০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ঝিনাইদহে যুবককে ফাঁসানোর অভিযোগ

পরিবারকে হুমকি ও হয়রানি, থানায় লিখিত অভিযোগ

ঝিনাইদহ শহরের বকুলতলা এলাকায় এক যুবককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, জোরপূর্বক বিয়ের চাপ সৃষ্টি এবং পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঝিনাইদহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মোছাঃ জেসমিন সুলতানা (৪৮) জানান, তার ছেলে মোঃ জামিউর রহমান প্রিতম (২৮)-এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মোছাঃ মনিকা খাতুন ওরফে খুশি (২৫)-এর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে মনিকা নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা দাবি করে প্রিতমকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রিতমের ছবির সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তৈরি করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে মনিকা খাতুন প্রিতমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার তদন্তে পিবিআই ঘটনাটি খতিয়ে দেখে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্তে দেখা যায়, অভিযোগে উল্লেখিত সময় প্রিতম ঝিনাইদহে না থেকে কর্মসূত্রে চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন। পরে আদালত মামলার নিষ্পত্তি ঘোষণা করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে জানায়, মামলার সময় মনিকা খাতুন তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় জেসমিন সুলতানার বাড়িতে এসে বিয়ের দাবিতে দীর্ঘ ২৭ দিন অবস্থান করেন। এ সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কথিত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে পরিবারটির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং জেল হাজতে পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক বাড়িতে কাজী এনে বিয়ের কাগজে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে মনিকা খাতুন আবারও ওই বাড়িতে এসে টাকা-পয়সা দাবি করেন এবং আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রিতমের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন মানুষের কাছে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও উঠেছে।

এ ঘটনায় জেসমিন সুলতানা ও তার পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ থানার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
এখন আলোচনায়

ঝিনাইদহে যুবককে ফাঁসানোর অভিযোগ

পরিবারকে হুমকি ও হয়রানি, থানায় লিখিত অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ঝিনাইদহ শহরের বকুলতলা এলাকায় এক যুবককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, জোরপূর্বক বিয়ের চাপ সৃষ্টি এবং পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঝিনাইদহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মোছাঃ জেসমিন সুলতানা (৪৮) জানান, তার ছেলে মোঃ জামিউর রহমান প্রিতম (২৮)-এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মোছাঃ মনিকা খাতুন ওরফে খুশি (২৫)-এর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে মনিকা নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা দাবি করে প্রিতমকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রিতমের ছবির সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তৈরি করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে মনিকা খাতুন প্রিতমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার তদন্তে পিবিআই ঘটনাটি খতিয়ে দেখে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্তে দেখা যায়, অভিযোগে উল্লেখিত সময় প্রিতম ঝিনাইদহে না থেকে কর্মসূত্রে চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন। পরে আদালত মামলার নিষ্পত্তি ঘোষণা করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে জানায়, মামলার সময় মনিকা খাতুন তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় জেসমিন সুলতানার বাড়িতে এসে বিয়ের দাবিতে দীর্ঘ ২৭ দিন অবস্থান করেন। এ সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কথিত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে পরিবারটির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং জেল হাজতে পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক বাড়িতে কাজী এনে বিয়ের কাগজে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে মনিকা খাতুন আবারও ওই বাড়িতে এসে টাকা-পয়সা দাবি করেন এবং আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রিতমের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন মানুষের কাছে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও উঠেছে।

এ ঘটনায় জেসমিন সুলতানা ও তার পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ থানার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।