০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার: ধর্ষণের পর হত্যার সন্দেহ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার গোপালপুর গ্রামের একটি নির্জন মাঠ থেকে জোবেদা খাতুন (৪৫) নামে এক গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

নিহত জোবেদা খাতুন দামুড়হুদা উপজেলার দলিয়ারপুর গ্রামের মৃত তুফান হোসেনের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালেও তিনি গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটতে গ্রামের পাশের মাঠে যান। সাধারণত দুপুরের মধ্যেই তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন, কিন্তু এদিন বিকেল গড়িয়ে গেলেও তিনি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

বিকেলের দিকে স্থানীয় কৃষকরা গোপালপুর মাঠের একটি নিভৃত স্থানে হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে জোবেদা খাতুনকে শনাক্ত করেন।

দলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আকতার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:

“সকালে ঘাস কাটতে গিয়ে ওই নারী নিখোঁজ ছিলেন। স্থানীয়রা মাঠের ভেতর তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে আমাদের খবর দেয়। নিহতের শরীরে এলোপাতাড়ি কোপানোর চিহ্ন রয়েছে এবং তার মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।”

এদিকে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি এবং আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। বিস্তারিত তদন্তের পর আরও তথ্য জানানো যাবে।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, জোবেদা খাতুনকে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অথবা ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ক্ষোভ থেকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশের ধরণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী।

এই ঘটনার পর থেকে দলিয়ারপুর ও গোপালপুর গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গায় ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার: ধর্ষণের পর হত্যার সন্দেহ

চুয়াডাঙ্গায় ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার: ধর্ষণের পর হত্যার সন্দেহ

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার গোপালপুর গ্রামের একটি নির্জন মাঠ থেকে জোবেদা খাতুন (৪৫) নামে এক গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

নিহত জোবেদা খাতুন দামুড়হুদা উপজেলার দলিয়ারপুর গ্রামের মৃত তুফান হোসেনের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালেও তিনি গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটতে গ্রামের পাশের মাঠে যান। সাধারণত দুপুরের মধ্যেই তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন, কিন্তু এদিন বিকেল গড়িয়ে গেলেও তিনি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

বিকেলের দিকে স্থানীয় কৃষকরা গোপালপুর মাঠের একটি নিভৃত স্থানে হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে জোবেদা খাতুনকে শনাক্ত করেন।

দলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আকতার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:

“সকালে ঘাস কাটতে গিয়ে ওই নারী নিখোঁজ ছিলেন। স্থানীয়রা মাঠের ভেতর তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে আমাদের খবর দেয়। নিহতের শরীরে এলোপাতাড়ি কোপানোর চিহ্ন রয়েছে এবং তার মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।”

এদিকে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি এবং আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। বিস্তারিত তদন্তের পর আরও তথ্য জানানো যাবে।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, জোবেদা খাতুনকে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অথবা ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ক্ষোভ থেকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশের ধরণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী।

এই ঘটনার পর থেকে দলিয়ারপুর ও গোপালপুর গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।