লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র চলমান মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও শাড়ী জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির বিশেষ টহলদল পৃথক ৫টি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমান ভারতীয় গাঁজা, ইস্কাফ সিরাপ এবং শাড়ী জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ১টন ২০মিনিটে লোহাকুচি বিওপির আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার বালাটারী, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ২০টা ৪৫মিনিটে কাশিপুর বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার দক্ষিণ অনন্তপুর, একই দিন সন্ধ্যা ১৯টা ১০মিনিটে শিংঝাড় বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানার বগনীরপাড়, একই দিন সন্ধ্যা ২০টা ২০মিনিটে অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার ভেন্নিতলা এবং শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর ০০:৫০মিনিটে অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার ভেন্নিতলা নামক স্থানে ৫টি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানসমূহ চলাকালীন টহল দলের সদস্যরা কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় গাঁজা ৫.৫কেজি, ইস্কাফ সিরাপ ৩শত ৩৭টি বোতল এবং ভারতীয় স্বর্ণ শাড়ী ২৮পিছ জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় গাঁজা ৫.৫কেজি যার সিজার মূল্য ১৯হাজার ২শত ৫০টাকা এবং ইস্কাফ সিরাপ ৩শত ৩৭টি বোতল, যার সিজার মূল্য ১লক্ষ ৩৪হাজার ৮শত টাকা এবং শাড়ী ২৮পিছ, যার সিজার মূল্য ২লক্ষ ৮০হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৪লক্ষ ৩৪হাজার ৫০টাকা। এছাড়াও মাদক চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহ পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানে বিজিবির সাহসিকতা ও কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসার দাবিদার, যা চোরাচালান ও মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।