০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় বিক্রি; হারাচ্ছে মাটির উর্বরতা!

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাট সদর উপজেলার ২নং কুলাঘাট ইউনিয়নের পূর্ব বড়ুয়া গ্রামের তিন ফসলি জমির উপরিভাগ (টপ সয়েল) কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। ওই জমির মাটি কেটে ট্রাকে তুলে আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে চলছে এই ধ্বংসযজ্ঞ। কতিপয় ব্যক্তি এ কাজ করছেন। সচেতন কৃষকেরা বাঁধা দিয়েও মাটি বিক্রি থামাতে পারছেন না। এজন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

জানা যায়, পূর্ব বড়ুয়া গ্রামের মাটি খেকো ফুল বাদশার নেতৃত্বে মাটি বিক্রি করেছেন। ওই মাটি এখন কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। গত কয়েকদিনে ওই গ্রামের প্রায় ৫০শতাংশ জমির টপ সয়েল কাটা হয়েছে। তিন থেকে চার ফুট গভীর করে মাটি তুলে নেওয়া হয়েছে। আর ওই মাটি ট্রাকে পরিবহনের জন্য অন্য কৃষি জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ওই জমির মালিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া মাটি পরিবহনের ফলে পূর্ব বড়ুয়ার গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কটির বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা কিছুদিন আগে সংস্কার করা হয়েছিল।

কৃষকেরা অভিযোগ করেন, তারা কৃষি জমির মাটি কাটতে বাঁধা দিয়েছিলেন। কিন্তু ফুল বাদশার নেতৃত্বে রশিদুল গং জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বর্ষাকালে তাদের জমি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া কৃষি জমির টপ সয়েল বিক্রির ফলে জমির উর্বরতা শক্তিও কমে যায়।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে দু’বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এভাবে মাটি কাটায় একদিকে যেমন কৃষি জমি কমছে, অপরদিকে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। আগামীতে ওই সব জমিতে ফলন কম উৎপাদন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকার কৃষকেরা আরও বলেন, আমাদের জমির চারপাশে কয়েকদিন ধরেই মাটি বিক্রির হিড়িক পড়েছে। মাটি কেটে ট্রাক দিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে আমাদের জমির পাশের জমি চার ফুট নিচু হয়েছে। মনে হচ্ছে বর্ষাকালে আমার জমি ভেঙে যাবে। আমরা কৃষকেরা দলবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু তারা জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে মাটি নেওয়ায় আমাদের গ্রামের পাকা রাস্তাও নষ্ট হয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে আমরা এর প্রতিকার চাই।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস বলেন, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শিগগিরই সেখানে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
এখন আলোচনায়

চুয়াডাঙ্গায় সমমনা দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

লালমনিরহাটে টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় বিক্রি; হারাচ্ছে মাটির উর্বরতা!

আপডেট সময় : ১০:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাট সদর উপজেলার ২নং কুলাঘাট ইউনিয়নের পূর্ব বড়ুয়া গ্রামের তিন ফসলি জমির উপরিভাগ (টপ সয়েল) কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। ওই জমির মাটি কেটে ট্রাকে তুলে আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে চলছে এই ধ্বংসযজ্ঞ। কতিপয় ব্যক্তি এ কাজ করছেন। সচেতন কৃষকেরা বাঁধা দিয়েও মাটি বিক্রি থামাতে পারছেন না। এজন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

জানা যায়, পূর্ব বড়ুয়া গ্রামের মাটি খেকো ফুল বাদশার নেতৃত্বে মাটি বিক্রি করেছেন। ওই মাটি এখন কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। গত কয়েকদিনে ওই গ্রামের প্রায় ৫০শতাংশ জমির টপ সয়েল কাটা হয়েছে। তিন থেকে চার ফুট গভীর করে মাটি তুলে নেওয়া হয়েছে। আর ওই মাটি ট্রাকে পরিবহনের জন্য অন্য কৃষি জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ওই জমির মালিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া মাটি পরিবহনের ফলে পূর্ব বড়ুয়ার গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কটির বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা কিছুদিন আগে সংস্কার করা হয়েছিল।

কৃষকেরা অভিযোগ করেন, তারা কৃষি জমির মাটি কাটতে বাঁধা দিয়েছিলেন। কিন্তু ফুল বাদশার নেতৃত্বে রশিদুল গং জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বর্ষাকালে তাদের জমি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া কৃষি জমির টপ সয়েল বিক্রির ফলে জমির উর্বরতা শক্তিও কমে যায়।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে দু’বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এভাবে মাটি কাটায় একদিকে যেমন কৃষি জমি কমছে, অপরদিকে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। আগামীতে ওই সব জমিতে ফলন কম উৎপাদন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকার কৃষকেরা আরও বলেন, আমাদের জমির চারপাশে কয়েকদিন ধরেই মাটি বিক্রির হিড়িক পড়েছে। মাটি কেটে ট্রাক দিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে আমাদের জমির পাশের জমি চার ফুট নিচু হয়েছে। মনে হচ্ছে বর্ষাকালে আমার জমি ভেঙে যাবে। আমরা কৃষকেরা দলবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু তারা জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে মাটি নেওয়ায় আমাদের গ্রামের পাকা রাস্তাও নষ্ট হয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে আমরা এর প্রতিকার চাই।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস বলেন, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শিগগিরই সেখানে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।