অর রশিদের কাছ থেকে কিরগিজস্তানে পাঠানোর নাম করে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন একই এলাকার আনছার আলী ও তার ছেলে মিলন হোসেন।

কিন্তু তাকে দেওয়া হয় ভ্রমণ ভিসা। কিরগিজস্তানে পৌঁছানোর পর কোনো কাজের ব্যবস্থা না করে তাকে অবৈধ অবস্থায় সেখানে ফেলে রাখা হয়।

ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ জানান, সেখানে দীর্ঘ দিন মানবেতর জীবনযাপন করার পর শেষমেশ পরিবারের কাছ থেকে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে কোনোমতে দেশে ফিরে আসেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।

দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে মিলন ও তার বাবা তাকে হুমকি-ধামকি দিতে শুরু করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী চুয়াডাঙ্গা আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মিলনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই মিলন হোসেন পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে দৌলতদিয়াড়ে অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

স্থানীয়দের দাবি, মিলনের প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পায়নি তার আপন বোন ও নিকটাত্মীয়রাও। এক সময় ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করলেও তা ছেড়ে দিয়ে প্রতারণাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

এলাকাবাসী জানায়, সে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের বিদেশে পাঠানোর নাম করে সর্বস্বান্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এবং ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডজনখানেক প্রতারণা মামলা রয়েছে। সে বর্তমানে তিনটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি (মামলাগুলো ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালের)।

মামলার ১ নং আসামি ও মিলনের পিতা আনছার আলী ইতিপূর্বে আদালতে হাজির হয়ে সামাজিক ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামিন নিয়েছিলেন। কিন্তু জামিন পাওয়ার পর তারা ভুক্তভোগীদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি এবং মীমাংসার নামে দীর্ঘ সময় ধরে নাটক সাজিয়ে টালবাহানা করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃত মিলন হোসেন একজন পেশাদার প্রতারক এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। সে দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক ছিল। মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতারণার মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

প্রতারণার শিকার হারুন অর রশিদসহ এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ এই গ্রেফতারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।