০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে ইরি-বোরো ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

‎চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের এ সময়ে ধান পরিচর্যা করছেন লালমনিরহাট জেলার কৃষক ও শ্রমিকেরা। রোপা-আমন শেষে ইরি-বোরো চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নামেন তারা। বর্তমানে ধান গাছের পরিচর্যায় যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের।

‎কৃষি নির্ভর লালমনিরহাট জেলার ৫টি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও ২টি (লালমনিরহাট, পাটগ্রাম) পৌরসভার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষের ফসল উৎপাদন ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটে।

‎গত রোপা-আমন মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ায় অনেক কৃষকের পাকা ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তবে ধান ও খড় তেমন পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ধানের দাম ভালো।

‎এতে লোকসান কাটিয়ে কোনো রকমে উৎপাদন খরচ জুটছে কৃষকের কপালে। এমনটি বলছিলেন কোদালখাতা গ্রামের কৃষক কমল কান্তি বর্মন।

রোপা-আমন কর্তন শেষে ‎ইরি-বোরো চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নামেন কৃষক ও শ্রমিকেরা। বাড়ির আশ-পাশে বিস্তীর্ণ ‎ইরি-বোরো ফসলের মাঠ, সবুজে সমারোহ। কেউ ধান গাছের আগাছা পরিস্কার করছেন। আবার কেউ সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। সবুজ পাতায় বাতাসে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১নং মোগলহাট ইউনিয়নের কাকেয়াটেপা, ভাটিবাড়ী, কোদালখাতা ও ফুলগাছ এলাকায় ইরি-বোরো ধানের মাঠে সবুজের সমারোহ। ধানের প্রতিটি খেতে শিষ উঁকি দিচ্ছে। খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকের। কৃষকেরা মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান গাছের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠে সেচ, সার, কীটনাশক প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার এবং পার্চিং ব্যবহার করছেন কেউ কেউ।

‎স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা ও পরামর্শে চাষাবাদকৃত ইরি-বোরো ধান গতবারের চেয়ে এবার ভালো হয়েছে। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি ধান কাটা শুরু হবে। তখন পূরণ হবে কৃষকের স্বপ্ন।

‎ফুলগাছ গ্রামের কৃষক হযরত আলী ভাষায় এ লালমনিরহাট জেলায় ‎ইরি-বোরো এর বিভিন্ন জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করা হয়।

‎ধান গাছের চেহারায় তিনি মুগ্ধ। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ ও আগাছা পরিস্কারে ব্যস্ত রয়েছেন আর সব কৃষকের মতো তিনিও।

‎লালমনিরহাট সদর উপজেলার কোদালখাতা, ফুলগাছ এলাকার মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাক, কমল কান্তি বর্মণসহ বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, চলতি বছরে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষকেরা। কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে বিগত বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবে সবাই।

লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৮হাজার হেক্টর জমিতে ‎ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়।

‎উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ‎ইরি-বোরো লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে কৃষক গোলায় উঠাবেন সোনার ফসল এমন প্রত্যাশায় আশাবাদি তিনি।

Tag :
এখন আলোচনায়

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হলেন খামেনির ছেলে

লালমনিরহাটে ইরি-বোরো ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

আপডেট সময় : ১০:১১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

‎চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের এ সময়ে ধান পরিচর্যা করছেন লালমনিরহাট জেলার কৃষক ও শ্রমিকেরা। রোপা-আমন শেষে ইরি-বোরো চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নামেন তারা। বর্তমানে ধান গাছের পরিচর্যায় যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের।

‎কৃষি নির্ভর লালমনিরহাট জেলার ৫টি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও ২টি (লালমনিরহাট, পাটগ্রাম) পৌরসভার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষের ফসল উৎপাদন ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটে।

‎গত রোপা-আমন মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ায় অনেক কৃষকের পাকা ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তবে ধান ও খড় তেমন পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ধানের দাম ভালো।

‎এতে লোকসান কাটিয়ে কোনো রকমে উৎপাদন খরচ জুটছে কৃষকের কপালে। এমনটি বলছিলেন কোদালখাতা গ্রামের কৃষক কমল কান্তি বর্মন।

রোপা-আমন কর্তন শেষে ‎ইরি-বোরো চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নামেন কৃষক ও শ্রমিকেরা। বাড়ির আশ-পাশে বিস্তীর্ণ ‎ইরি-বোরো ফসলের মাঠ, সবুজে সমারোহ। কেউ ধান গাছের আগাছা পরিস্কার করছেন। আবার কেউ সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। সবুজ পাতায় বাতাসে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১নং মোগলহাট ইউনিয়নের কাকেয়াটেপা, ভাটিবাড়ী, কোদালখাতা ও ফুলগাছ এলাকায় ইরি-বোরো ধানের মাঠে সবুজের সমারোহ। ধানের প্রতিটি খেতে শিষ উঁকি দিচ্ছে। খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকের। কৃষকেরা মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান গাছের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠে সেচ, সার, কীটনাশক প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার এবং পার্চিং ব্যবহার করছেন কেউ কেউ।

‎স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা ও পরামর্শে চাষাবাদকৃত ইরি-বোরো ধান গতবারের চেয়ে এবার ভালো হয়েছে। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি ধান কাটা শুরু হবে। তখন পূরণ হবে কৃষকের স্বপ্ন।

‎ফুলগাছ গ্রামের কৃষক হযরত আলী ভাষায় এ লালমনিরহাট জেলায় ‎ইরি-বোরো এর বিভিন্ন জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করা হয়।

‎ধান গাছের চেহারায় তিনি মুগ্ধ। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ ও আগাছা পরিস্কারে ব্যস্ত রয়েছেন আর সব কৃষকের মতো তিনিও।

‎লালমনিরহাট সদর উপজেলার কোদালখাতা, ফুলগাছ এলাকার মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাক, কমল কান্তি বর্মণসহ বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, চলতি বছরে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষকেরা। কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে বিগত বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবে সবাই।

লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৮হাজার হেক্টর জমিতে ‎ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়।

‎উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ‎ইরি-বোরো লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে কৃষক গোলায় উঠাবেন সোনার ফসল এমন প্রত্যাশায় আশাবাদি তিনি।